মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

কর্ণফুলী নদীর ১০ কিলোমিটার ড্রেজিং করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড। চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাট থেকে বেতাগী অংশ পর্যন্ত ড্রেজিং করা হবে। একই সঙ্গে ঈছামতির নদীর ৬ কিলোমিটার ড্রেজিং করা হবে। প্রায় দুইশ কোটি টাকা ব্যয়ে এই ড্রেজিং প্রকল্পের কাজ শুরু হবে আগামী জানুয়ারিতে।
চট্টগ্রাম বন্দরের পর পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রথমবারের মতো কর্ণফুলী ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। ২০১১ সালে বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্ণফুলীর সদরঘাট থেকে বাকলিয়া অংশে ড্রেজিং কাজ শুরু করে। কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে মাঝপথে তা বন্ধ হয়ে যায়। তিন বছর পর আবারো কর্ণফুলী ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। দেখা যায়, কর্ণফুলী নদীর শিলক, সরফভাটা, বেতাগী, বোয়ালখালীর শ্রীপুর-খরণদ্বীপ, চরণদ্বীপ অংশে নতুন নতুন চর জেগে ওঠে। এতে নদীর নাব্যতা কমে নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। জোয়ারের সময় নৌকা-সম্পান চলাচল করলেও ভাটার সময় চরে আটকে যায়। অনেকটা মরণাপন্ন হয়ে যাচ্ছে কর্ণফুলী। আবার নদীর বিভিন্ন অংশে ভাঙন তীব্র রূপধারণ করেছে। নদী ভাঙনে শত শত ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, ক্ষেত-খামার ও নানা স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিবর্ষায় নতুন নতুন এলাকা গ্রাস করছে কর্ণফুলী।
দেখা যায়, কর্ণফুলী নদীতে জেগে ওঠা চর থেকে প্রতিদিন অবৈধভাবে শত শত নৌকা বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সরকারদলীয় রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালীতের প্রশ্রয়ে অবৈধভাবে বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। কর্ণফুলী নদী ছাড়াও রাঙ্গুনীয়া ঈছামতির নদীতেও ড্রেজিং করা হবে। রাজানগর থেকে ঘাটচেক পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার এলাকায় চর জেগে ওঠা স্থানে ড্রেজিং করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন কুমার বড়–য়া বলেন, কর্ণফুলী নদীর রাউজান-বোয়ালখালী অংশে ভাঙনরোধ ও ড্রেজিংয়ের জন্য গত বছর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) জমা দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার একনেক সভায় ৩৯৮ কোটি টাকার প্রকল্প পাস হয়েছে। এর অর্ধেক টাকা ব্যয় হবে ড্রেজিং কাজে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা মেনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিটি প্রকল্পে এখন ড্রেজিং কাজ যুক্ত থাকছে।
কর্ণফুলী নদী ছাড়াও রাঙ্গুনীয়া ঈছামতির নদীর ৬ কিলোমিটার অংশ ড্রেজিং করা হবে। রাজানগর থেকে ঘাটচেক এলাকায় জেগে ওঠা চরাংশে ড্রেজিং করা হবে।
প্রকৌশলী স্বপন কুমার বড়–য়া বলেন, একনেক সভায় পাস হওয়ার পর অর্থ ছাড় ও প্রকল্প অনুমোদন হয়ে আসতে দুই তিন মাস সময় লাগবে। আগামী জানুয়ারি মাসে টেন্ডার আহ্বান ও প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।
২০১১ সালে বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্ণফুলী নদী ড্রেজিং কাজ শুরু করে। নদীর সদরঘাট থেকে বাকলিয়া এলাকা পর্যন্ত ড্রেজিং, তীর সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হয়েছিল। ২০১৪ সালে প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায। নদীর তীরে জমানো ড্রেজিং মাটি জোয়ার-বৃষ্টিতে নদীতে পড়েছে। এতে নদীর নাব্যতা আরও হ্রাস পেয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষকে দ্বিতীয় দফায় ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নিতে হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রথমবারের মতো নদী শাসনের উদ্যোগ নিয়েছে। এরফলে নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি ও নৌযান চলাচলের উপযোগী হবে কর্ণফুলী।
ড্রেজিং ছাড়াও রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী ও কাপ্তাই অংশে ভাঙনরোধের প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকাবাসী জানান, স্বাধীনতার পর থেকে কর্ণফুলীর ভাঙন শুরু হয়েছে। গত ৩০ বছর ধরে ভাঙন তীব্র রূপ নিয়েছে। এতে ৫ উপজেলার কয়েকশ মানুষ বাড়ি-ঘর, জমা-জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। অনেক পরিবার উদ্বাস্তু হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। ভাঙনরোধ, নদীর তীর সংরক্ষণ ও ড্রেজিংয়ের জন্য ৩৯৮ কোটি টাকার প্রকল্প একনেক সভায় পাস হয়েছে।
প্রকৌশলী স্বপন কুমার বড়–য়া বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে নদীর গতিপথ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, আর্তসামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্র্য দূর হবে। মানুষের শত শত ঘরবাড়ি, জমি রক্ষা পাবে।

Share