নীড়পাতা » সম্পাদকীয় » বিশুদ্ধ পানি পানেই সুস্থ জীবন

বিশুদ্ধ পানি পানেই সুস্থ জীবন

পানির অপর নাম জীবন। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করলে বিভিন্ন রোগব্যাধি থেকে মানুষ মুক্ত থাকতে পারেন। পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি থেকে মানুষের শরীর যেমন পায় প্রয়োজনীয় শক্তি, তেমনি ছাঁকন প্রক্রিয়ায় শরীর থেকে মূত্র হয়ে বেরিয়ে যায় নানা ক্ষতিকর পদার্থ। এতে শরীর থাকে সুস্থ, অটুট থাকে শারীরিক সৌন্দর্য। শরীর থাকে সুগঠিত। যারা প্রতিদিন প্রয়োজনীয় বিশুদ্ধ পানি শরীরে গ্রহণ করে তারা সহজে বার্ধক্য-আক্রান্ত হন না। যার কারণে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পানের ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে সারাবিশ্বে। তবে বাংলাদেশে এ ব্যাপারে এখনো জোরালো তৎপরতা দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না।
চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, একজন সুস্থ মানুষের জন্যে দৈনিক কমপক্ষে ৩ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা দরকার। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এ ব্যাপারে গুটিকয় ছাড়া তেমন কেউ কর্ণপাত করে না। আবার বাজারে বিশুদ্ধ পানির নামে জারে বা বোতলে যে পানি পাওয়া যাচ্ছে তার বেশির ভাগই স্বাস্থ্যহানিকর। পকেটের পয়সায় এ ধরনের পানি কিনে পান করার পরিণামে নানা রোগব্যাধিতে ভোগছে অসংখ্য মানুষ। তবে এ ব্যাপারে সরকারের নজরদারী সংস্থাকে তৎপর করা গেলে, একইসঙ্গে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা হলে, সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পানে আগ্রহী করে তোলা সম্ভব হবে। আর রোগমুক্ত জীবনের প্রয়োজনে প্রতিদিন পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পানের ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা গেলে একটি সুস্থ্য জাতি গড়ার স্বপ্ন কিছুটা হলেও পূরণ হবে।
নানা গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, অপর্যাপ্ত পানি পানের কারণে অসংখ্য রোগ হানা দেয় মানবশরীরে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে কিডনি রোগ। দীর্ঘদিন ধরেই একটি স্লোগান প্রচারিত হচ্ছে, ‘দৈনিক তিন লিটার পানি পান করুন, কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি এড়ান।’ কিছুটা হলেও এর সুফল মিলছে। স্লোগানটি আমলে নিয়ে অনেকেই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করছে। এড়াচ্ছে কিডনি ঝুঁকি। শরীরকে রাখছে সুস্থ্য ও সুঠাম। কিন্তু বিপরীতে দেখা যাচ্ছে অসংখ্য মানুষ ব্যাপারটি আমলেই নিচ্ছে না অভ্যাসগত কারণে কিংবা অজ্ঞতাজনিত কারণে। ফলে একটি সময়ে গিয়ে তাদেরকে কিডনি ঝুঁকিসহ নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। প্রসঙ্গত, প্রতিদিন দেহের প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি পান না করা বা অন্য কোনো অবহেলার কারণে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ কিডনিপাথর রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। একই কারণে বাড়ছে কিডনিজনিত রোগীর সংখ্যাও। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেহের প্রয়োজনীয় পানি পান না করার বিপদ সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে প্রতি বছর পাথর হওয়াসহ কিডনির বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ৩০ থেকে ৬০ বছর বয়সী ১০ থেকে ২০ শতাংশ পুরুষ এবং ৩ থেকে ৫ শতাংশ নারী কিডনির পাথরে আক্রান্ত হন। এ বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, খাবার ও প্রয়োজনীয় পানি পানের বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া।
পানি যেহেতু জীবন রক্ষার অপরিহার্য উপাদান সেহেতু বিশুদ্ধ পানির পর্যাপ্ত প্রাপ্তি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অপরিহার্য কর্তব্য হওয়া উচিত। রাষ্ট্র নানাভাবে নাগরিক সাধারণের জন্যে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে পারে। এ বিষয়ে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ হলে শতভাগ না হলেও একটা যৌক্তিক নাগরিকচাহিদা পূরণ করা সম্ভব। বিশুদ্ধ পানি গ্রহণে, একই সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পানে নাগরিকসচেতনতা বৃদ্ধিতেও নিতে হবে বলিষ্ঠ কর্মসূচি। সাধারণ মানুষ যদি প্রতিদিন পরিমিত বিশুদ্ধ পানি পান করে তাহলে নানা রোগ-ব্যাধি থেকে রেহাই পাবেন। এতে সহজেই স্বাস্থ্যবান জাতি গড়ার স্বপ্ন পূরণ হবে।

Share