নীড়পাতা » সম্পাদকীয় » চাকরিতে প্রবেশের বয়স

চাকরিতে প্রবেশের বয়স

ব্রিটিশ-ভারতে সিভিল চাকরিতে প্রবেশের সর্বনিম্ন বয়স ছিল ১৮ বছর। পাকিস্তান আমলে কয়েক দফা বয়স বৃদ্ধি করা হয়। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর পুনরায় সর্বোচ্চ বয়স বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ব্যাতিরেকে অন্যদের ক্ষেত্রে চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়স ৩০। এ ত্রিশ বছর বয়সসীমার কোনো বিজ্ঞানভিত্তিক যৌক্তিকতা নেই। এক্ষেত্রে অনেক যুক্তি দেখানো যাবে যা পাল্টা যুক্তির অবতারণা করবে।
মিডিয়ার খবর থেকে জানা গিয়েছে যে, ইদানীং চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধির দাবি জোরালো হচ্ছে। সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে প্রবেশের সীমা বৃদ্ধির দাবি বেশ আলোচিত। অনেকে চান সর্বোচ্চ সীমা ৩৫ বছর করতে। চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ সীমা ৪০ বছর নির্ধারণ করা হলে একজন কর্মী ৪০ বছর বয়সে চাকরি শুরু করলে ১৯ বছর চাকরি করে ৫৯ বছর বয়সে অবসরে যাবেন। সরকার শ্রম আইন ২০০৬-এর আওতাধীন কর্মীদের অবসর বয়স ৬০ বছর নির্ধারণ করেছে। সরকারি বিধিবদ্ধ সেক্টর করপোরেশনের কর্মীদের জন্যও অবসর বয়স ৬০। ৪০ বছর দায়িত্ব পালনের উৎকৃষ্ট সময়। এ সময়ে একজন মানুষ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে সক্ষম।
অনেক সময় যথেষ্ট যোগ্য চাকরিপ্রার্থীর বিভিন্ন কারণে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩০ অতিক্রম করে যায়। যেমন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট, বিদেশে গিয়ে ফেরত আসা, বেসরকারি চাকরিতে ঢুকে পরবর্তী সময়ে সরকারি চাকরি করতে আগ্রহী হওয়া ইত্যাদি। চাকরিতে প্রবেশের সীমা ৩০ বছর হওয়াতে তারা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আবেদন করতে পারেন না। এমন অবস্থায় সরকার যোগ্য লোকের সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। অন্যত্র চাকরির পর সরকারি চাকরিতে এলে লোকে নতুন নতুন কৌশল, ধ্যান-ধারণা নিয়ে আসে এবং সরকারি চাকরির পরিবেশ উন্নত করতে সহায়তা করতে অবদান রাখে।
২৫ থেকে ৪০ বছর বয়সের ভিন্ন ভিন্ন লোক চাকরিতে প্রবেশ করলে পদসোপানের বিভিন্ন স্তরে তারা অবসরে যাবেন। একেবারে উচ্চ স্তরে নয়, বিভিন্ন স্তরে শূন্যতা হবে। পদোন্নতির মাধ্যমে সেগুলো পূরণ করা যাবে। এসব বিবেচনায় সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে সর্বোচ্চ সীমা ৪০ বছরে নির্ধারণ করা যেতে পারে।

মো. আশরাফ হোসেন
ঢাকা

Share