মোহাম্মদ আলী

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো চট্টগ্রামে কয়টি আসন পাবে তা জানা যাবে কালকের মধ্যে। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইতোমধ্যে শরিক দলগুলো বিএনপির কাছে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ৫টি আসন দাবি করেছে। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ৩টি, এলডিপি ও বাংলাদেশ কল্যাণপার্টি একটি করে আসন চেয়েছে।
চট্টগ্রামে শরিক দলগুলোর দাবিকৃত আসন ও প্রার্থীরা হলেন : চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও বায়েজিদ) আসনে বাংলাদেশ কল্যাণপার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বীর প্রতীক, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে সাবেক এমপি মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলি, ডবলমুরিং, খুলশী, হালিশহর ও পাঁচলাইশ আংশিক) আসনে সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে বাঁশখালী উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম।
জোটের একটি সূত্র জানায়, ২০ দলীয় জোট নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জোটের শরিক দলগুলোর আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দলের নীতি নির্ধারকরা এ নিয়ে শরিক দলগুলোর নেতাদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ কল্যাণপার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বীর প্রতীক দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘বিএনপির সাথে জোটের শরিক দলগুলোর আসন নিয়ে আলোচনা চলছে। আশা করি আগামী দুইদিনের মধ্যে এ নিয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।’
জোটের অপর শরিক জামায়াতে ইসলামীর দক্ষিণ জেলা আমীর জাফর সাদেক দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের প্রধান শরিক বিএনপির কাছে চট্টগ্রামের ৩টি আসন চেয়েছে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় পার্লামেন্টারি বোর্ড। আসন তিনটি হচ্ছে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া), চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলি, ডবলমুরিং, খুলশী, হালিশহর ও পাঁচলাইশ আংশিক) ও চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী)। আসনগুলোতে আমাদের প্রার্থীও চূড়ান্ত করা হয়েছে। রবিবার এ তিন আসনের প্রার্থীর জন্য মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘দাবি অনুযায়ী আমরা চট্টগ্রামে কয়টি আসন পাব তা দুই দিনের মধ্যে জানতে পারবো। তাছাড়া একই সময়ে জামায়াত ‘স্বতন্ত্র’ কিংবা বিএনপির প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবে তাও জানা যাবে।’
প্রসঙ্গত, জামায়াতের দাবিকৃত ৩টি আসনের মধ্যে ২টিতে ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। অপরটিতে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছিলেন জামায়াতের প্রার্থী। অপরদিকে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনটি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম-এর নিজের আসন। এ আসনে তিনি এর আগে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে তাঁর সম্পূর্ণ বিপরীত বাংলাদেশ কল্যাণপার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বীর প্রতীক। এবার মনোনয়ন পেলে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও বায়েজিদ) আসনে হবে তাঁর প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। যদিও এ আসনে বিএনপির কয়েকজন শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছেন।

Share
  • 9
    Shares