মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, বায়েজিদ আংশিক) আসনে নৌকা প্রতীকের জন্য লড়ছেন চার ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী। এই আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য বর্তমান সাংসদ জাসদের মইনউদ্দীন খান বাদল, আওয়ামী লীগের মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন ও সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম ইতিমধ্যেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীর তালিকা আরও বাড়বে বলে দলীয় সূত্রে প্রকাশ। কারণ চট্টগ্রাম-৮ সংসদীয় আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ২৬ জন।
১৯৭৩ সালে এই আসন থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের (প্রয়াত) কফিল উদ্দিন খান। এরপর থেকে আওয়ামী লীগ দলীয় কোনো প্রার্থী জয়লাভ করতে পারেননি। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে ‘নৌকা’ প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করেছিলেন জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি মইনউদ্দীন খান বাদল। সর্বশেষ গত দশম সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন তিনি।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেছেন বাদল, নূরুল ইসলাম, মোছলেম উদ্দিন ও ছালাম-এই চার হেভিওয়েট প্রার্থী। চার প্রার্থীই এবার নৌকা প্রতীক পাওয়ার আশা ব্যক্ত করেছেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম চট্টগ্রাম-৯ ও ১০ দুটি আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। বাদল, মোছলেম উদ্দিন ও বিএসসিপুত্র মুজিবুর রহমানও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
নূরুল ইসলাম বিএসসি বোয়ালখালী আসন থেকে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ’৯১ সালে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন বিএনপির সিরাজুল ইসলাম ও ‘৯৬ সালে বিএনপির প্রার্থী মোরশেদ খান। দুইবারই বিএনপি প্রার্থী জিতেছিলেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি গতকাল পূর্বকোণকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসন থেকে নির্বাচন করার ইচ্ছে রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য বলবেন, সেই আসনে নির্বাচন করব।’
সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামও দুটি আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। আবদুচ ছালাম পূর্বকোণকে বলেন, নৌকার প্রার্থী জনগণের ও কর্মীদের প্রত্যাশা। কারণ ‘৭৩ এর পর থেকে দলীয় প্রার্থী (এমপি) না থাকায় দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্মীরা হতাশ হয়েছে। চোখে পড়ার মতো কাক্সিক্ষত উন্নয়ন সাধিত হয়নি।’ দলীয় প্রার্থীর মনোনয়নের দাবি করে তিনি বলেন, ‘দলীয় প্রার্থীকে নমিনেশন দিলে দল শক্তিশালী হবে, কর্মীরা উজ্জীবিত হবে। এবং বিজয় নিশ্চিত হবে।
দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দীন আহমদ ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে পাশের উপজেলা পটিয়া সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচনে লড়েছিলেন। দুইবারই প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী গাজী মোহাম্মদ শাহজাহান জুয়েলের কাছে পরাজিত হন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে নিজ এলাকায় নির্বাচন করার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তিনি।
মোছলেম উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতি করে আসছি। সরকারি কোনো সুবিধা নিইনি। আশা করছি, নেত্রী এবার আমাকে মূল্যায়ন করবেন, মনোনয়ন দেবেন।’
আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচন হবে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন। আমাদের বিশাল কর্মীবাহিনী রয়েছে। আমাদের জন্য কর্মীরা আন্তরিকভাবে কাজ করবেন, এজন্য দল আমাকে মনোনয়ন দিবেন বলে আশাবাদী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, জোটগত নির্বাচন হলেও জনসমর্থন ও নির্বাচনে প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করে জিতে আসতে পারবেন-এমন প্রার্থীকেই দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এখানে দলীয় প্রার্থী ছাড়া অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে জেলার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসনটি ১৪ দলীয় জোটের শরীক দল জাসদকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইনউদ্দীন খান বাদল নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ওই নির্বাচনে দীর্ঘদিনের বিভেদ ভুলে নৌকা প্রতীকের বিজয়ের লক্ষ্যে একাট্টা হয়ে আঁটঘাট বেঁধে নির্বাচনী মাঠে নেমেছিলেন আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতা মোছলেম উদ্দিন আহমদ ও এসএম আবুল কালাম। ঐক্যের ফলে ৩৫ বছর পর নৌকা প্রতীকধারী প্রার্থী জয়লাভ করেন চট্টগ্রাম-৮ আসনে। তবে সেই সহাবস্থান বেশিদিন টেকেনি। নির্বাচনের পর পুরোনো রূপে ফিরে যায় আ. লীগ। কোন্দল নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। সেই দ্বন্দ্ব এখনো জিইয়ে রয়েছে।
মইনউদ্দীন খান বাদল আগামী নির্বাচনে ১৪ দলীয় প্রার্থী। তবে জাসদ ভেঙে দুই ভাগ হয়েছে। বাদলের নেতৃত্বাধীন অংশ বাংলাদেশ জাসদ নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায়নি। এবার নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ার জন্য আশাবাদী তিনি।
সাংসদ মইনউদ্দীন খান বাদল বলেন, ‘আমি এখনো ১৪ দলের এমপি। জোটের প্রতীক হচ্ছে নৌকা। জোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা নিয়ে নির্বাচন করব। নৌকা প্রতীক না পেলে আমি নির্বাচন করবো না।’ এই বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের উদ্ধৃতি টেনে এমপি বাদল বলেন ‘জোটগতভাবে নির্বাচন করব। ১৪ দলের যারা এমপি আছেন, তারা নৌকা নিয়ে নির্বাচন করবেন।’ এই ঘোষণার পর পরিষ্কার যে আমি নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করব।

Share
  • 159
    Shares