নিজস্ব প্রতিবেদক হ

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সব নেতাকর্মীর অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী সকল রাজনৈতিক দল ও দেশবাসীর প্রতি ঐক্যবদ্ধভাবে পুনরায় বিনাভোটে ক্ষমতায় যাওয়ার ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি। গতকাল সোমবার সকাল ১১ টায় নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়েছে। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের গুম, খুন, মামলা হামলার পর এখন নতুন এক কৌশলে গায়েবি মামলা দিয়ে হয়রাণির পথ বেছে নিয়েছে। প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এক সাজানো মামলায় ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা অভিযোগে অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে নির্জন কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও সরকারি নির্দেশে তাকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে না। বর্তমান সরকারের ফরমানে আদালত আগামী ২৯ অক্টোবর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরও একটি রায় ঘোষণার দিন ঘোষণার দিন ধার্য করেছে। দিশেহারা এই সরকার বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের নামে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে গায়েবি মামলা ও গণগ্রেপ্তার অভিযান শুরু করে। চট্টগ্রামের প্রতিটি থানায় মিথ্যা কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার এখনো অব্যাহত রেখেছে। গত এক মাসে প্রায় ২ শতাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সব মামলায় পুলিশ রাতের আঁধারে হানাদার বাহিনীর মতো ঘুমন্ত নেতাকর্মীদের বাসা-বাড়ি থেকে অমনাবিকভাবে গ্রেপ্তার করে নাশকতার ষড়যন্ত্রের মামলায় কারাগারে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এই পর্যন্ত চট্টগ্রামে শত শত নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সব মামলা থেকে আইনজীবীসহ পেশাজীবী নেতারাও রেহাই পাচ্ছে না।
সাংবাদিক সম্মেলনে আরো বলা হয়, বর্তমান অনুগত নির্বাচন কমিশন সরকারের নির্বাচনী ফর্মুলা বাস্তবায়নে অগ্রসর হচ্ছে। কমিশন আনুগত্যের পুরস্কারস্বরূপ ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিএমডব্লিউ গাড়ি উপহার পেয়েছে। এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে যে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয় তা প্রমাণিত। এছাড়া প্রশাসনের সহায়তায় জাতীয় সংসদসহ সবগুলো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দখল করে রেখেছে সরকার। এই আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য রাষ্ট্রীয় সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং জনগণের মতপ্রকাশের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আসন্ন নির্বাচনের আগে সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার সংক্রান্ত যে কোন সংবাদ গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ বন্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাশ করা হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে সরকার গণমাধ্যমের টুটি চেপে ধরেছে। আমরা এই আইন বাতিল করার দাবি জানাচ্ছি। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক কাজী বেলাল উদ্দিন, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, আবদুল মান্নান, জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, আনোয়ার হোসেন লিপু, কোষাধ্যক্ষ শিহাব উদ্দিন আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুর আলম চৌধুরী মঞ্জু, কামরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক শিহাব উদ্দিন মবিন, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. এসএম সরোয়ার আলম, চান্দগাঁও থানা বিএনপির সভাপতি কাউন্সিলর মুহাম্মদ আজম, চকবাজার থানা সভাপতি সাইফুর রহমান বাবুল, সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. ইদ্রিস আলী প্রমুখ।

Share
  • 2
    Shares