নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সাম্প্রদায়িক ও সন্ত্রাসী অপশক্তিকে প্রত্যাখান করে পক্ষের শক্তিকে আবারো ক্ষমতায় আনতে হবে। গতকাল বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ৭১ আয়োজিত ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ ও নির্বাচন ২০১৮’ শীর্ষক সংলাপে এ আহ্বান জানান বক্তারা।
সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের চট্টগ্রাম বিভাগের সদস্য সচিব বেদারুল আলম চৌধুরী বেদারের সঞ্চালনায় জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রিমিয়ার বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ সালাম, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব হারুন হাবীব, সহ সভাপতি কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) আনোয়ারুল আলম শহীদ, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. অনুপম সেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের আদর্শিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে প্রগতিশীল শক্তির ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। আগামী নির্বাচন জাতির জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারকে ধারাবাহিকতা ক্ষুণœ হলে বাংলাদেশের অস্তিত্বও বিপন্ন হতে পারে। তাই মুক্তিযুদ্ধের শক্তিকে আবারোও ক্ষমতায় আনতে হবে। তাই সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। ড. কামাল হোসেন কখনোই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষের ছিলেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুযোগসন্ধানী এই মানুষটি বিদেশি শক্তির ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে থাকতেন তবে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারতেন না।
সূচনা বক্তব্যে কেন্দ্রীয় মহাসচিব হারুন হাবীব বলেন, সংগ্রাম, বিপ্লব ও মুক্তিযুদ্ধের তীর্থভূমি এই বীর চট্টগ্রাম। তাই চট্টগ্রাম বিভাগকে দিয়েই আমাদের এ সংলাপের যাত্রা শুরু হয়েছে। এ সংলাপ প্রত্যেক বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে। সংলাপের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সাম্প্রদায়িক-সন্ত্রাসী অপশক্তিকে প্রত্যাখান করা। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা। যুদ্ধাপরাধের বিচার অব্যাহত রাখা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শোষণহীন দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। যেদেশের লাখো মা-বোনকে ইজ্জত দিতে হয়েছে, সে দেশেই যুদ্ধাপরাধীরা লাল সবুজের পতাকা উড়িয়ে ঘুরে বেড়াতো। আমাদের লজ্জা হয় কিভাবে সে যুদ্ধপরাধীদের এক শ্রেণীর লোক ক্ষমতায় আনার জন্য আবার উঠেপড়ে লেগেছেন। অতীতে তাদের ক্ষমতায় এনে দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে। আর ক্ষতি হতে দেয়া যাবে না। মুক্তিযোদ্ধারা আগে বঞ্চিত ছিলেন কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর তারা তাদের সম্মান ফিরে পেয়েছেন। তাই দেশের সকল মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সন্তানদের একসাথে কাজ করতে হবে এবং আগামী নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ক্ষমতায় আনতে হবে।
এম এ সালাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি নীতি নৈতিকতা সম্পন্ন সুশিক্ষিত জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে না পারলে বারে বারে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির উত্থান ঘটবে। যে প্রজন্ম ইতিহাস বিকৃতির শিকার হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে তাদের মোকাবেলায় আদর্শিকভাবে এগিয়ে যেতে হবে।
মফিজুর রহমান বলেন, ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক অপশক্তি বিএনপি-জামাত চক্রের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। বাংলাদেশ যখন আজ বিশে^ উন্নয়নের রোল মডেল তখন বিডিআর বিদ্রোহ, রোহিঙ্গা সমস্যা, কোটা ও সড়ক আন্দোলনের নামে দেশে বিশৃংখলা সৃষ্টির মাধ্যমে সরকার উৎখাতের অপচেষ্টা চালানো হয়। যেকোন মূল্যে তা প্রতিরোধে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে।
সহ সভাপতি অব. কর্নেল আনোয়ারুল আলম শহীদ বলেন, অনেকে প্রশ্ন তুলে বলেন দেশের সকল মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করতে। মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে বলতে চাই তাদের তালিকা করার দরকার নাই বরং যারা যুদ্ধাপরাধী তাদের খুঁজে খুঁজে তালিকা করেন। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে নির্বাচন করার কোন অধিকার তারা রাখে না। আগামী নির্বাচনে সংসদ গঠন হতে হবে মুক্তিযুদ্ধের শক্তিতে এবং একই সাথে সংসদে বিরোধী দল হিসেবে তাদেরই থাকতে হবে। সংসদে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির কোন জায়গা হতে দেয়া যাবে না।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি সাবেক এডিশনাল আইজিপি মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে আরোও বক্তব্য রাখেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. মঈনুদ্দিন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহাবুদ্দিন, বিএফইউজে’র সহ সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, সেক্টর কমান্ডার্স কেন্দ্রীয় নারী কমিটির সভাপতি অভিনেত্রী লায়লা হাসান, কণ্ঠশিল্পী ইফ্ফাত আরা নারগিস প্রমুখ।

Share
  • 256
    Shares