নিজস্ব সংবাদদাতা রামগড়

খাগড়াছড়ির রামগড়ে গত বুধবার রাতে একটি প্রাইভেট কার আগুনে পুড়ে গেছে। আহত গাড়ির চালক অপর আরোহী অভিযোগ করেছেন, কতিপয় দুর্বৃত্ত তাদের গাড়িটি থামিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং দুজনকে মারধর করে আহত করেছে। পুলিশ বলেছে, অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত পৌনে ৯টার দিকে জালিয়াপাড়া সড়কের বনবীথি বাগান এলাকায় মাটিরাঙ্গা থেকে ছেড়ে আসা একটি প্রাইভেট কার (নম্বরময়মনসিংহ ০২০১১৮) আগুনে পুড়ে যায়। খবর পেয়ে রামগড় ফায়র সার্ভিস স্টেশনের দমকলকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এরআগেই গাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। পরে বিজিবি রামগড় থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে যায়। প্রাইভেট কারের আরোহী মাটিরাঙ্গার ব্যবসায়ী বাঙালি ছাত্র পরিষদের মাটিরাঙ্গা পৌর কমিটির আহবায়ক মো. জালাল উদ্দিন জানান, কতিপয় মুখোশপড়া দুর্বৃত্ত বনবীথি বাগান এলাকায় গাড়িটি থামিয়ে চালক মো. রায়হান তাকে মারধর করে। এসময় তার পকেটে থাকা ১৫ হাজার টাকা স্মার্ট ফোন সেট ছিনিয়ে নেয়। পরে দুর্বৃত্তরা প্রাইভেট কারটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুদূর দৌড়ে পালিয়ে এসে তারা একটি অটোরিক্শা করে প্রথমে রামগড় থানায় ঘটনাটি জানিয়ে চিকিৎসা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। তিনি আরও বলেন, গাড়িটির মালিক মাটিরাঙ্গার নুরুল ইসলাম। গাড়িটি মেরামত করার জন্য ফেনীতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। রামগড়ের অটোরিক্শা চালক রায়হান মাটিরাঙ্গা থেকে প্রাইভেট কারটি চালিয়ে আনছিলেন। জালাল আরও জানান, রায়হান বাঙালি ছাত্র পরিষদের রামগড় শাখার সেক্রেটারি। দোকানের মালামাল ক্রয় করতে এবং নিজের চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তিনি ওই গাড়িতে করে ফেনী যাচ্ছিলেন। গাড়িতে তার নগদ এক লক্ষ টাকাও ছিল বলে তিনি জানান।
রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারেক মো. আব্দুল হান্নান বলেন, খবর পেয়ে তিনি ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। গাড়ি থামিয়ে আগুন লাগানো এবং চালক আরোহীকে মারধর করার অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। তারা গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা করেনি। অভিযোগ পেলে পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে। এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে রামগড় পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ শাহজাহান কাজী রিপন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জালাল রায়হানকে দেখতে যান। তিনি তাদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন

Share