মোহাম্মদ আলী ও ইফতেখারুল ইসলাম

তখন সকাল ১০টা, চান্দগাঁও সরাফত উল্লাহ পেট্রোল পাম্পের সামনে থেকে বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল পর্যন্ত প্রায় অর্ধকিলোমিটার সড়কে দীর্ঘ যানজট। যানবাহনগুলো চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। দুর্ভোগে অতিষ্ঠ যাত্রীরা হাঁসফাস করছেন। সময় যত বাড়ে যানবাহনের সংখ্যাও তত বাড়তে থাকে। দীর্ঘ হতে থাকে যানবাহনের সারিও। নিরুপায় যাত্রীদের অনেকে গাড়ি থেকে নেমে হাঁটা শুরু করলেন। সড়কে এটি একদিনের কোনো চিত্র নয়। নগরীর অত্যন্ত ব্যস্ত বহদ্দারহাটকাপ্তাই রাস্তার মাথা সড়কের একটি চিত্র এটি। টানা আড়াই বছর ধরে সড়কের একপাশ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি এই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার যাত্রী। ওয়াসার পাইপলাইন বসাতে গিয়ে প্রায় চার কিলোমিটার দৈর্ঘ্য সড়কটির এই নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
তবে চট্টগ্রাম ওয়াসা বলেছে, চলতি বছরের মে মাসে পাইপলাইনের কাজের জন্য মাত্র অর্ধকিলোমিটার সড়ক রেখে দিয়ে অবশিষ্ট তিন দশমিক ৩৫ কিলোমিটার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে (চসিক) বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সাথে সড়ক সংস্কারের জন্য চসিককে পাঁচ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
অপরদিকে চসিক বলেছে, ‘এতদিন চট্টগ্রাম ওয়াসা তাদের পানি সরবরাহ লাইন স্থাপনের জন্য সড়কটি খুঁড়েছিল। এরপর কাজ শুরু করেছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি. তাদের কাজ সম্পন্ন হলে পুরো সড়কটির উন্নয়ন সংস্কার কাজ করবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। এই সড়কের জন্য ৭০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মদুনাঘাট প্রকল্পের পাইপলাইন স্থাপনের জন্য ২০১৬ সালের শুরুতে চট্টগ্রামকাপ্তাই সড়কের এক পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে ওয়াসা। এরপর দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে ব্যস্ত সড়কে পাইপলাইন বসানোর কাজ চলে। এর মধ্যে ফ্লাইওভারের ্যাম নির্মাণের জন্য ২০১৬ সালের অক্টোবরে বহদ্দারহাট মোড় থেকে টার্মিনালমুখী সড়কের এক পাশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে বহদ্দারহাটমুখী যানবাহন বাস টার্মিনাল হয়ে নতুন চান্দগাঁও থানার সামনে দিয়ে চলাচল করে আসছে। ২০১৭ সালে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের নবনির্মিত ্যাম্পটি খুলে দেওয়া হলে যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি নেমে আসে। কিন্তু এক মাস মোড়ে স্বাভাবিক যানবাহন চলাচলের পর ওই এক পাশে পুনরায় যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় চট্টগ্রাম ওয়াসা। মোড়ে কালভার্টে আন্ডারক্রসিং পাইপলাইন বসাতে সংস্থাটি সময় নিয়েছিল দেড় মাস। কিন্তু ওই দেড় মাসের স্থলে মাস অতিবাহিত হলেও কাজ শেষ করতে পারেনি ওয়াসা। ফলে প্রায় টানা আড়াই বছর ধরে দুর্ভোগের মধ্যে যাতায়াত করছেন আরাকান সড়কের যাত্রীরা।
ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ির কারণে বহদ্দারহাটকাপ্তাই রাস্তার সড়ক বর্তমানে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এক পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বন্ধ থাকা অংশটি পরিণত হয়েছে বাস, ট্রাক, টেম্পো স্ট্যাে। কিছু অংশে বালি মজুদ রেখে ব্যবসা করা হচ্ছে। খোঁড়াখুঁড়ির কারণে কাদায় একাকার সড়কটি যেন ধানের চাষযোগ্য জমি। যে অংশটি দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে সেখানে কাদায় একাকার। সবচেয়ে বেকায়দায় পড়েন যারা সড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে চলাচল করেন, কিংবা প্রয়োজনীয় কাজে সড়ক পারাপার হন তারা। যানবাহন চলাচলের সময় কাদা ছিটকে পথচারীদের কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। পা পিছলে পড়ে যান।
থাকায় সড়কের অপর পাশ দিয়ে উভয়দিকের যানবাহন চলাচল করছে। সিঙ্গেল রাস্তা দিয়ে উভয় দিকের যানবাহন চলাচলের কারণে প্রতিদিন যানজট লেগে থাকছে। কারণে পুরাতন চান্দগাঁও থানার সরাফত উল্লাহ পেট্রোল পাম্প থেকে বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল, চান্দগাঁও আবাসিকের প্রবেশ পথের সামনে, কালুরঘাট সিএন্ডবি, বাহার সিগনাল কাপ্তাই রাস্তার মাথায় দীর্ঘ যানজট লেগে থাকছে।
সিটি মেয়র নাছির উদ্দীন পূর্বকোণকে বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসা, কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানিসহ যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান রাস্তা কাটছে, তারাও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তাই তাদেরকে বাধা দেয়ার সুযোগ নেই। এই সড়কে কর্ণফুলী গ্যাসের কাজ সম্পন্ন হলে তাদেরকে নিয়ে বসব। বর্তমানে সড়কটি যে অংশে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে সেটির বাস্তব অবস্থা দেখব। যদি খুলে দেয়ার সুযোগ থাকে অবশ্যই খুলে দেব। এছাড়া একনেকের অনুমোদন পাওয়ার পর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়কটির উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে

Share
  • 356
    Shares