নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা অফিস

টানা ১৪ বছর প্রতীক্ষার প্রাথমিক অবসান হল ঢাকায় ২০০৪ সালের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের। সেদিনের ওই ভয়াবহ ও নৃশংস ঘটনার বিচারের রায়ে তদানীন্তন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, প্রাক্তন উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের প্রাণদ-ের সাজা এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদ-। এছাড়া এ মামলার আসামি ১১ সরকারি কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দেওয়া হয়েছে। ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন গতকাল বুধবার বেলা পৌণে ১২টায় বহুল আলোচিত চাঞ্চল্যকর হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের দুই মামলায় এই রায় ঘোষণা করেন। তিনি রায়ে বলেন, আসামিদের সাজা কারাবাসকালীন সময় থেকে বাদ যাবে। এবং যেসব আসামি দুই মামলায় সাজা পেয়েছেন তাদের একযোগে দ- কার্যকর হবে। এ রায়কে ঘিরে ভোর থেকেই আদালত চত্বর এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা নেওয়া হয়। রায় শোনার পরেই গ্রেনেড হামলায় আহত মাহমুদা বেগম জানালেন, তিনি এ রায়ে খুশি হতে পারেননি। তবে, তারপরেও তার মনের সান্তনা হচ্ছে- ১৪ বছর পরে হলেও তিনি বিচারটি দেখে যেতে পেরেছেন।
২১ আগস্ট ছিল আওয়ামী লীগের জঙ্গি ও সন্ত্রাস বিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ। আর এই শান্তিপূর্ণ সমাবেশে নৃশংস কায়দায় গ্রেনেড হামলা করেছিল দুর্বৃত্তরা। আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। মারাত্মকভাবে জখম হন দলের তিন শতাধিক নেতাকর্মী।
সেদিন অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু, গ্রেনেডের প্রচ- শব্দে তার শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়। আওয়ামি লীগের প্রথম সারির আরও বহু নেতাও অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছিলেন। তবে, তারা সবাই শরীরে গ্রেনেডের স্প্রিন্টার নিয়ে দুঃসহ যন্ত্রণার মধ্যে বেঁচে রয়েছেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেছেন- শেখ হাসিনাকে হত্যা করে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে এই হামলা হয়েছিল এবং তাতে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি-জামায়াত জোটের শীর্ষ নেতাদের প্রত্যক্ষ মদদ ছিল।
সকাল পৌনে ১০টার দিকে বিচারক আদালতে আসেন। তার পরে বেলা ১১টায় মামলায় কারাগারে থাকা ৩১ আসামিকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। বিচারক এজলাসে বসেন সাড়ে ১১টায়। তিনি রায়ের সারসংক্ষেপ পড়া শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই আদালত কক্ষের বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন বিকল্প আলোর ব্যবস্থা করা হয়। এই অবস্থাতেই মূল রায় পড়া শেষ করার আগ মুহূর্তে আবার বিদ্যুৎ চলে আসে। বিচারক প্রথমে রায়ের দুই পৃষ্টার পর্যবেক্ষণ পড়েন। এবং এ ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার বিবেচ্য বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তখন আদালতে ছিল জনাকীর্ণ কিন্তু এর মধ্যেও ছিল পিনপতন নিস্তব্ধতা। সবাই রায়ের অপেক্ষা করছিলেন ছোট্ট কক্ষটির মধ্যে। পূর্ব থেকে পশ্চিমে লম্বা এই আদালত কক্ষ। এর পূর্বদিকে বিচারকের বসার স্থান। লাল কাপড়ে মোড়ানো এজলাসের সামনে দুই পাশের বাম দিকে ছিল প্রসিকিউশন এবং ডান দিকে বসেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। তাঁদের পেছনেই ছিলেন মামলার ৩১ আসামি। আর প্রসিকিউশনের পেছনে বসেন দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা। আসামিরা সবাই চেয়ারে বসা ছিলেন। সামনের কাতারে ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, ডিজিএফআইর সাবেক প্রধান রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, এনএসআই তখনকার মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ অনেকেই। তাঁদের বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। আসামিদের একেবারে পেছনের সারিতে ছিলেন মূলত জঙ্গি সংশ্লিষ্ট নেতারা। বিচারক যখন পড়ছিলেন, তখন জঙ্গি নেতারা প্রায় সবাই অনুচ্চ স্বরে দোয়া-দরুদ পড়ছিলেন। পর্যবেক্ষণ ও বিবেচ্য বিষয় পড়া শেষে বিচারক ১১টা ৩৭ মিনিটে মূল রায় পড়া শুরু করেন। তিনি প্রথমেই ফাঁসির আসামিদের নাম ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘অভিন্ন অভিপ্রায়ে পরিকল্পনা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করার অভিযোগে দ-বিধির ৩০২/১২০-এর (খ)/৩৪ ধারায় দোষী স্বাব্যস্ত করে মৃত্যুদ- ঘোষণা করা হলো এবং মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হলো।’
