নীড়পাতা » জেলা-উপজেলা-গ্রাম » পূর্বের স্কুলে ফেরার পাঁয়তারা বরখাস্ত প্রধান শিক্ষিকার

নতুন নিয়োগ চান অতিষ্ঠ সহকর্মী-অভিভাবক

পূর্বের স্কুলে ফেরার পাঁয়তারা বরখাস্ত প্রধান শিক্ষিকার

জাহেদুল আলম, রাউজান

এক ছাত্রীকে শারীরিক ও মানসিক আঘাত করেছেন। শ্রেণীকক্ষে ছাত্রছাত্রীদের সামনে অভিভাবকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। সহকর্মীদের সঙ্গেও করেন বিমাতাসুলভ আচরণ। অভিভাবকদের পাশাপাশি খোদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি, সদস্য, সহকর্মী শিক্ষকরাও তার আচরণে ক্ষুব্ধ।
অভিযোগগুলো পাওয়া গেছে রাউজানের এক প্রধান শিক্ষিকার বিষয়ে। তার নাম লাভলী ভট্টাচার্য। তিনি উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম কচুখাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে শারীরিক ও মানসিক আঘাত করার অপরাধে এ শিক্ষিকা ইতিমধ্যে সাময়িক বরখাস্তও হয়েছেন। তবে বরখাস্তের পর ওই শিক্ষিকা স্কুলটিতে পুনর্বহালের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। সাময়িক বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষিকাকে ওই স্কুলে পুনর্বহাল না করে অন্যত্র বদলি করার জন্য নতুন করে আরেকটি আবেদন করেছেন স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি, সদস্য ও গ্রামের বাসিন্দারা। গত রবিবার এ আবেদনটি করা হয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম উপ-পরিচালকের বরাবরে।
স্থানীয় জনসাধারণের কাছে জানা যায়, পশ্চিম কচুখাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাভলী ভট্টাচার্য সঠিক সময়ে স্কুলে আসা-যাওয়া না করা, এলাকার মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ করে তার বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসেন রেজার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মিয়া, সহ-সভাপতি এস এম আহমেদুল হক, সদস্য নওশাদ ওসমানসহ অনেকে। গত ২১ জুলাই স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী ইস্পা আকতারকে শারীরিক ও মানসিক আঘাত করার অভিযোগ করেন তার বাবা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। এছাড়া অভিভাবকদের গালিগালাজ করার প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসেন রেজা নিজে স্কুলে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের সত্যতা পান। তারই প্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষক লাভলী ভট্টাচার্যকে চাকুরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অফিস চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক মো. সুলতান মিয়া স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে ওই প্রধান শিক্ষকের সাময়িক বরখাস্তের ‘অফিস আদেশ’ দেয়া হয়।
এদিকে সরেজমিনের পরিদর্শনে গেলে ওই স্কুলের অন্য চার সহকারী শিক্ষক কাকলী দাশগুপ্তা, মুন্নুজান, প্রজ্জ্বলিকা বড়–য়া, সৈকত বড়–য়া বলেন, ‘প্রধান শিক্ষিকা লাভলী ভট্টাচার্য ক্লাসের মধ্যে বাচ্চাদের সঙ্গে, শিক্ষকদের প্রতি এবং এলাকার লোকজনের সঙ্গে কারণে-অকারণে রুক্ষ ও খারাপ ব্যবহার করেন।’
অন্যদিকে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মিয়া, সহ-সভাপতি মো. আহমদুল হকসহ এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, সাময়িক বরখাস্তকৃত শিক্ষিকা লাভলী ভট্টাচার্য সাময়িক দায়িত্ব অর্পণকালে এলাকার জনগণকে মৌখিকভাবে বলে গেছেন তিনি আবার একই বিদ্যালয়ে যোগদান করবেন। তারই প্রেক্ষিতে স্কুল কমিটিসহ এলাকার ৪৫ জন স্বাক্ষরিত একটি আবেদন গত রবিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের কাছে দেয়া হয়। ওই আবেদনে সাময়িক বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষিকাকে অন্যত্র বদলি করে স্কুলটিতে আরেকজন নতুন প্রধান শিক্ষক দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

Share