মোহছেনা মিনা

মৎস্য অধিদপ্তরের “জাটকা সংরক্ষণ জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও গবেষণা” প্রকল্পের আওতায় ২৯ জুন সোমবার সীতাকু- উপজেলা পরিষদে জেলেদের মাঝে বিতরণ করা হয় জাল তৈরির উপকরণ। সীতাকু- উপজেলার সৈয়দপুর থেকে শুরু করে ছলিমপুর পর্যন্ত মোট ৮ টি ইউনিয়নের দরিদ্র জেলেদের মাঝে এই উপকরণ বিতরণ করা হয়।
“জাটকা সংরক্ষণ জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও গবেষণা” প্রকল্পের আওতায় মোট ৪০০ নির্বাচিত জেলে পরিবারের মধ্যে দুই পর্বে উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। প্রথম পর্বে ১৬৫ এবং ২য় পর্বে ২৩৫ টি পরিবার এই সুবিধা পায়।
উক্ত উপকরণ বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তরের পরিচালক নাছির উদ্দিন মোহাম্মদ হুমায়ুন, চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রভাতী দেব, উপজেলা সমবায় অফিসার আ.ন.ম. খালেক নেওয়াজ এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জনাব মো. সেলিম রেজা।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা বলেন, “দরিদ্র জেলেদের কাক্সিক্ষত চাহিদা হলো জাল তৈরির সুতা। মোট ৪০০ জন নির্বাচিত সুফল ভোগীকে প্রায় ১৩ টন জাল তৈরির উপকরণ বিতরণ করা হয়। প্রত্যেককে প্রায় ৩২ কেজি করে ৩ ধরনের সুতা প্রদান করা হয় যার মধ্যে ১৬ কেজি হলো ১২/৩ লাইলন সুতা, ৩ কেজি ৯/২ লালটুরি সুতা এবং ১২.৫ কেজি রকপাতা সুতা।” জাটকা ইলিশ যাতে ধরা না পড়ে সেদিকে খেয়াল রেখে জাল তৈরি করার পরামর্শ প্রদান করেন তিনি।
সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তরের পরিচালক জনাব নাছির উদ্দিন মোহাম্মদ হুমায়ুন বলেন, মৎস্যজীবীদের জন্য সরকার যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে জাটকা আহরণের চার মাস সময়ের জন্য জেলেদের মাঝে ৪০ কেজি করে চাল বিতরণ, আয়বর্ধন মূলক কাজ করার জন্য মৎস্যজীবী মহিলাদের মধ্যে সেলাই মেশিন প্রদান, গরু বাছুর পালন করে সেগুলো বিক্রি করা, মুদির দোকান, সবজী ব্যবসা, সুতা এবং জাল বিতরণ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। কারেন্ট জাল ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ সেখানে যত বড় ফাঁসই থাকুক না কেন। তাই যে পরিমাণ সুতা জেলেদের প্রদান করা হচ্ছে তাতে একটা জেলে অনেক বড় জাল তৈরি করতে পারবে এবং সে অনেক বেশি এবং বড় মাছ ধরতে সক্ষম হবে। এতে করে জেলেদের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং তারা স্বচ্ছলভাবে জীবন যাপন করতে পারবে আর দেশের পুষ্টির চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারবে।
লতিফপুর ইউনিয়নের জেলে দয়ালহরি জলদাস বলেন, “আমার নিজস্ব কোন জাল নেই। সরকার আমাকে যে সুতাগুলো দিয়েছে তা দিয়ে আমরা জাল তৈরি করে সাগরে ভাসাবো। আশা করছি আগের তুলনায় অনেক বেশি মাছ ধরতে পারবো।”
সরকারি সাহায্য সহযোগিতা জেলেদের জীবন যাত্রাকে এখন অনেকটা পাল্টে দিতে সক্ষম হলেও সমুদ্র তীরবর্তী কিছু জেলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানান তারা। যথাযথ কর্তৃপক্ষ অচিরেই তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এমনটাই প্রত্যাশা এইসব জেলেদের।