নীড়পাতা » শেষের পাতা » আজ ভারত-পাকিস্তান মহারণ

সাফ সেমিতে মুখোমুখি মালদ্বীপ-নেপাল

আজ ভারত-পাকিস্তান মহারণ

পূর্বকোণ স্পোর্টস ডেস্ক

গ্রুপ পর্বেই স্বাগতিকদের বিদায়ে সাফ ফুটবল টুর্নামেন্টের সব আকর্ষণই মাটি হয়েছে বাংলাদেশের দর্শকদের। আজ বুধবার সাত জাতির সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের দুটি সেমি-ফাইনাল ম্যাচ। যার একটিতে মুখোমুখি নেপাল ও মালদ্বীপ। অন্যটিতে মুখোমুখি ভারত ও পাকিস্তান। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের প্রথম সেমি ফাইনালে বিকাল চারটায় খেলবে নেপাল ও মালদ্বীপ। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান। যে কোনো খেলাতেই ভারত-পাকিস্তান লড়াই মানেই আলাদা উত্তেজনা। ক্রিকেট কিংবা হকিতে দুই দলের ম্যাচ মানেই তো বারুদে উত্তাপ। ফুটবলে সেই উত্তাপটা তেমন নেই বললেই চলে। যে কোনো আসরের সাফল্য বিচারে পাকিস্তানের চেয়ে ভারত যোজন যোজন এগিয়ে। কিন্তু তারপরও সব কথার শেষে ম্যাচটা, ভারত-পাকিস্তানের। প্রতিবেশি দুই

দেশের রাজনৈতিক বৈরিতা থেকে শুরু করে খেলার বাইরের অনেক কিছুই ঢুকে যায় সেখানে। আর একারণেই সাফে দুই দলের লড়াইটিও আকর্ষণ ছড়াচ্ছে। সাফ ফুটবলে রেকর্ড সাত বারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। সেখানে অন্য কোনো দলই এক বারের বেশি আসরটির ট্রফি ছুঁয়ে দেখতে পারেনি। পাকিস্তান তো রার্সানআপও হতে পারেনি একবারও। তাদের সেরা সাফল্য ১৯৯৭ আসলে তৃতীয় স্থান অর্জন। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইও পার্থক্যটা বুঝিয়ে দিচ্ছে। সবমিলে দুই দলের ২৩ বারের দেখায় ১৪টিতেই জিতেছে ভারত। ড্র ৬টিতে। পাকিস্তান জিতেছে মাত্র ৩টি ম্যাচ। সাফের সেমি ফাইনালে জায়গা করে নিতে পাকিস্তানকে তাই দুর্দান্ত কিছু করা ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু সেটা কতটা সম্ভব তাদের পক্ষে? তিন বছর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ছিল না পাকিস্তান জাতীয় দল। সেই নিষেধাজ্ঞা শেষে দেশটি প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে এই সাফেই। নিজেদের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে নেপালকে তারা ২-১ গোলে হারিয়ে শুরু করে টুর্নামেন্ট। তবে বাংলাদেশের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় দ্বিতীয় ম্যাচে। এরপর ভুটানকে হারিয়ে দলটি জায়গা করে নেয় সেমি ফাইনালে। তিন বছর জাতীয় দলের কোনো খেলা না থাকায় র‌্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তানের বর্তমান অবস্থান ২০১। ভারত দক্ষিণ এশিয়ার গ-িতে পড়ে থাকার চিন্তা অনেক আগেই ছুঁড়ে ফেলেছে। র‌্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের অবস্থান একশ’র (বর্তমান অবস্থান ৯৬) মধ্যে নিয়ে গেছে দলটি। সাফের আসরে তাই তারা পাঠিয়েছে বয়স ভিত্তিক দলকে। ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলটিকে যে হেলা ফেলার উপায় নেই তা তারা বুঝিয়ে দিয়েছে ইতিমধ্যে। ‘বি’ গ্রুপে শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ যেমন কোনো পরীক্ষাই নিতে পারেনি ইংলিশ কোচ কনস্ট্যানটাইনের দলের। দুটি দলই হেরেছে ২-০ গোলে। ভারতের তারুণ্যের শক্তি বোঝাতে আরেকটা উদাহরণ টানা যেতেই পারে। দেশটির অনূর্ধ্ব-২০ দল ক’দিন আগে হারিয়েছে আজেন্টিনার অনূর্ধ্ব-২০ দলকে।
অন্যদিকে পাকিস্তান ডাগ আউটে যে আছেন এক ব্রাজিলিয়ান। দলটির কোচ আন্তেনিও নোগেইরার তুনে নিশ্চয়ই ভারত বধের কৌশল জমা পড়ে আছে। পাকিস্তান আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিষিদ্ধ থাকলেও তাদের বেশ ক’জন ফুটবলার খেলে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। মোহাম্মদ আলি, ইউসুফ বাটরা আশিক করুনিয়ান, মানবির সিংদের আজ ভালো পরীক্ষা নেবে এটা নিশ্চিত। ঢাকার মাঠেই ২০০৩ সালে ভারতকে হারিয়েছিল পাকিস্তান। নিজেদের ইতিহাতে ভারতের বিপক্ষে যা তাদের দ্বিতীয় জয়। তৃতীয় জয়টি পায় তারা ২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে। প্রথম জয়টি ছিল ১৯৫৯ সালে এএফসি এশিয়ান কাপে। নিজেদের পয়মন্ত ভেন্যুতে আজ তাই চতুর্থ জয়টা তুলে নিতে যায় পাকিস্তান।

Share