নীড়পাতা » প্রথম পাতা » আওয়ামী লীগে চাপ কম বিএনপিতে দর কষাকষি

আসন ছাড় : আওয়ামী লীগ ৬৫, বিএনপি…

আওয়ামী লীগে চাপ কম বিএনপিতে দর কষাকষি

শিবুকান্তি দাশ, ঢাকা অফিস

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট শরিকদের আসন ছাড়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উপর শরিকদের তেমন চাপ নেই বললেই চলে। কিন্তু ঐক্যজোট এবং বিশ দলীয় জোটের শরিকরা আসন ভাগাভাগিতে বিএনপির নেতৃবৃন্দের সাথে বেশ দর কষাকষি শুর করে দিয়েছে। তবে বিএনপি নেতৃত্ব শরিকদের আশ্বস্ত করছে এই বলে, যে দলের যেখানে জিতে আসার সম্ভাবনা থাকবে তাদেরকে সেখানে ছাড় দেয়া হবে। এদিকে আগামীকাল রবিবার থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু করার কথা জানিয়েছেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। দলের গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে সাক্ষাৎকার গ্রহণ। দলীয় প্রার্থিতা চূড়ান্ত করার পর জোট শরিকদের সাথে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি ফয়সালা করবে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল শুক্রবার সকালে আাওয়ামী লীগের ধানমন্ডির কার্যালয়ে দলীয় পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভা শেষে সাংবাদিকদের বলেছেন, দু’তিন দিনের মধ্যে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করে চলতি সপ্তাহে জোটের শরিকদের মধ্যে আসন বন্টন করা হবে। সেখানে শরিকদের জন্য সর্বোচ্চ ৬০ থেকে ৬৫ আসনে ছাড় দিতে পারে আওয়ামী লীগ। জোটের শরিক দলগুলো ও তাদের প্রার্থীদের অবস্থা বিবেচনা করেই আসন ভাগাভাগি করবে দলটি।
আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, আগামী নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে অনেক হিসাব-নিকাশ মিলিয়ে প্রার্থী মনোনয়ন দেবে আওয়ামী লীগ। দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি জোটের প্রার্থীর ক্ষেত্রেও এ হিসাব মেলানো হবে। নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে অনেক আগে থেকেই দফায় দফায় জরিপ চালানো হয়েছে। জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনেই জরিপ চালিয়ে দলীয় এমপি এবং প্রার্থীর পাশাপাশি জোটের শরিক দলগুলোর এমপি ও প্রার্থীদের অবস্থা সম্পর্কেও রিপোর্ট তৈরি করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জরিপ রিপোর্টের ভিত্তিতেই দলের প্রার্থী চূড়ান্ত এবং শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করা হবে।
আওয়ামী লীগের ওই নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগামী নির্বাচনে জোটের জন্য সর্বোচ্চ ৬০টি আসন তারা ছাড়তে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে জাতীয় পার্টিকে ৪০ থেকে ৪৫টি এবং ১৪ দল, বিকল্পধারাসহ অন্যান্য দুই-একটি দল মিলিয়ে ১৫টি আসন ছাড় দিতে পারে। অথবা জাতীয় পার্টির ৪২/৪৩ এবং ১৪ দলসহ অন্যান্যদের ১৭/১৮টি হতে পারে। তবে সব মিলিয়ে ৬০টির বেশি আসন ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেও তারা জানান। যদিও দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ৬৫টি আসন ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে ৬০টির কথাই ভাবা হচ্ছে বলে সূত্র জানায়।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর এক সদস্য এবং দলের মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য পূর্বকোণকে বলেন, জাতীয় পার্টির বর্তমানে সংসদে ৩২টি আসন আছে। বেশি হলে সর্বোচ্চ আরও ১০টি দিয়ে মোট ৪২টি তাদের ছাড় দেওয়া হতে পারে।
জাতীয় পার্টির একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে জাতীয় পার্টি ৭০টি আসন দাবি করেছে। তারা এ দাবি থেকে আরও সরে আসবে। জাতীয় পার্টির দাবি ৫০টির নিচে নেমে আসতে পারে। কারণ জাতীয় পার্টি এবার বিরোধী দলে যেতে চায় না। ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন এবং ঐক্যবদ্ধভাবে সরকার গঠনের দাবি তারা জানিয়েছে তারা।
বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে আসায় নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। এ কারণে আসন ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ অনেক হিসাব-নিকাশ করবে। শুধু আসন চাইলেই হবে না নিশ্চিত জিতে আসতে পারবে এরকম প্রার্থী যে সব আসনে আছে সেগুলো ছেড়ে দেওয়া হবে বলে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন। জাতীয় পার্টিও বিজয় নিশ্চিত করে ক্ষমতার অংশীদার হতে চায়। তাই আসন ভাগাভাগি নিয়ে জাতীয় পার্টি খুব বেশি দর কষাকষি করতে যাবে না বলে সূত্র জানায়।
জাতীয় পার্টি ছাড়াও ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পাটির ৬টি এবং জাসদের ৫টি, তরিকত ফেডারেশনের ২টি, জাতীয় পার্টি (জেপি) ১টি আসনে নির্বাচিত এমপি রয়েছে সংসদে। জাসদ ভেঙে যাওয়ার পর দলটির এক অংশে ৩ জন এবং আরেক অংশে ২ জন রয়েছে। এ দলগুলোর বর্তমানে যে আসন রয়েছে তার চেয়ে বেশি ছাড়ার সম্ভাবনা কম।এদিকে বি চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টও আওয়ামী লীগের সাথে জোটবদ্ধ নির্বাচন করতে ঐক্যমত হয়েছে। এ ফ্রন্টকে সবোর্চ্চ ৩-৪টি আসনে ছাড় দিতে পারে বলে আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে।
বিএনপি
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরীক বিএনপি গতকাল শুক্রবার শেষ করেছে দলীয় মনোনয়ন বিক্রি। গত চার দিনে ৪,১১২টি ফরম বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে। এখান থেকে ৩শ আসনের জন্য তিনশ নেতাকে বাছাই করা হবে। আগামীকাল রবিবার থেকে শুরু হবে এ বাছাই পর্ব। দলীয় প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করার পর হাত দেয়া হবে জোট শরিকদের আসন বন্টনে। দলের একাধিক নীতি নির্ধারণী নেতা জানিয়েছেন, বিএনপি জোট শরিকদের জন্য সর্বোচ্চ ১০০টি আসনে ছাড় দিতে পারে। কিন্তু ঐক্যফ্রন্টের তিন শরিক দল ছাড়াও বিশ দলীয় জোটের শরিকরা ইতিমধ্যে দেড়শ’ আসনের তালিকা জোটের সমম্বয়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেছে।
ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম প্রধান শরিক ড. কামাল হোসেনের দল গণফোরাম দলীয়ভাবে ২৫ জনের একটি তালিকা করেছে এবং দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ২৫ জনের তালিকাসহ ৫০ জনের একটি তালিকা বিএনপিকে হস্তান্তর করেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া আ স ম রবের জেএসডি ৩০ ও মাহমুদুর রহমানের নাগরিক ঐক্য ২৬ জনের তালিকা জমা দিয়েছে বিএনপির কাছে।
এ বিষয়ে বিএনপির নীতি নির্ধারণী একজন নেতা জানিয়েছেন, বিশ দলীয় জোটের শরিকরা সব মিলিয়ে ৫০টির মতো আসন পেতে পারে। ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের বিষয়েও নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
জানা গেছে নিবন্ধন হারালেও বিএনপির কাছে ৫০টি আসন চেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তবে দলটি সর্বোচ্চ ৩০টির মতো আসন পেতে পারে বলে জানা গেছে। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘আমরা ৩০টি আসন চেয়ে তালিকা দিয়েছি।’
এদিকে মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহীমের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি জোটের কাছে ১২টি আসন চেয়েছে। পার্টির মহাসচিব এমএম আমিনুর রহমান বলেন, আমরা সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছি।
২০ দলের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার জানান, তারা জোটের কাছে ২১টি আসন চেয়েছেন। ইসলামভিত্তিক দল জমিয়তে উলামা (একাংশ) মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরামও জোটের কাছে ৫টি আসন চেয়েছেন।
এদিকে জোটের কাছে একটি আসন চেয়েছে ডেমোক্রেটিক লীগ। দলের মহাসচিব সাইফুদ্দিন মনি বলেন, আমি ময়মনসিংহ-৮ আসনে নির্বাচন করতে চাই। নির্বাচনে জোটের কাছে ছয়টি আসন চেয়েছে প্রয়াত শফিউল আলম প্রধানের দল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)।
ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) মহাসচিব আব্দুল মতিন সাউদ বলেন, তাদের দল জোটের কাছে ২টি আসন দাবি করেছে। এরমধ্যে একটি ভোলা-১ ও অন্যটি ঢাকা-৫। এছাড়া ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) ৫টি, সাম্যবাদী দল ৫টি, ইসলামিক পার্টি ২টি, ন্যাপ (ভাসানী) ৫টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (মুফতি ওয়াক্কাস) ৬টি, পিপলস লীগ (অ্যাডভোকেট গরীব নেওয়াজ) ৪টি।

Share