নীড়পাতা » সম্পাদকীয় » রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ফলপ্রসূ উদ্যোগ দরকার

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ফলপ্রসূ উদ্যোগ দরকার

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে। চিরকাল এই বোঝা বাঙলাদেশ বইতে পারবে না। ইতোমধ্যেই অর্থনৈতিক চাপে দেশের সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মানুষেরা ক্ষুব্ধ। সামাজিকভাবে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলার উদ্ভব ঘটছে। প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ব্যবহার করে বাঙলাদেশের শান্ত ভূমিকে অশান্ত করার চেষ্টা করে চলেছে।
জাতিসংঘের অনুসন্ধানে মিয়ানমারের আরাকান প্রদেশে রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী নিধন ও উচ্ছেদের প্রকৃত তথ্য বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত হয়েছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নির্মূলে ও বিতারণের প্রচেষ্টার ভয়ঙ্কর তথ্যসমূহ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের কর্মকর্তারা সম্প্রতি বাংলাদেশে পালিয়ে আসা উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের কথা বলে যেসব মর্মান্তিক নির্যাতন ও হত্যাকা-ের কথা জানতে পেরেছেন।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তর অভিমত প্রকাশ করেছে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে যা ঘটছে তা মানবতাবিরোধী অপরাধ। গলা কেটে হত্যা, ব্যাপকভাবে রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ, বাড়িঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারাসহ চলছে গ্রামের পর গ্রাম থেকে উচ্ছেদ, স্কুল-মসজিদ-গবাদিপশু-ক্ষেতের ফসল লুণ্ঠন ও ধ্বংসকরণ। মায়ানমারের সেনাবাহিনীর আচরণ বিশ্বব্যাপী ধিকৃত হয়ে চলেছে। এদের বিচারের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীমুক্ত রাখাইন প্রদেশ গড়ার এক নীল নকশা বাস্তবায়ন করে চলেছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। অথচ আরাকান প্রদেশে এই জনগোষ্ঠী যুগ যুগ ধরে বসবাস করে এসেছে। কিছুকাল আগে ‘আরসা’ জঙ্গীগোষ্ঠীর এক হামলায় তিনটি সীমান্ত ফাঁড়িতে নয়জন পুলিশ নিহত হওয়ার পর মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী এই অমানবিক অভিযান পরিচালনা শুরু করে সাধারণ জনগোষ্ঠীর উপর। তার প্রেক্ষাপটেই রোহিঙ্গা বিতারণ ও নির্মূলীকরণের সূত্রপাত হয়েছে। মায়ানমার যদিও এই ধরনের মানবাধিকার হরণের কার্যক্রমের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কিন্তু বিশ্বের কাছে প্রমাণিত হয়েছে মায়ানমার সেনাবাহিনী গণহত্যার অপরাধে অপরাধী। বাংলাদেশে উদ্বাস্তু হয়ে আসা নির্যাতিত রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশুদের সাথে সাক্ষাৎকারে তদন্তকারী জাতিসংঘ সদস্যবৃন্দ এই চিত্রটিই পেয়েছেন।
এখন বিশ্বের সকল দেশই মায়ানমারের নেত্রী নোবেল বিজয়ী অং সান সুচি’র প্রতি অভিযোগের আঙুল তুলেছে। তাঁর নিরবতাকে ধিক্কা দিয়ে চলেছে। বাঙলাদেশ শত উসকানি সত্ত্বেও ধৈর্যের সাথে সংঘাত পরিহার করে রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ তৈরিতে কাজ করে চলেছে। বিশ্ববাসীর মতামত বাঙলাদেশের প্রচেষ্টার সহযোগী হলেও চীন ও রাশিয়া এক্ষেত্রে নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষণ করে চলায় মায়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে দীর্ঘসূত্রতার কৌশল অবলম্বন করেছে। তাদের লক্ষ্য বাঙলাদেশের ভেতরে সঙ্কটের জন্ম দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি বাঙলাদেশকে বিপর্যস্ত করা। বাঙলাদেশের বর্তমান সরকার এ বিষয়ে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। এদেশের মানুষ চায় সরকারের কৌশলী অবস্থান থেকে প্রার্থিত সাফল্য আসুক।

Share