নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা অধিবাসীদের সরিয়ে দিতে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। গতকাল বুধবার বেলা ২টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত মতিঝর্ণা, আকবর শাহ ও এ কে খান পোড়া কলোনিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এছাড়াও এতে ২০-২৫ জন আনসার ভিডিপি ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে বিভিন্ন পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করা মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়। একইসাথে পাহাড়ধসের দুর্ঘটনা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়। গত দুইদিন ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে নগরীতে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এ ধরনের বৃষ্টি সামনে আরো কয়েকদিন ধরে চলতে পারে। টানা বৃষ্টিতে নগরীতে বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের আশংকা থেকে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান। তিনি পূর্বকোণকে বলেন, ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে বিরুপ আবহাওয়া, ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত, গত দুইদিন ধরে টানা বৃষ্টির ফলে দুর্ঘটনা এড়াতে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিতে

থাকা বাসিন্দাদের সতর্ক করছি আমরা। চট্টগ্রামে অনেক এলাকায় পাহাড় রয়েছে। এসব পাহাড়ের পাদদেশে অসংখ্য মানুষ বসবাস করছে। পাহাড়ধসে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে জন্য জেলা প্রশাসন নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। এছাড়া লালখান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তবে কোনো এলাকায় উচ্ছেদ করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরীর মতিঝর্ণার পাহাড়ি এলাকার এই ওয়ার্ডে অসংখ্য মানুষ পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করে। প্রতিবছর এখানে ছোটবড় পাহাড়ধস হয়। মারাও যায় লোকজন। ২০১৩ সালে মতিঝর্ণার পাশে টাংকি পাহাড়ধসে মা-মেয়ের মৃত্যু হয়। এর আগে ২০১১ সালে ১ জুলাই বাটালি পাহাড়ের দেয়ালধসে নিহত হন ১৭ জন। ২০০৮ সালে মারা যান ১৪ জন।
এসব কারণে প্রতিবছরই বর্ষা বা ভারি বৃষ্টিতে এসব ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরাতে তোড়জোড় শুরু হয়। এসব এলাকায় অনেকবার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানও পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়া বসতিগুলোর গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয় বহুবার। তবে প্রভাবশালীদের নেতৃত্বে পুনরায় গড়ে উঠে এগুলো।
এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন মুঠোফোনে পূর্বকোণকে বলেন, ‘এসব এলাকায় পাহাড়গুলো অনেকগুলো রেলওয়ের, গণপূর্তের, ব্যক্তি মালিকানাধীন। আইন হচ্ছে দুর্যোগের সময় আমরা জেলা প্রশাসন যেকোন জায়গায় ঢুকতে পারি। কিন্তু অন্য সময় রিকুইজিশন ছাড়া আমরা অভিযান পরিচালনা করতে পারি না। আমরা আসার পরে এক বছরে প্রত্যেককে পাঁচটি চিঠি দিয়েছি। এর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’

Share
  • 2
    Shares