পূর্বকোণ স্পোর্টস ডেস্ক

নিজেকে ফেরার লড়াইয়ে ব্যস্ত তামিম ইকবাল। ইনজুরি কাটিয়ে আবারো জাতীয় দলের হয়ে ওপেনিংয়ের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন তামিম। সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে যখন ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ, নির্বাচকদের তখনই মনে পড়েছে তামিম ইকবালের কথা। খোঁজখবর নিয়েছেন তার। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট থেকে ফিরে জাতীয় দলের ফিজিও বিমানবন্দর থেকে সরাসরি চলে এসেছেন মিরপুর একাডেমি মাঠে, নেটে তামিমের ব্যাটিং দেখতে। তবে তামিম নিজের ভাবনায় অবিচল। হালকা নেট শুরু করেছেন কেবল, তার নিজের ভাষায় যেটি ‘সেমি ব্যাটিং’। আপাতত লক্ষ্য, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের প্রথম টেস্টের আগে পুরো ফিট হয়ে ওঠা। গত এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আঙুলে চোট পেয়েছিলেন তামিম। সেই চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার লড়াইয়ে বাংলাদেশের সফলতম ব্যাটসম্যান এখন শেষ ধাপে। টুকটাক নেট শুরু করেছেন। টেনিস বল দিয়ে খেলা শুরু করেছিলেন প্রথম এখন। এখন খেলছেন স্পিন। গতকাল দুপুরে মিরপুর একাডেমি মাঠে ব্যাট করলেন প্রায় ৪০ মিনিট। নেট সেশন শেষে জানালেন তার অগ্রগতি কেমন হচ্ছে। ‘শুরু করেছি টেনিস বল দিয়ে। আজকে (কাল) করলাম স্পিন আর স্টিক দিয়ে থ্রো ডাউন। এখনও পর্যন্ত বড় কোনো সমস্যা হয়নি। বেশি ব্যথা অনুভব করিনি। টুকটাক ব্যথা আছে। কিছু সুনির্দিষ্ট শটে ব্যথা হচ্ছে। সেটা থাকবেই, কারণ হাতে দুর্বলতা আছে এখনও। শক্তি বাড়ানোর কাজ করছি আমি। শক্তি পুরোপুরি বাড়লে দুর্বলতাও কেটে যাবে। ইতিবাচক ব্যাপার হলো, ব্যাটিং না করার মতো ব্যথা হচ্ছে না।’ চোটের পর যখন পুনর্বাসন শুরু করেছিলেন, তামিমের দৃষ্টি ছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে। সিলেট টেস্টে দলের ব্যাটিংয়ের দুরাবস্থা দেখে মিরপুরে তামিমকে খেলানো যায় কিনা, এই নিয়ে খোঁজখবর শুরু করেছেন দল সংশ্লিষ্টরা। তবে রোববার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই টেস্ট খেলায় নয়, তামিম তাকিয়ে রোববার থেকে নেট সেশন পুরোপুরি শুরু করার দিকে। ‘সম্ভাবনা খুব সামান্য (এই টেস্ট খেলার)। আমার মনে হয় না আমি পারব। সত্যি বলতে, আমি প্রস্তুতও নই। এছাড়া, ফিজিও অনুমতিও দেবেন না। এখন যেটা করছি, সেটাকে ‘সেমি ব্যাটিং’ বলতে পারেন। পুরোপুরি নেট সেশন যতক্ষণ করব না, ততক্ষণ পর দলের জন্য, আমার নিজের দিক থেকেও এই টেস্টের জন্য নিজেকে ফিট ঘোষণা করব না।’ ‘খেলব কিনা বললে এই মুহূর্তে আমার উত্তর, ‘না’। আজকে (কাল) মাত্র তৃতীয় দিন নেট করেছি। এখনও পুরোপুরি নেট সেশন করিনি। স্পিন খেলা আর ১৩০-১৪০ কিমি গতির বল খেলা অনেক ভিন্ন ব্যাপার। আমি জানিনা ওটায় আমার হাত কিভাবে সাড়া দেবে। তবে এখনও পর্যন্ত, সবকিছুই ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। আশা করি আর তিন দিনের মধ্যেই পুরোপুরি নেট শুরু করতে পারব। তখন আরও ভালো বুঝতে পারব কোথায় আছি।’ চোট পুরোপুরি না কাটিয়ে, ন্যূনতম ঝুঁকি থাকলেও মাঠে নামার ইচ্ছা তামিমের নেই। যেভাবে অগ্রগতি হচ্ছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের প্রথম টেস্ট দিয়ে ফিরবেন বলে আশাবাদী দেশের সফলতম ব্যাটসম্যান। ২২ নভেম্বর চট্টগ্রামে শুরু হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের প্রথম টেস্ট। তার আগে ১৮ ও ১৯ নভেম্বর চট্টগ্রামে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টেস্টের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবেন কিনা, সেটি তখন অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নেবেন তামিম। ‘আমি মনে করি যে প্রথম টেস্টের আগে ফিট হয়ে উঠব। প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা নির্ভর করবে তখনকার অবস্থার ওপর। সাধারণত একজন ক্রিকেটার ইনজুরি থেকে ফিরলে টেস্ট সিরিজের আগে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পছন্দ করে। তিন-চার সপ্তাহ আগেও আমার লক্ষ্য ছিল জিম্বাবুয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় টেস্ট খেলা। কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ আরও কঠিন হবে, তার আগে এই ম্যাচটা খেলতে পারলে ভালো হতো।’ ‘তবে প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যাপার হলো, ব্যক্তিগতভাবে আমি প্রস্তুতি ম্যাচের ওপর খুব বিশ্বাসী নই। আমি জানি নিজের প্রস্তুতি কিভাবে নিতে হয়।’
দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে না পারলেও দল ঘুরে দাঁড়াবে এমন বিশ্বাস তামিমের। সিলেট টেস্টে দল বাজে ব্যাটিং করেছে, এটা অকপটে স্বীকার করলেন দেশের সফলতম ব্যাটসম্যান। তবে সতীর্থদের পারফরম্যান্স নিয়ে খুব বেশি কাঁটাছেড়া করতে চান না তিনি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে হারের পর এখন আর প্রাপ্তির সামান্য কিছুও নেই। বরং পরের টেস্ট জিতে মান বাঁচানোই এখন চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ দারুণভাবে জিতবে, স্থির বিশ্বাস তামিমের। ‘আমি পুরো শতভাগ নিশ্চিত যে মিরপুরে ওরা ফিরে আসবে। দলের ১৫ জনসহ আমি নিজেও নিশ্চিত যে আমরা সেরাটাই খেলব। যেভাবে খেলেছি, তার চেয়ে আমরা অনেক ভালো দল। এখানে অনেক আলোচনা হচ্ছে, আমরা ওয়ানডের মত টেস্ট সেভাবে খেলতে পারছি না। এটি সত্যি, আমাকে স্বীকার করতে হবে। তবে আমার কাছ থেকে এটাও কেউ নিয়ে যেতে পারবে না যে, আমরা ভাল টেস্ট খেলা শুরু করেছি।’ ‘আমরা এরই মধ্যে বিশ্বের সেরা দুটি টেস্ট দলকে হারিয়েছি। শুধু হারিয়েছি বলেই নয়, আমরা খেলেছি, সেটাও দেখতে হবে।

Share
  • 14
    Shares