নীড়পাতা » সম্পাদকীয় » হোমিও ওষুধ প্রস্তুতের সন্ধানে

হোমিও ওষুধ প্রস্তুতের সন্ধানে

ওষুধ বিজ্ঞা নের জগতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হয় ১৭৯০ সালে। বিজ্ঞানী হানেমান এ পরিবর্তনের সূচনা করেন। এজন্য তাকে বলা হয় “ঋঅঞঐঊজ ঙঋ ঊঢচঊজওগঊঘঞঅখ চঐঅজগঅঈঙখঙএণ. ১৭৯৬ সালে তিনি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন “ঊঝঝঅণ ঙঘ অ ঘঊড চজওঘঈওচখঊ ঋঙজ অঝঈঊজঞঅওঘওঘএ ঞঐঊ ঈটজঅঞওঠঊ অ চঙডঊজঝ ঙঋ উজটএঝ.
এরপর থেকে এগিয়ে চলে নতুন ওষুধের অগ্রযাত্রা। হানেমানই প্রথম বলেন, ভেষজ বস্তুকে ওষুধ হতে হবে তার অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার গুণে। সাধারণ ভেষজ গুণাবলী থাকলেই কোন বস্তু ওষুধ হিসাবে স্বীকৃত হবে না যতক্ষণ না তার অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার বিকাশ ঘটানো হয়। একটি বস্তুর অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার উন্নয়ন ঘটিয়ে যখন তা সুস্থ মানব দেহে প্রয়োগ করা হবে এবং তার ওষুধী গুণাবলীর প্রকাশ দেখা যাবে তখন তাকে ওষুধ হিসাবে বিবেচনা করা হবে। এমনিভাবে কোন বস্তুর অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা উন্নয়নের প্রক্রিয়াকে বলা হয় ডাইনামাইজেশন বা পোটেন্টাইজেশন। হোমিওপ্যাথিতে ওষুধ হচ্ছে শক্তির আধার। কোন ওষুধ বস্তুর (উজটএ) অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার উন্নয়ন ঘটিয়ে যখন শক্তিকরণ করা হবে তখন তা ওষুধে (গঊউওঈওঘঊ) রূপান্তরিত হবে। এ ওষুধ যখন রোগী দেহে প্রয়োগ করা হবে তখন তা জঊগঊউণ হিসাবে বিবেচিত হবে। এভাবে অনেক সাধারণ ভেষজ গুণাবলীহীন বস্তুও হোমিপ্যাথিতে ওষুধে রূপান্তরিত হয়ে রোগীর জন্য রিমেডি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এক কথায় হোমিওপ্যাথি ভেষজদ্রব্যকে ওষুধে রূপান্তরিত করে রিমেডি হিসাবে ব্যবহার করে।
হোমিওপ্যাথিক ওষুধ প্রস্তুত বিষয়ক মৌলিক নীতিমালার গ্রন্থ অর্গানন অব মেডিসিন। বিভিন্ন ওষুধের প্রস্তুত বিষয়ক প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী হানেমান রচিত ‘মেটেরিয়া মেডিকা পিউরা’ ও ক্রনিক ডিজিজেজ গ্রন্থে বিস্তারিত পাওয়া যায়। লিপজিগের ডা. সি. ক্যাসপারি কর্তৃক তা রচিত ও প্রকাশিত। ১৮৯৭ সালে প্রকাশিত হয় “ফার্মাকোপিয়া অব দ্য আমেরিকান ইনষ্টিটিউট অব হোমিওপ্যাথি’। এটি আমেরিকান ইনষ্টিটিউট অব হোমিওপ্যাথি কর্তৃক গঠিত একটি ফার্মাকোপিয়া কমিটি দ্বারা রচিত ও অতিস ক্ল্যাপ এন্ড সন্স কর্তৃক প্রকাশিত। ১৯০১ সালে আমেরিকান ইনষ্টিটিউট অব হোমিওপ্যাথি কর্তৃক এর দ্বিতীয় সংস্করণ হোমিওপ্যাথিক ফার্মাকোপিয়া অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস’ নামে এবং বর্ধিত আকারে প্রকাশিত হয়। ১৯৩৮ সালে এই ফার্মাকোপিয়া আমেরিকান সরকারের ফুড, ড্রাগস এবং কসমেটিক অ্যাক্ট এর অধীনে অনুমোদন প্রাপ্ত হয়ে অফিসিয়াল ফার্মাকোপিয়ায় রূপান্তরিত হয়। ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত এ ফার্মাকোপিয়ার ৭টি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। হোমিওপ্যাথিক ফার্মাকোপিয়া অব ইন্ডিয়া প্রথম খন্ড প্রকাশিত হয় ১৯৭১ সালে। এদিকে ‘বোরিক এন্ড টাফেল’ কোম্পানী কর্তৃক ১৮৮২ সাল থেকে আমেরিকান হোমিওপ্যাথিক ফার্মাকোপিয়া প্রকাশিত হয়ে আসছে। এ পর্যন্ত এর ১০টি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৪১ সালে এ ফার্মাকোপিয়া আমেরিকান সরকার কর্তৃক অনুমোদন লাভ করে। নিউইয়র্ক হোমিওপ্যাথিক কলেজের অধ্যাপক যোশেফ টি ও কনার কর্তৃক রচিত হোমিওপ্যাথিক ফার্মাকোপিয়া এখনও বাজারে রয়েছে। ১৮৭২ সালে প্রকাশিত হয় জার্মান হোমিওপ্যাথিক ফার্মাকোপিয়া। এটি ভন উইলমার সোয়েব কর্তৃক রচিত ও লিপজিগ থেকে প্রকাশিত। এর কয়েকটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। পশ্চিম জার্মানী সরকার ও অন্য একটি নতুন হোমিওপ্যাথিক ফার্মাকোপিয়া তৈরী করে, যার মাত্র কয়েকটি খন্ড প্রকাশিত হয়েছে। এর ২য় ইংরেজী সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে। ফ্রান্স হোমিওপ্যাথিক ফার্মাকোপিয়া নামে ফ্রান্সে একটি ফার্মাকোপিয়া রয়েছে। ১৯৮৩ সালে এর দশম সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৬২ সালে ভারত সরকার কর্তৃক একটি ফার্মাকোপিয়া কমিটি গঠিত হয় এবং এ কমিটি কর্তৃক ১৯৭১ সালে সর্বপ্রথম ‘হোমিওপ্যাথিক ফার্মাকোপিয়া অব ইন্ডিয়া’ এর প্রথম খ- প্রকাশিত হয়। এ পর্যন্ত এর ৫টি খ- প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া ভারতের হোমিওপ্যাথিক ওষুধ প্রস্তুত কারক প্রতিষ্ঠান এম. ভট্টাচার্য এন্ড কোং কর্তৃক ১৮৯৩ সাল থেকে একটি ফার্মাকোপিয়া প্রকাশিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশী চিকিৎসকদের জন্য সহজ প্রাপ্য ভারতীয় হোমিওপ্যাথিক ফার্মাকোপিয়া। ইংরেজী ভাষায় রচিত বলে এটি আমাদের চিকিৎসক সমাজ সহজেই আত্মস্থ করতে পারেন। তার পরেও কথা থেকে যায়। সত্যিকার হানেমানীয় পদ্ধতির বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক ফার্মাকোপিয়া তৈরী করা সম্ভব।

Share