নীড়পাতা » প্রথম পাতা » চবি ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষে নয়জন আহত নিজস্ব সংবাদদাতা হ চবিআনন্দমিছিলে ধাওয়া ও ইট পাটকেল চবি ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষে নয়জন আহত

আনন্দমিছিলে ধাওয়া ও ইট পাটকেল

চবি ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষে নয়জন আহত নিজস্ব সংবাদদাতা হ চবিআনন্দমিছিলে ধাওয়া ও ইট পাটকেল চবি ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষে নয়জন আহত

নিজস্ব সংবাদদাতা, চবি

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায়ের পর অনুষ্ঠিত আনন্দমিছিলে যোগ দিতে এসে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়েছে ছাত্রলীগ। এসময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় গ্রুপের নয়জন আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অফিসের সামনে এবং বিকেল সাড়ে চারটায় ও রাত সাড়ে নয়টার দিকে সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
বিবদমান দুই গ্রুপ হলো শাটলট্রেনের বগিভিত্তিক সংগঠন ‘চুজ ফ্রেন্ড উইথ কেয়ার (সিএফসি)’ এবং ‘বিজয়’। উভয় গ্রুপই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সিএফসি’ গ্রুপের নেতৃত্ব দেন শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি জামান নুর এবং ‘বিজয়’ গ্রুপের নেতৃত্ব দেন শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজন। আহতরা হলেন লোকপ্রশাসন বিভাগের তৃতীয়বর্ষের ছাত্র সাদ্দাম হোসেন, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র নাসিম চৌধুরী, একই বর্ষের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র মোহাইমিনুল ইসলাম, মার্কেটিং বিভাগের সেভেনথ সেমিস্টারের ছাত্র রিদুয়ান ইবনে সাত্তার, আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র সাদাফ কবির, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র শরীফুল ইসলাম, লোকপ্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্র্ষের ছাত্র নাসিম আল সিয়াম, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র আবু নাহিয়ান রাফি এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের তারেকুল ইসলাম। এদের মধ্যে সাদ্দাম, নাসিম, মোহাইমিনুল, রিদুয়ান ও তারেক ‘বিজয়’ গ্রুপ এবং সাদাফ, শরীফ, সিয়াম ও রাফি ‘সিএফসি’ গ্রুপের অনুসারী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুর দুইটার দিকে ‘বিজয়’ গ্রুপের কর্মীরা আনন্দ মিছিল বের করে। তারা মিছিল শেষ করে প্রক্টরের সাথে সৌজন্য স্বাক্ষাত করতে যায়। প্রক্টর অফিসের বাহিরে অবস্থানরত ‘বিজয়’ গ্রুপের জুনিয়র কর্মীদের সাথে ‘সিএফসি’ গ্রুপের জুনিয়রদের কথা কাটাকাটি হয় এবং তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে উভয় পক্ষের চারজন আহত হয়। এসময় কলা অনুষদের বেশ কয়েকটি কক্ষ ভাংচুর করে উভয় গ্রুপ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ও পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রক্টর উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে উভয় গ্রুপ আবারো সংঘর্ষে জড়ায়। এতে আহত হয় উভয় গ্রুপের আরো চার কর্মী। এসময় দুই গ্রুপই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। পরে পুলিশ উভয় গ্রুপের মাঝে অবস্থান নিয়ে ‘বিজয়’ গ্রুপকে সোহরাওয়ার্দী এবং ‘সিএফসি’ গ্রুপকে আমানত হলে সরিয়ে দেয়। আহত সকলকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এদের মধ্যে শরীফ ও মোহাইমিনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) পাঠানো হয়েছে। এদিকে সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও রাত সাড়ে নয়টায় শাটল ট্রেন আসার পর আবারো দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে দু’গ্রুপই এলোপাতাড়ি পাথর নিক্ষেপ করতে থাকে। এসময় প্রতিপক্ষের ধাওয়ায় ‘বিজয়’ গ্রুপের তারেক নামে একজন আহত হয়। দফায় দফায় সংঘর্ষের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের কর্মরত মেডিকেল অফিসার ডা. টিপু সুলতান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৯ জনকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে দুই জনের আঘাত বেশি হওয়ায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) পাঠানো হয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিজয় গ্রুপের নেতা ফজলে রাব্বি সুজন বলেন, ‘শিবিরের এজেন্ট তারা। ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টায় লিপ্ত এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে যদি প্রশাসন অবিলম্বে ব্যবস্থা না নেয় প্রয়োজন হলে আমরাই আইন হাতে নিয়ে ব্যবস্থা নিবো।’
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও সিএফসি গ্রুপের নেতা জামান নুর বলেন, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় প্রদানের দিনে ‘শিবিরের কর্মীরা’ আমাদের উপর পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালায়। আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী বলেন, ‘দুই গ্রুপের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি একবার শান্ত করার পর সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে আবারো ঝামেলায় জড়িয়েছে তারা। এই ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকুক তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ব্যাপারে হাটহাজারী থানার ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, ‘ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।’

Share