নীড়পাতা » সম্পাদকীয় » গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি প্রসঙ্গে

গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি প্রসঙ্গে

বাংলা দেশের রপ্তানি আয়ের ৮৩ শতাংশ আসছে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে। বড়ই দুঃখজনক হলো এই পোশাক শিল্প যে সব শ্রমিকের কায়িক পরিশ্রমের বিনিময়ে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে সেই সব গার্মেন্টস শ্রমিকেরা আর্থিকভাবে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। পোশাক শিল্প ছাড়া অন্যান্য সেক্টরে যে সব শ্রমিক কাজ করে থাকেন তাঁরা তৈরি পোশাক শিল্প শ্রমিকদের তুলনায় বেশি বেতন পেয়ে থাকেন। একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা সূত্রে জানা যায় একজন ট্যানারি শ্রমিকের মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৮০০ টাকা, জাহাজ ভাঙা শিল্পে ১৬ হাজার, ওষুধ শিল্পে ৮ হাজার ৫০ টাকা। অন্যদিকে তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকেরা পাচ্ছেন ৫ হাজার ৩০০ টাকা (২০১৩ সালের মজুরি বোর্ডের হিসাবে)। জানা যায় বিগত জানুয়ারি মাসে (২০১৮ইং) তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের মজুরি পুননির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠিত হলেও গত ৮ মাসেও নতুন মজুরি নির্ধারণ এখনো আলোর মুখ দেখেনি।
তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিক সংগঠন শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৬ হাজার টাকা দাবি করেছিল। পরে শ্রমিক সংগঠন ওই দাবি থেকে সরে এসে ১২ হাজার টাকা নির্ধারণে মালিক পক্ষকে বলে। কিন্তু মালিক পক্ষ ৬ হাজার ৩০০ টাকার বেশি দিতে নারাজ। শ্রমিক নেতাদের যুক্তি গত ৫ বছর মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৩২ শতাংশ।
সে অনুযায়ী গার্মেণ্টস শ্রমিকদের বেতন আরো বেশি হবার কথা। সিপিডি’র গবেষণায় বলা হয়েছে প্রত্যেক শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ১০ হাজার টাকার বেশি হওয়া উচিত। বর্তমানে বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষপত্রের মূল্য ঢের বেড়েছে। শ্রমিকদের পরিশ্রমে তৈরি পোশাকের দামও বেড়েছে। সেই অনুপাতে যে সব শ্রমিক তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রম দিচ্ছে তাঁদের মজুরি কেন বাড়ানো হবে না, এটাই এখন প্রশ্ন? শ্রমিকদের কম মজুরি প্রদানের ক্ষেত্রে মালিক পক্ষের যুক্তি হলো পোশাক শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা কম। এখন প্রশ্ন হলো শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা, মান ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য মালিক পক্ষ কি পদক্ষেপ নিয়েছেন? শ্রমিকদের কাজের মান বা দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য মালিক পক্ষের দায়িত্বকে উপেক্ষা করা যায় না।
অক্সফার্মের গবেষণা অনুযায়ী বাংলাদেশে একজন সাধারণ মানুষের খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার জন্য ন্যূনতম মজুরি প্রয়োজন ২৫২ মার্কিন ডলার। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) গবেষণায় দে খা যায় চীনের শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি হোলো ১৫৫ ডলার, ভিয়েতনামের ১০০ ডলার, ভারতের ৭৮ ডলার, কম্বোডিয়ার ১২৮ ডলার, পাকিস্তানের ৯৯ ডলার। অন্যদিকে বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পোশাক রফতানিকারক দেশ বাংলাদেশের শ্রমিকেরা পান ৬৮ ডলার।
কাক ডাকা ভোরেই দেখা যায় চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন অলিগলি থেকে বহু নারী পুরুষ মূল সড়কে এসে গার্মেণ্টস মালিকদের নির্ধারিত বাসে করে বিভিন্ন গার্মেন্টে
রওনা হন, আর সেই সন্ধ্যের পর ফিরে আসেন। প্রায় সকলেই থাকে ছোট্ট একটি ঘরে ৬ থেকে আটজন। কেউ কেউ আবার পরিবারসহ থাকেন। এই যে মানবেতর জীবন যাপন এ থেকে কিছুটা মুক্তি পেতে পারে গার্মেণ্টস মালিক এবং সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয়ের সময় উপযোগী বেতন বৃদ্ধির পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে।

Share