চাঞ্চল্যকর এই মামলায় আসামি ছিলেন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, বিএনপি-জামাত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ মোট ৫২ জন। বিচার চলাবস্থায় অন্যতম আসামি জামায়াত নেতা ও আল বদর কমা-ার আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এবং হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান ও শরিফ শাহেদুল ইসলাম বিপুল ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার অপর এক মামলায় মৃত্যুদ- কার্যকর হওয়ায় তাদের ৩ জনকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে, মামলা দুটিতে মোট আসামি ছিল ৪৯ জন। এ দিন রায় শোনানোর সময় আদালতে ৩১ জন আসামি উপস্থিত থাকলেও বাকী ১৮ জন ছিলেন পলাতক।
২০০৪ সালে ২২ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও বিস্ফোরক আইনে মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহমেদ বাদি হয়ে দু’টি আলাদা মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে থানা পুলিশ। পরে তদন্তের দায়িত্ব পায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরবর্তীতে মামলাটি যায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি)। অভিযোগ রয়েছে, তদানীন্তন খালেদা সরকার শুরু থেকেই মামলাটি ধামাচাপা দিতে নানারকম ফুসরৎ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে, সিআইডি কর্মকর্তরা জজ মিয়া নামের এক ছিঁচকে চোরকে সংগ্রহ করে তার মাধ্যমে মামলাটির মোটিভ ভিন্নদিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। জজ মিয়ার জবানবন্দিতে বলা হয়, ভারতে পলাতক বাংলাদেশের মোস্টওয়ান্টেডরা এ হামলার মাস্টার মাইন্ড ছিলেন এবং তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদতে জজ মিয়াসহ আরও কয়েকজন এ হামলায় অংশ নেন। এ অবস্থায় ২০০৭ সালে বাংলাদেশে ক্ষমতার পট পরিবর্তন হলে তদানীন্তন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উদ্যোগে সিআইডির এএসপি ফজলুল কবিরের নেতৃত্বে নতুন করে মামলার তদন্ত শুরু হলে থলের বিড়াল বের হয়ে আসে। একের পর এক নাম উঠে আসতে থাকে বাঘা বাঘা জঙ্গি নেতাদের। পরে, ২০০৮ সালের ১১ জুন হুজি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি । আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে, ২০০৯ সালের ৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের তরফে মামলাটি অধিকতর তদন্তের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডির চৌকষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহহার আকন্দ। মূলত, কাহহার আকন্দের তদন্তেই আসল ঘটনা ফাঁস হয়। কেঁচো খুড়তে গিয়ে বেরিয়ে আসে সাপ।
তারপরে ঘটনা হলো- কাহহার আকন্দ নতুন তদন্তে নেমে ২০১১ সালের ৩ জুলাই ভয়াবহ এ গ্রেনেড হামলায় যুক্ত থাকার অভিযোগ এনে তারেক রহমান ও জামাতের প্রাক্তন সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ৫২ জনের নামে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র দেন। অধিকতর তদন্তে গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) পাশাপাশি হাওয়া ভবনের সংশ্লিষ্টতাও খুঁজে পান তিনি। মামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অভিযোগে সিআইডি’র প্রথম তিন তদন্ত কর্মকর্তাকেও অধিকতর তদন্তে অভিযুক্ত করেন আবদুল কাহার আকন্দ। আদালত সূত্র জানা গিয়েছে, অভিযোগ গঠনের পর আলোচিত এ মামলায় ৫১১ সাক্ষীর মধ্যে ২২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আরও ২০ জনের সাফাই সাক্ষ্য নেওয়া হয়। এরপর আসামিদের জেরা করেন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা। পরে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষে ১১৯ কার্যদিবস যুক্তিতর্কের মাধ্যমে শুনানি করেন। এতে আসামিপক্ষ ৯০ কার্যদিবস এবং রাষ্ট্রপক্ষ ২৯ কার্যদিবস শুনানি করেছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান।
এদিকে, এ মামলার রায় ঘোষণার দিন গতকাল বুধবার সকাল থেকেই ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়িতে তল্লাশি করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকাসহ সারাদেশে সতর্ক অবস্থায় মাঠে ছিল র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্যরা। আওয়ামী লীগ ও দলটির সহযোগী সংগঠনের নেতারাও দলবল নিয়ে মাঠে-ময়দানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিলেন। রায় ঘোষণার পরেই এ দলের নেতাকর্মীদের আনন্দ মিছিল করতে দেখা গেছে। তবে, দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, এ রায়ে তারা সন্তুষ্ট হলে পুরোপুরি খুশি হতে পারেননি। কেননা, হামলার মাস্টারমাই- হিসেবে যাদের চিহ্নিত করা হয়েছে, তারা সর্বোচ্চ সাজার পরিবর্তে লঘু দ- লাভ করেছেন বলে আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন।
অন্যদিকে, বিএনপি নেতারা এই রায়কে ‘সরকারের ফরমায়েশি’ বলে আখ্যায়িত করে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় প্রত্যাখান করেছেন। দলটির মহাসচিব মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ক্ষমতাসীনদের ফরমায়েশি রায় আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। এ রায় রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পরে, তিনি দলের তরফে এক সপ্তাহব্যাপি বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন এবং এ মামলা আইনগতভাবে মোকাবেলার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও মোকাবিলার কথা জানান।
