মানু ষের মেধা শক্তিই চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিয়ামক। চিকিৎসক রোগী দেখেন এবং যখন তিনি রোগী দেখেন, তখন তাঁর মনের ভিতরে গেঁথে থাকা রোগীর চিত্রের অনুরূপ ওষুধের চিত্র ভেসে ওঠে। একে সহজাত ধারণা বা প্রবৃত্তি বলা হয়। কিন্তু এটা তা নয়। এটা দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়ের ফল। কোন অভিজ্ঞ চিকিৎসক রোগীর ঘরে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে বলে ওঠেন এই রোগীর ওমুক ওষুধের প্রয়োজন। কিভাবে তিনি এটা জানতে পারলেন? এটা তাঁর কোন অন্তর্দৃষ্টির সাহায্যে সম্ভব হয় নি। এটা দীর্ঘ বছরের অভিজ্ঞতার ফল, যে দীর্ঘ সময় ধরে উক্ত ওষুধের ওপর জ্ঞানার্জন করেছেন। এ সময় তাঁর মনের ভেতর উক্ত ওষুধের একটা ছবি তৈরী হয়েছিল। তাই ঠিক যে মুহূর্তে তিনি তাঁর রোগীর মধ্যে অনুরূপ ঘটনা দেখতে পান ঠিক সে মুহূর্তে তাঁর মনের ভিতর উক্ত ওষুধের ছবিটা ভেসে ওঠে। হোমিওপ্যাথিক ওষুধের জ্ঞান সম্ভার “মেটেরিয়া মেডিকা” স্টাডি করার ক্ষেত্রে ক্লিনিক্যাল মেটেরিয়া মেডিকার প্রণেতা বিশ^খ্যাত পথিকৃত হোমিওবিজ্ঞানী ডা. আর্নেষ্ট. এ. ফ্যারিংটন একথা বলেন।
১৮৪৭ খৃষ্টাব্দে উইলিয়ামস বার্গেম খঙঘএ ওঝখঅঘউ তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ফিলাডালপিয়ার হানেমান হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজের মেটেরিয়া মেডিকার অধ্যাপক ও হানেমান মাসিক পত্রিকার সম্পাদক। মেটেরিয়া মেডিকা অধ্যয়নের শুরুতেই ডা. ই এ ফ্যারিংটন বলেছেন যখন কোন বিজ্ঞান বিষয়ক শাস্ত্র সম্বন্ধে জ্ঞানার্জন করতে গেল তখন ঐ শাস্ত্রের গঠনশৈলী বুঝতে হবে। যে সূত্র সমগ্র মেটেরিয়া মেডিকা শাস্ত্রটিকে একই সূত্রে বেঁধে রেখেছে। নিউইয়র্ক শহরের ডা. এলেনের এনসাইক্লো পিডিয়া অফ মেটেরিয়া মেডিকা দশটি খ-ে বিভক্ত এবং নয় হাজার পাতা যুক্ত। ডা. এলেনের নয় হাজার পাতা যুক্ত সেটেরিয়া মেডিকাতে ক্লিনিক্যাল সিম্পটম লিপিবদ্ধ করা হয় নি। প্রতিটি চিকিৎসক প্রতি বছর নতুন নতুন কিছু লক্ষণ আবিষ্কার করেন এবং কয়েক বছর পরে তা এক বিশাল সংখ্যায় দাঁড়ায়। হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অধ্যয়নের ক্ষেত্রে বিশ^খ্যাত হোমিওপ্যাথ ই এ ফ্যারিংটন বলছেন – এটা অধ্যয়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সচেতন থাকতে হবে। যদি তা না হয় নিজেকে মানসিক ভ্রমের মধ্যে নিক্ষেপ করবে এবং হাতুড়ে হবে এবং মেটেরিয়া মেডিকাতে আরো কিছু অর্থহীন কথার সংযোজন করবে যা এর আগে অনেক হয়েছে। তুমি কি জানতে চাও, ওষুধের কার্যকরী ক্ষমতা। একজন যন্ত্র নির্মাতার কথা চিন্তা কর যখন তিনি একটা যন্ত্র তৈরী করার দায়িত্ব গ্রহণ করেন তখন তিনি জানেন না যে, কিভাবে সমগ্র যন্ত্রটির অংশগুলি জোড়া লাগাতে হবে। তুমি একজন চিকিৎসকের কথা চিন্তা করে, তিনি যে বস্তুটি প্রয়োগ করার চেষ্টা করছেন, তার সম্বন্ধে কিছুই জানেন না। তোমার এখন উদ্দেশ্য হবে, কোন সুস্থ মানুষের দেহে এই ওষুধের কার্যকরী ক্ষমতা জানার চেষ্টা করা। এটি শরীরের কোন কাজের পরিবর্তন ঘটাবে বা কোন অঙ্গের পরিবর্তন ঘটাবে? যদি তা হয়, তবে এর ফল হল লক্ষণ। সুতরাং লক্ষণ হল শারীরিক কাজের বা কোন অঙ্গের পরবর্তীত রূপ। হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অনুশীলনের ক্ষেত্রে ই এ ফ্যারিংটন বলছেন তোমার যখন মেডিসিন পড়বে একটি ওষুধের সঙ্গে অপর ওষুধের বিশ্লেষণ করবে, যতক্ষণ না সম্পূর্ণটা বিশ্লেষিত হচ্ছে। এরপর তোমার জানা ওষুধগুলি একটা নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে তোমার মস্তিষ্কের ভিতর সাজিয়ে রাখবে – এমনভাবে রাখবে যখনই তাদের প্রয়োজন হবে, তখনই স্মরণে আসবে। অর্থাৎ একটা নির্দিষ্ট ছন্দে হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অনুশীলন করতে হবে। তোমার অবশ্যই লক্ষণ সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করবে, কখনও কিছু শব্দ সম্বন্ধে নয়, এবং তোমার কখন কোন ধারণা তৈরী করে নেবে না, যতক্ষণ ওষুধের বৈশিষ্ট্য জানতে বা শিখতে পারছ না। তোমার সাবজেকটিভ ও অবজেকটিভ সিম্পটমগুলি সংগ্রহ করবে। মেটেরিয়া মেডিকার সমস্ত লক্ষণই সমান গুরুত্বপূর্ণ নয়। ঐগুলি আপেক্ষিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অনুশীলনের ক্ষেত্রে ই. এ. ফ্যারিংটন বলছেন কখন ও লাপিয়ে চলার চেষ্টা করোনা নিজেকে তৈরী করার পূর্বেই বিরাট কিছু মনে করোনা বা প-িত ভেবো না। বিজ্ঞানের একটি স্বাভাবিক শাখার মতই মেটেরিয়া মেডিকা শিক্ষা করা প্রয়োজন। প্রাকৃতিক নিয়ম ওষুধের কার্যকরী ক্ষমতা ও সম্পর্কের মধ্যে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরী করো না।

লেখক : সাবেক অধ্যক্ষ ডা. জাকির হোসেন হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম। মোঃ- ০১৮১৮-৩২২৩০৮

Share