ব্যস্ততার কারণে অনেকেই সকালের নাস্তা না করেই বাইরে বের হয়ে যাই। কিন্তু সকালের খাবার শরীরের জন্য অতি প্রয়োজনীয়। কেননা সকালের খাবার না খেলে শরীরে বিভিন্ন রোগ অসুখ বাসা বাধে।
হৃদরোগের সম্ভাবনা ঃ আমেরিকার হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে যারা সকালের খাবার খান না তাদের হৃদরোগের হওয়ার ২৭% বেশি ঝুঁকি রয়েছে। গবেষকরা মনে করেন, দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার ফলে হজমক্রিয়া, বিপাকক্রিয়ায় পরিবর্তন হয়। এছাড়া হরমোন পরিবর্তনের কারণে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায় এমনকি ওজনও বেড়ে যায়। শরীর মেদবহুল হয়ে যায়। যার ফলে হার্ট অ্যাটাক, হার্টের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে ঃ সকালের খাবার না খেলে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা থেকে জানা যায় যেসকল নারীরা সকালের নাস্তা খায় না তাদের ডায়াবেটিস ২ হওয়ার সম্ভাবনা দ্বিগুণ বেড়ে যায়।
ওজন বাড়ার সম্ভাবনা ঃ আপনি যদি ওজন কমাতে চান তাহলে সকালের নাস্তা করতে হবে। তবে খেয়াল রাখবেন খাবারটি যেন প্রোটিনসমৃদ্ধ হয়। আপনি যদি ওজন কমাবেন বলে সকালের খাবার না খান তাহলে ওজন তো কমবেই না বরং ওজন বেড়ে যাবে।
বিপাকক্রিয়া ধীরগতিতে হওয়া ঃ একবেলার খাবার না খেলে আপনার বিপাকক্রিয়া, শরীরের কার্যক্রম ধীর হয়ে যেতে পারে।
মস্তিষ্কের ক্রিয়া ব্যাহত হওয়া ঃ দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে মনস্তাত্ত্বিক উন্নয়ন হয় না, মানসিক উন্নয়ন হয় না। স্কুলগামী শিশুদের নিয়মিত সকালের খাবার খাওয়া উচিত। নয়তো তারা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে এবং মানসিক বিকাশ সুষ্ঠুভাবে হবে না।
শক্তি হ্রাস পাওয়া ঃ উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুসারে আপনি যদি প্রতিদিন সকালের খাবার খান তাহলে শতকরা ২৫ ভাগ শক্তি পাবেন।
শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা হতে পারে ঃ সকালের নাস্তা না করলে তাহলে মুখে ও জিহবায় বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ ঘটতে পারে। এছাড়া শ্বাস প্রশ্বাসেও সমস্যা হতে পারে। প্রতিদিন সকালে সবজি ও ফল মুখের ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সহায়তা করে।
ঋতুগ্রাবের সময় পেটে ব্যথা হয় ঃ ঋতুগ্রাবের সময় তীব্র পেটে ব্যথা হতে পারে, শরীর অসুস্থ হয়ে যেতে পারে, অনিয়মিত ঋতুশ্রাব হতে পারে।

Share