নীড়পাতা » সম্পাদকীয় » আদর্শবাদী তারুণ্যশক্তিই গণতান্ত্রিক দেশের রক্ষাকবচ

আদর্শবাদী তারুণ্যশক্তিই গণতান্ত্রিক দেশের রক্ষাকবচ

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এই সময়ে প্রকৃত পথের দিশা হতে পারে আদর্শ অনুসরণকারী তারুণ্যশক্তি। এ মুহূর্তে তারুণ্য শক্তি অপচয়ের সম্মুখীন। তাদের ফেরাতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্দীপ্ত করে।
বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশের পর্যায়ে পদার্পণ আনন্দজনক সংবাদ হলেও এইদেশ আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে চলছে। যে যুব জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি, প্রতিক্রিয়াশীলরা তাকে কব্জা করে নেয়ার চক্রন্ত করে চলেছে। শুভবোধ সম্পন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সম্মিলিত সুচিন্তিত উদ্যোগেই এখন সব ধরনের অপ প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে এদেশের তারুণ্যশক্তির জাগরণ প্রয়োজন। তরুণ সমাজের কেউ অপ রাজনীতির শিকার, কেউ আদম ব্যাপারীদের প্রতারণার ফাঁদে। আবার, কেউ কর্মহীন জীবনের নানান টানা পোড়েনে বে আইনী ব্যবসার মাঠ পর্যায়ের কর্মী, কেউ কেউ হয় রাজনৈতিক দলগুলোর ক্যাডার বাহিনীর জঙ্গী সদস্য, কেউ ক্ষমতাবানদের উচ্ছিষ্টভোগী চেলাচামুন্ডা।
এ দেশের রাজনীতির দীর্ঘদিনের হালচাল তরুণ সমাজের সামনে আদর্শ হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। অতীতে এক একটি সরকার ক্ষমতা থেকে বিদায় হয়েছে। কখনও কখনও নির্বাচনে জনগণের রায় বদলে গেছে কারসাজিতে। এভাবে ক্ষমতারই বদল ঘটেছে শুধু। জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের নির্ভরযোগ্য পথ তাদের দ্বারা তেমন বিশেষ রচিত হয় নি। দেশের সম্পদ লুট হয়েছে নানাভাবে।
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাই আমাদের নানা ক্ষেত্রের সম্ভাবনাকে অতীতের দিনগুলোতে গ্রাস করে নিয়েছিল। যুব সমাজকে নিজেদের পায়ের উপর দাঁড়াবার সুযোগ করে দেয় নি সেই পরিবেশ। বরং করে তুলেছিল অন্য নির্ভর হুকুমের দাস। এদেশের সম্ভাবনার আধার চির অগ্রসরমুখী ও চিন্তাচেতনায় সৃজনশীল তারুণ্য শক্তির বিকাশের পথ বর্তমান সরকার খুলে দেওয়া যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে তৈরি হয়েছে আশাবাদের পরিবেশ।
পাশাপাশি এই দেশে তারুণ্যের বর্তমান স্খলন-পতনের সংবাদগুলোও চোখে পড়ে। তাতে অত্যন্ত দুঃখবোধ হয়। দেখি, যে মেধা ও শক্তিকে আমরা সৃজনে নিয়োজিত করতে পারতাম তার কী মর্মান্তিক অপচয়! প্রায় স্থানেই এখন প্রবেশ করছে নেশার দ্রব্য। পাশাপাশি বিষফোঁড়ার মত নীল ছবির প্রসার ধর্ষণ ও হত্যার মতো অপরাধের জন্ম দিয়েছে। তাতে বিকৃতি ও মূল্যবোধের ক্রমবর্ধমান অবক্ষয় চোখে পড়ে। ফলে মেয়েদের সাথে বখাটেপনা ও ধর্ষণ-নির্যাতন-হত্যা ইত্যাদি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।
তারুণ্য শক্তির এই অবক্ষয় ও অপচয় ক্রমশ এক ভয়ংকর সামাজিক সমস্যায় পরিণত হতে চলেছে। একে আমরা আমাদের তারুণ্যের আত্মহত্যা রূপে অভিহিত করতে চাই এবং চাই এই আত্মধ্বংস থেকে তরুণ সমাজের উদ্ধারের পথ রেখা তাদের সামনে তুলে ধরা হোক আদর্শের রাজনীতিতে আকৃষ্ট করে। আমরা মনে করি সমাজের শাসন নামক অত্যাবশ্যক যে বিষয়টিকে আমরা নানা কারণে আজকাল একপাশে সরিয়ে রেখেছি, আজ তারই পুনরুত্থান দরকার। চাই, সামাজিক সুস্থ বুদ্ধির জনগণের সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ।
অতীতের ইতিহাসের শিক্ষা হলো, আদর্শবাদের রাজনীতির চর্চাই সুস্থ পরিবেশ তৈরি করতে পারে। জঙ্গীবাদের হাতছানিতে যে তারুণ্যশক্তি মোহান্ধ হয়ে পড়েছে তাকে রুখতে হলে মানবতার আদর্শে দেশব্যাপী কর্মসুযোগের বিস্তার ঘটাতে হবে। বেকারত্ব মোচন করে আত্মপ্রত্যয়ী নব প্রজন্মের জন্ম দিতে পারলে রুখে দেওয়া যাবে যুক্তিহীন অন্ধতার চাষাবাদ।

Share