নিজস্ব প্রতিবেদক

কালের সাক্ষী হয়ে আছে চারশ বছরের পুরনো ক্যাথেড্রাল চার্চ। নগরীর পাথরঘাটা বান্ডেল রোডে অবস্থিত খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বীদের এ প্রার্থনার ভবনটি দেশের সবচেয়ে প্রাচীন গির্জা। ১৬০০ সালের ৮ নভেম্বর পর্তুগীজ খ্রীস্টান ব্যবসায়ীরা প্রার্থনা করতে এ গীর্জা তৈরি করেন।
‘আওয়ার লেডি অব দি হলি রোজারি ক্যাথেড্রাল চার্চ’ নামে এ গীর্জা রোমান ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের প্রধান গীর্জা। স্থানীয়ভাবে এটি বান্ডেল কাথলিক চার্চ নামেও পরিচিত। পর্তুগীজ আমলে নির্মিত এই গীর্জার ভেতরে দেয়ালের স্তম্ভগুলো আকর্ষণীয় কারুকাজে তৈরি। গীর্জাকে ঘিরে রয়েছে সাধারণ ও পুরোহিতদের আলাদাভাবে নির্মিত সমাধিস্থল। প্রতিদিন বিকেল সাড়ে পাঁচটা ও সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বীরা প্রার্থনায় মিলিত হয় গীর্জায়।
প্রতি রবিবার সকাল সাড়ে ছয়টা, বিকাল সাড়ে চারটা ও সন্ধ্যা ছয়টায় অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ প্রার্থনা সভা। ভেতরে আর বাইরে বসতে পারে পাঁচশোর বেশি মানুষ ।
টিনের ছাউনি দেয়া প্রাচীন এ গীর্জার পাশেই পরিকল্পিতভাবে সাজানো রয়েছে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী নারী পুরুষের সমাধি। পাথরঘাটার এ গির্জাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিভাগে ১২০টি গ্রামীণ স্কুল, চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাঁচটি জুনিয়র বিদ্যালয়, চারটি উচ্চ বিদ্যালয় একটি কলেজ ও একাধিক আবাসিক হল গড়ে উঠেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী চট্টগ্রামে পর্তুগীজ খ্রিস্টান ব্যবসায়ীরা আসে ১৫১৮ সালে। তবে ১৫৩৭ সাল থেকে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। প্রথম মিশনারি ছিল তিনটি। তাহলো – সন্ন্যাসব্রতী, প্রৈরিতিক এবং জেসুইট সংঘ।
সেন্ট জন দ্যা ব্যাপ্টিস্ট নামে প্রথম গির্জা স্থাপিত হয় ১৬০০ সালের ২৪ জুন। দুই বছর পর সেটি ধ্বংস করা হয়। প্রথম গির্জার ধ্বংসস্তুূপের উপর পরবর্তীতে ‘পবিত্র জপমালা রাণী’ নামে গির্জা এবং ১৮৪৩ সালে বিশপ ভবনের দালানটি নির্মাণ করা হয়। ১৬০০ সালে নগরীর জামালখানের গির্জাটিও তৈরি করা হয়।
খ্রিস্টানধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের তথ্য অনুযায়ী সারাদেশে প্রাচীন গীর্জা রয়েছে ১৫ টি। এরমধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর পাথরঘাটা বান্ডেল রোডে অবস্থিত ‘আওয়ার লেডি অব দি হলি রোজারি ক্যাথেড্রাল চার্চ’ সবচেয়ে প্রাচীন গির্জা।
এটি তৈরি করা হয় ১৬০০ সালে। ১৬৭৭ সালে ঢাকার তেজগাঁওতে তৈরি করা হয় হলি রোজারিও চার্চ।পরবর্তীতে ঢাকার গাজীপুরে ১৬৯৫ সালে সেন্ট নিকোলাস টলেন্টিনো ক্যাথলিক চার্চ, ১৯৯৭ সালে তেজগাঁওয়ে হলি রোজারিও চার্চ, ২০০৯ সালে নবনির্মিত সেন্ট নিকোলাস টলেন্টিনা ক্যাথলিক চার্চ, ১৭৭৭ সালে আওয়ার লেডি অব দি হলি রোজারি চার্চ, ১৭৮১ সালে ঢাকার আর্মানিটোলায় আর্মানিয়ান চার্চ, ১৮২৪ সালে ঢাকার লক্ষীবাজারে চার্চ অব বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত সেন্ট থোমাস চার্চ (উদ্বোধন করেন রাণী ভিক্টোরিয়া) ,১৮৬৮ সালে হলিক্রশ চার্চ, ১৮৮৪ সালে ঢাকা ব্যাপ্টিস্ট চার্চ, ১৯০০ সালে বগুড়া রোডে ইফিপেনি অ্যাংগ্রিক্যান চার্চ, ১৯২৭ সালে সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার ক্যাথেড্রাল ক্যাথলিক চার্চ, ১৯২৭ সালে সেন্ট প্যাট্রিকস ক্যাথেড্রাল চার্চ, ১৯৫৬ সালে সেন্ট মেরিস ক্যাথেড্রাল চার্চ, ও ১৯৮৩ সালে রাজশাহীর বাগানাপাড়ায় ক্রাইস্ট দি রেডিমার ক্যাথেড্রাল চার্চ তৈরি করা হয়।

Share
  • 39
    Shares