দুটি মামলায় দ-প্রাপ্তরা হলেন : প্রাণদ-ের সাজাপ্রাপ্ত ১৯ আসামি হলেন- প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর (উপস্থিত), মাওলানা তাজউদ্দিন (পলাতক), শেখ আবদুস সালাম (উপস্থিত), পাকিস্তানি নাগরিক মোহাম্মদ আবদুল মাজেদ ভাট ওরফে ইউসুফ ভাট (উপস্থিত), আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ ওরফে জিএম (উপস্থিত), মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ (উপস্থিত), মহিব্বুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি (উপস্থিত), মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডাক্তার জাফর (উপস্থিত), আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল (উপস্থিত), মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (উপস্থিত), হাফেজ মাওলানা আবু তাহের (উপস্থিত), হোসাইন আহমেদ তামিম (উপস্থিত), মাইন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মাইন ওরফে খাজা ওরফে আবু জানদাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ (উপস্থিত), রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামিম ওরফে রাশেদ (উপস্থিত), মোহাম্মদ উজ্জ্বল ওরফে রতন (উপস্থিত), প্রাক্তন উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু (উপস্থিত), ডিজিএফআইর সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরি (উপস্থিত) এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তখনকার মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম (উপস্থিত), হানিফ এন্টারপ্রাইজের মালিক মোহাম্মদ হানিফ (পলাতক)। আদালত এঁদের সবাইকে এক লাখ টাকা জরিমানাও করেন।
এরপর বিচারক যাবজ্জীবন দ-প্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন। এ সময় বিচারক বলেন, ‘অভিন্ন অভিপ্রায়ে পরিকল্পনা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গুরুতর জখম করার অভিযোগে দ-বিধির ৩০৭/১২০ এর (খ)/৩৪ ধারায় দোষী স্বাব্যস্ত করে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- ঘোষণা করা হলো।’ ১৯ যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামি হলেন- খালেদি জিয়ার পুত্র তারেক রহমান (পলাতক), কুমিল্লার প্রাক্তন সাংসদ শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (পলাতক), শাহাদাত উল্লাহ জুয়েল (উপস্থিত), মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে আবু ওমর আবু হোমায়রা ওরফে পীর সাহেব (উপস্থিত), মাওলানা সাব্বির আহমেদ ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির (উপস্থিত), আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক (উপস্থিত), হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া (উপস্থিত), ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রাক্তন কমিশনার আরিফুল ইসলাম আরিফ (উপস্থিত), আবু বকর সিদ্দিক ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার (উপস্থিত), আনিসুল মোর্সালীন (পলাতক), মুহিবুল মুক্তাকীন (পলাতক), খলিলুর রহমান খলিল (পলাতক), জাহাঙ্গীর আলম ওরফে বদর (পলাতক), মোহাম্মদ ইকবাল (পলাতক), মাওলানা লিটন ওরফে জোবায়ের ওরফে দেলোয়ার (পলাতক), খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), বাবু ওরফে রাতুল বাবু (পলাতক), শফিকুর রহমান (পলাতক), মুফতি আবদুল হাই (পলাতক)। আদালত এঁদের সবাইকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদ-ের নির্দেশ দেন।
বাকি ১১ আসামির বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দেওয়া হয়। বিচারক বলেন, ‘দ-বিধির ২১৭ ধারায় দুই বছর এবং ২১৮ ধারায় তিন বছরের কারাদ- দেওয়া হলো। পুলিশের প্রাক্তন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) খোদা বক্স চৌধুরি (উপস্থিত), সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (অব.) রুহুল আমিন (উপস্থিত), এএসপি (অব.) আবদুর রশিদ (উপস্থিত) ও এএসপি (অব.) মুন্সি আতিকুর রহমানকে (উপস্থিত) তিন বছর করে কারাদ- দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাঁদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদ- দিয়েছেন আদালত।’ এ ছাড়া বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক (উপস্থিত), আইজিপি আশরাফুল হুদা (উপস্থিত), আইজিপি শহুদুল হক (উপস্থিত), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন (আমেরিকায় পলাতক), লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ারদার (পলাতক), ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান (পলাতক) ও ডিএমপির উপকমিশনার (দক্ষিণ) খান সাঈদ হাসানকে (পলাতক) দুই বছর করে কারাদ- দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাস করে কারাদ- দেওয়া হয়েছে।

Share