গ্যাস সংকটের কারণে এতোদিন চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সার কারখানা বন্ধ রেখে আবাসিকে গ্যাস সরবরাহ করতো কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল)।-বাংলা নিউজ
এবার এলএনজি (তরলায়িত প্রাকৃতিক গ্যাস) তিনগুণ অর্থ্যাৎ ১০০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন বাড়ায় শিল্পকারখানা যেমন চালু থাকছে তেমনি আবাসিকেও গ্যাসের চাপ বাড়ছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে পুরোদমে চট্টগ্রামবাসী এ সুবিধা ভোগ করার কথা রয়েছে। কেজিডিসিএল সূত্র জানায়, মহেশখালী দ্বীপের অদূরে সাগরে অবস্থানকারী ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট থেকে সোমবার এলএনজি সরবরাহ তিনগুন বাড়ানো হচ্ছে। এতোদিন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। সোমবার থেকে তা বাড়িয়ে তিনগুন অর্থাৎ ৩০০ মিলিয়ন করা হচ্ছে। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, কাতার থেকে একটি মাদার ভ্যাসেল (বড় জাহাজ) এক লাখ ৩৩ হাজার ঘনমিটার এলএনজি নিয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর মহেশখালী দ্বীপের মাতারবাড়িত উপকূলে ভিড়েছে। আরও দুটি জাহাজ কাতার থেকে এলএনজি নিয়ে রওয়ানা হয়েছে। সূত্র যায়, গ্যাসের অভাবে শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ ছিল। এলএনজি সরবরাহ শুরুর পর এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র ৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেয় কেজিডিসিএল। এরপর থেকে এই কেন্দ্রে আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। গত ৯ সেপ্টেম্বর শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২০৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাউজান তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে রোববার থেকে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে কেজিডিসিএল। রোববার এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস দেওয়া হয়েছে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট। ধীরে ধীরে গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পেলে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রায় ১৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। কেজিডিসিএলের জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশন) প্রকৌশলী মনজুরুল হক জানান, এলএনজিবাহী নতুন জাহাজ আসার পর থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়ে চট্টগ্রামে। প্রথম দিকে ১০০ মিলিয়ন বাড়ানো হলেও সোমবার থেকে তিনগুণ অর্থাৎ ৩০০ মিলিয়ন বাড়ছে। ফলে বন্ধ থাকা বিদ্যুৎ ও সারকারখানা পুরোদমে চালু হবে।

Share
  • 6
    Shares