ঘটনা : রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ বর্বরোচিত ও নৃশংস গ্রেনেড হামলার ঘটনাটি ঘটে ওই দিন বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের এক সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ জঘন্যতম নজিরবিহীন ওই গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে।-বাসস হতাহত : তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পত্নী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতা এই গ্রেনেড হামলা থেকে
ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। এতে অল্পের জন্য শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচন্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। ভয়াবহ ওই ঘটনায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মী, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হন।
মামলা দায়ের : বর্বরোচিত ও নৃশংস ওই গ্রেনেড হামলার ঘটনার পরদিন ২২ আগস্ট পুলিশ বাদি হয়ে মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করে। মামলার বাদি মতিঝিল থানা পুলিশের ওই সময়ের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) শরীফ ফারুক আহমেদ।
অভিযোগ পত্র : ঘটনার প্রায় চার বছর পর ২০০৮ সালের ৯ জুন অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে এ মামলা অধিকতর তদন্তের আদেশ হয় ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট। তদন্ত শেষে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়া হয় ২০১১ সালের ২ জুলাই।
অভিযোগ গঠন : প্রথম অভিযোগপত্রের আলোকে অভিযোগ গঠন করা হয় ২০০৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর। সম্পূরক অভিযোগপত্র আমলে নেয়ার পর অভিযোগ গঠন করা হয় ২০১২ সালের ১৮ মার্চ।
আসামির সংখ্যা : ওই ঘটনায় হত্যা, হত্যা চেষ্টা, ষড়যন্ত্র, ঘটনায় সহায়তাসহ বিভিন্ন অভিযোগে একটি মামলা যাতে আসামির সংখ্যা মোট ৫২ জন (ইতোমধ্যে অন্য মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদ- কার্যকর হওয়ায় এখন আসামি ৪৯ জন)। একই ঘটনায় ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনে (সংশোধনী-২০০২) অপর একটি মামলায় আসামি সংখ্যা ৩৮ জন। ওই ঘটনায় হত্যা, হত্যা চেষ্টা, ষড়যন্ত্র, ঘটনায় সহায়তাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আনা মামলায় ৫২ আসামী হচ্ছেন- আসামিদের মধ্যে ৩৮ জন উভয় মামলায়ই আসামী। এর মধ্যে এখন হত্যা মামলায় ৪৯ জন ও বিষ্ফোরক আইনের মামলায় ৩৮ জন আসামি।
বিচার শুরু : ২০১২ সালের ৯ জুলাই। মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয় ২০১৭ সালের ৩০ মে।
সাক্ষী সংখ্যা : এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২২৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেয়। আসামীপক্ষ সাক্ষীদের জেরা করেছে। গত বছরের ৩০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দের জেরা শেষের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। অপরদিকে আসামীপক্ষ ২০ জন সাফাই সাক্ষ্য দেয়। রাষ্ট্রপক্ষ তাদের জেরা করেছে।
যুক্তিতর্ক শুরু : ২০১৭ সালের ২৩ অক্টোবর থেকে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক শুরু করে টানা ২৫ কার্যদিবস ফ্যাক্টস-এর আলোকে যুক্তিতর্ক পেশ করে রাষ্ট্রপক্ষ। এরপর টানা ৮৭ কার্যদিবস আসামিপক্ষ ফ্যাক্টস্ এর আলোকে যুক্তিতর্ক পেশ করেছে। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামীপক্ষ আইনি পয়েন্টে যুক্তিতর্ক পেশ করেছে। যুক্তিতর্ক টানা ১১৯ কার্যদিবস শেষে মামলাটি রায় ঘোষণার পর্যায়ে এসেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ নিয়েছে মোট ২৯ কার্যদিবস আর আসামিপক্ষ নিয়েছে মোট ৯০ কার্যদিবস।

Share
  • 9
    Shares