মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম হাটহাজারী

 

হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খিল্লাপাড়া তুফানের বাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজের ৪ দিন পর কলি আক্তার (১৬) নামে এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ইউনিয়নের ছনখোলা নামক এলাকার একটি ইটভাটা সংলগ্ন শৌচাগারের ট্যাংকি থেকে গত বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশ তার গলিত লাশ উদ্ধার করে। গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিজ বাড়ির কাছ থেকে হতভাগ্য এ কিশোরী নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা গত মঙ্গলবার হাটহাজারী থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। লাশ উদ্ধারের পর বুধবার রাতে হত্যা মামলা করেন তিনি। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নজরুল ওরফে মিঠু (৩০) নামের স্থানীয় নোয়াপাড়া সন্দ্বীপ কলোনির এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) চট্টগ্রাম জুডিশিয়াম ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে খুনের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে খুনি নজরুল ওরফে মিঠু বলেছে, ‘ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে সে খুন করেছে ওই কিশোরীকে’।
থানা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মির্জাপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তুফানের বাড়ির দরিদ্র চুট্টু মিয়ার কন্যা কলি আক্তার (১৬) গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাড়ির নিকটবর্তী খালার বাড়ি থেকে নিজ ঘরে ফেরার পথে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে

একপর্যায়ে গত মঙ্গলবার কিশোরীর অসহায় পিতা হাটহাজারী মডেল থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। এদিকে গত বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মির্জাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দানু মিয়া কোম্পানির ইটভাটা সংলগ্ন শৌচাগারের ট্যাংকি থেকে ওই কিশোরীর গলিত মৃতদেহটি উদ্ধার করে মডেল থানা পুলিশ।
সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় একব্যক্তি ঘাস কাটতে গিয়ে দুর্গন্ধ পান। এতে তিনি মির্জাপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ছনখোলা নামক এলাকায় দানু মিয়া কোম্পানির ইটভাটা সংলগ্ন শৌচাগারের আরসিসি রিং দিয়ে তৈরী ট্যাংকিতে একটি মৃত দেহ দেখতে পায়। এ সময় ইটভাটার পার্শ্বের শৌচাগারের ট্যাংকির ঢাকনা উল্টে দেখা যায় কিশোরীর পচে ফুলে যাওয়া গলিত লাশ। খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার উৎসুক জনতার ভীড় জমে যায় ঘটনাস্থলে। স্থানীয় জনতা বিষয়টি তাৎক্ষণিক হাটহাজারী মডেল থানায় জানালে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্তি পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাসুম, মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বেলাল উদ্দীন জাহাঙ্গীর এবং ওসি (তদন্ত) মো. শামীম শেখ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনাস্থল থেকে কিশোরীর গলিত মৃত দেহটির সুরুত হাল প্রতিবেদন তৈরী করে পুলিশ। এছাড়া ময়না তদন্তের জন্য মৃত দেহটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
লাশ উদ্ধারের পর গত বুধবার রাতে নিহত কিশোরীর পিতা ছুট্টু মিয়া বাদি হয়ে হাটহাজারী মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দ-বিধির আইনে হত্যা মামলা (মামলা নম্বর ২৫, তারিখ-১৭-১০-১৮) দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মির্জাপুর নোয়াপাড়া সন্দ্বীপ কলোনির জনৈক নাছেরের ছেলে ৩ সন্তানের জনক নজরুল ওরফে মিঠুকে (৩০) গ্রেপ্তার করে।
থানা সূত্রে জানা যায়, গতকাল (বৃহস্পতিবার) চট্টগ্রাম বন আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম সুস্মিতা আহমেদের নিকট ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় খুনি নজরুল ওরফে মিঠু। আদালতে মিঠু বলেছে, ‘পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে সে নিহত কলিকে ফুসলিয়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় কলি চিৎকার দিলে শ্বাসরোধ করে কিশোরী কলিকে হত্যা করে নিকটবর্তী শৌচাগারের ট্যাংকিতে লাশ গুম করে’।
নিহত কিশোরীর মা বাছু আকতার বিলাপ করে সাংবাদিকদের জানান, এলাকার মির্জাপুর নোয়াপাড়া সন্দ্বীপ কলোনির জনৈক নাছেরের ছেলে ৩ সন্তানের জনক নজরুল ওরফে মিঠু (৩০) পরিকল্পিতভাবে আমার মেয়েকে অপহরণ করে ধর্ষণ ও নির্যাতন করে খুন করেছে। তিনি বলেন, তিন সন্তানের জনক বখাটে মিঠু প্রায় ১ বছর পূর্বে কিশোরী কলিকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। আমরা সরাসরি না বলাতে বখাটে মিঠু ক্ষুব্ধ হয়ে আমার মেয়েকে বিভিন্ন সময়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। তিনি মেয়ের ধর্ষক ও খুনি নজরুল ওরফে মিঠুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
হাটহাজারী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শামীম শেখ জানান, খুনের দায় স্বীকার করে আসামি নজরুল ওরফে মিঠু চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম সুস্মিতা আহমেদের আদালতে গতকাল (বৃহস্পতিবার) ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

Share
  • 63
    Shares