নাজিম মুহাম্মদ

নাশকতা ঠেকাতে মাঠে নেমেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ এবং আগের দিন সরকার ও ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে আলোচনায় প্রত্যাশিত ফল না আসা এসব বিষয়কে সামনে রেখে টহলে নেমেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা ভারি অস্ত্র নিয়ে দল বেঁধে মহড়া চালান। রাস্তায় নামানো হয় সাজোয়া যান। পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় ব্লক রেইডও দিয়েছেন। এ অবস্থায় গতকাল বিকেলে বিএনপির নগর কার্যালয়সহ আশেপাশে তাদের কোনও নেতাকর্মীকে দেখা যায়নি। বেশিরভাগ নেতা মোবাইল ফোন বন্ধ করে রেখেছেন। তৃতীয় ও চতুর্থ সারির একাধিক নেতাকে ফোনে পাওয়া গেলেও তারা বলেছেন, নগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা নিজেদের অবস্থান জানাচ্ছেন না।
গতকাল নগরীর ব্যস্ততম এলাকা কাজীর দেউড়ি, আউটার স্টেডিয়াম, টাইগারপাস, বহদ্দারহাট, নিউমার্কেট মোড়, বন্দর এলাকা ও হালিশহরে পুলিশের গাড়ি দল বেঁধে টহল দেয়। ২০১৪ সালের পর এ ধরণের মহড়া আর দেখা যায়নি। র‌্যাব সদস্যদেরও নগরীর বিভিন্ন মোড় ও স্থাপনার সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অপারেশন) আমেনা বেগম বলেন, আজ তো কেবল শুরু হলো। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসবে, এই কার্যক্রম বাড়তে থাকবে। ২০১৪ সালের জানুয়ারির পরিস্থিতি আর কিছুতেই সৃষ্টি হতে দেওয়া হবে না।
পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগামী নির্বাচনের পরও অভিযানের জন্য পুলিশ ধারাবাহিক পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে। নির্বাচনের আগে জ্বালাও-পোড়াও আর ভাংচুর রুখতে এ ধরণের কাজের পাশাপাশি গ্রেপ্তারও অব্যাহত থাকবে। ফলে পুলিশের অতিরিক্ত শক্তি প্রদর্শন নির্বাচনের আগে বিএনপি ও জামায়াতের মাঠে নাশকতামূলক কাজে নামার চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়ারই একটি চেষ্টা হিসেবে তাঁরা উল্লেখ করেন। তবে পুরো কাজেই পুলিশ বলছে, নাশকতা ঠেকাতে তারা মাঠে নেমেছে।
পুলিশ কর্মকর্তা আমেনা বেগম বলেন, বিশ্বের কাছে আমরা আর পেট্রোল বোমার দেশ হিসেবে চিহ্নিত হতে চাই না। ২০১৪ সালে বাবার সামনে পেট্রোল বোমার আগুনে পুড়ে মারা গিয়েছিল ছেলে। এই দৃশ্য আর ফিরে আসতে দেওয়া হবে না। আমরা বিশ্বাস করি, যারা পেট্রোল বোমা মারে, তারাও এই দৃশ্য পছন্দ করে না। তাই এ ধরণের কোনও পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হলে তাদের সঙ্গে সঙ্গে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।
এটা কি কেবলই নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশের শোডাউন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব। সেদিক থেকে চিন্তা করলে এটি একটি বার্তা। তবে নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত আমাদের একগুচ্ছ নিরাপত্তা পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচনের পরও তা প্রয়োজন হলে অব্যাহত থাকবে।
এদিকে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝেও এক ধরনের গ্রেপ্তার আতঙ্ক কাজ করছে। তাঁরা বলছেন, এখন যারা গ্রেপ্তার হবেন, তারা নির্বাচনের আগে আর বের হতে পারবেন না। ফলে নির্বাচনে তার নেতিবাচক ফল পাবে বিএনপি। আগের দিন ঢাকায় নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর অন্য নেতারাও গ্রেপ্তার আতঙ্কে আছেন বলে জানিয়েছেন একাধিক নেতা। তারা বলেন, চট্টগ্রামে ঐক্যফ্রন্ট সমাবেশ করার পর থেকে সব শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা শুরু হয়েছে। নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান নতুন করে ১১টি মামলার আসামি হয়েছেন। ডা. শাহাদাতসহ অনেক নেতা এসব মামলার আসামি। ফলে জামিন না নিয়ে তাঁরা এখন মাঠে নামতে পারছেন না।
এ পরিস্থিতিতে বিএনপির আন্দোলন কিংবা নির্বাচনের কৌশল কী হবে জানতে চাইলে অজ্ঞাত স্থান থেকে আবু সুফিয়ান বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। কিন্তু সরকার চায় না শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মানুষ ভোট দিক। তাই তারা বিএনপির নেতাদের একের পর এক মামলা দিয়ে কাবু করার চেষ্টা করছে। কিন্তু জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে আনবে।

Share
  • 65
    Shares