অপ রূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বেষ্টিত লীলাভূমি আমাদের এই বাংলাদেশ। এ দেশের প্রকৃতির সাথে মিশে রয়েছে বাঙালীর হাজার বছরের ইতিহাস। ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। যে প্রকৃতি এদেশকে এতো রূপময় করেছে তার অবিচ্ছেদ্য অংশ এদেশের বনভূমি এবং বনজ পরিবেশ ব্যবস্থা। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে বৃক্ষ নিধন, নগরায়ন শিল্প ও কল কারখানা স্থাপন এবং পরিবেশ দূষণ ইত্যাদির কারণে আমাদের প্রকৃতি ও বন আজ হুমকির সম্মুখীন। অথচ, এ বনজ সম্পদ থেকে আমরা অন্ন বস্ত্রের অনেক উপকরণসহ জ¦ালানী ও আসবাবপত্রের কাঠ, রাবার, কাগজ, মূল্যবান ঔষধ ও ক্ষুদ্র কুটিরশিল্পের কাঁচামাল ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ সেবাসমূহে পেয়ে থাকি।
তবে, বাংলাদেশ সরকার স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছে। পরিবেশের গুরুত্ব উপলব্ধি করে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু ডধঃবৎ চড়ষষঁঃরড়হ ঈড়হঃৎড়ষ ঙৎফরহধহপব জারি করেন। এই সালেই পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশে পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের সূচনা করে বঙ্গবন্ধু সরকার। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনার জন্য একই বছরে জারি করা হয়। ইধহমষধফবংয ডরষফ খরভব চৎবংবৎাধঃরড়হ ঙৎফবৎ.
১৯৮৫ সালে ৭০ জনবল বিশিষ্ট পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর গঠন করা হয়। ১৯৮৯ সালে অধিদপ্তরের নতুন নামকরণ করা হয় পরিবেশ অধিদপ্তর। এই পরিবেশ অধিদপ্তরের জনবল বৃদ্ধি করে ৭৩৫ এ উন্নীত হয়েছে এবং ২১টি জেলা অফিস চালু হয়েছে।
কিন্তু মানুষ যখনই প্রাকৃতিক পরিবেশের উপর হস্তক্ষেপ করেছে অথবা বাঁধার সৃষ্টি করেছে তখন প্রকৃতি তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য হারিয়েছে। প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে মানুষ যখন নদীবক্ষে বাঁধ দেয়, সাগরবক্ষে বিষাক্ত বর্জ্য ফেলে, পাহাড় কেটে মাটি নেয়, গাছপালা ধ্বংস করে, বনের হরিণ শিকার করে, বাঘ, সিংহ, হাতীর মতো বণ্যপ্রাণী হত্যা করে,
হাওড়-বাওড়ের পাখি নিধন করে, মাছ নিধন করে প্রকৃতিকে আঘাত করে তখন প্রকৃতি ও নিষ্ঠুরভাবে মানুষের এই আচরণের জবাব দেয়। ফলে সৃষ্টি হয় তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বায়ু দূষণ, পানি দূষণ, মাটির উর্বরতা হ্রাস, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যার মতো ভয়াবহ কিছু আঘাত হানতে প্রকৃতি দ্বিধা করে না।
তবে প্রযুক্তি, সম্পদ ও আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সরকার প্রকৃতি ও বনসম্পদ সংরক্ষণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এ লক্ষ্যে গৃহীত আন্তর্জাতিক সকল কনভেনশন ও প্রটোকল স্বাক্ষর করেছে। টাঙ্গুয়োর হাওড় ও সুন্দরবনকে রামসার সাইট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর, পরিবেশ ও প্রকৃতিকে সংরক্ষণের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এই লক্ষ্যে, ২০২১ সালের মধ্যে দূষণমুক্ত বসবাসযোগ্য একটি সুস্থ, সুন্দর ও মডেল বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তাই আমাদের ও লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হতে হবে, পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য সংরক্ষণ ও সার্বিক উন্নয়ন।
সকল প্রকার দূষণ ও অবক্ষয়মূলক কর্মকা- সনাক্তকরণ ও নিয়ন্ত্রণ। সকল ক্ষেত্রে পরিবেশসম্মত উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ।
সকল প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই, দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশ সম্মত ব্যবহারের নিশ্চয়তা বিধান।
পরিবেশ সংক্রান্ত সকল আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগের সাথে সক্রিয় অংশগ্রহণ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ মোকাবেলায় অভিযোজন কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন।
পরিবেশগত সমস্যাগুলি বহুমাত্রিক ও জটিল সমস্যা। কাজেই টেকসই উন্নয়নে পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণে বেসরকারি খাত, এনজিও, সিভিল সোসাইটি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সর্বোস্তরের জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা একান্ত প্রয়োজন।

Share