নিজস্ব প্রতিবেদক

নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন যে শেখ হাসিনার রাজনীতি হলো উন্নয়নের রাজনীতি আর খালেদা জিয়ার রাজনীতি হলো ধ্বংসের রাজনীতি, মানুষ পুড়িয়ে হত্যার রাজনীতি। বাংলাদেশে এই রাজনীতি চলবে না। বিএনপিজামাত মহাপাপীর দল, পাপীদের দল দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা চলতে পারে না, দেশের উন্নয়নের জন্য শেখ হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় নিয়ে আসতে হবে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে মানুষ হত্যাকারীদের বিচারের জন্য স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল গঠনের আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বেটার্মিনালের জন্য অধিগ্রহণকৃত ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ জেলা প্রশাসনকে ৩৫২ কোটি ৬২ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। উপলক্ষে রেডিসন ব্লু মোহনা হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বন্দর চেয়ারম্যান কমডোর জুলফিকার আজিজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিটি মেয়র নাছির উদ্দিন, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য সাংসদ এম আবদুল লতিফ, সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন এবং চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম। নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, বিএনপি নির্বাচনকে ভয় পায়। তাই পালিয়ে যাওয়ার জন্য পথ খুঁজছে। কারণ, মাঠে যখন নামবেন তখন গাড়ি পোড়ানো, মানুষ হত্যার জবাব দিতে হবে। খালেদা জিয়া মানুষ পুড়িয়ে ক্ষমতায় আসতে চেয়েছিলেন। তাঁর মিথ্যাচার দেশবাসীর জানা। তার নেতৃত্বে ২০১৫ সালে পেট্রোলবোমা হামলা হয়েছে। মাঠে নামলে এসবের জবাব দিতে হবে। পঁচাত্তরের খুনি, যুদ্ধাপরাধী, বাংলা ভাইদের ক্ষমতায় দেখতে চায় না মানুষ। তাই শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে হবে। শেখ হাসিনার জন্য নয়, আওয়ামী লীগের জন্য নয়, দেশের জন্য। এই দেশের জনগনের জন্য শেখ হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় নিয়ে আসতে হবে। তাই আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার প্রার্থী যিনি হবেন তাঁকে নির্বাচিত করতে হবে।
শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর মতো সাহস রাখেন উল্লেখ করে শাজাহান খান বলেন, তিনি দেশের মানুষকে ভালোবাসেন। পদ্মা সেতু করছেন প্রধানমন্ত্রী। বিএনপি নেত্রী বলেছিলেন, ‘জোড়াতালি দিয়ে সেতু হচ্ছে। আমি আশা করব বিএনপি নেত্রী কর্মীরা সেতু দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে যাবেন না। আপনাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করে রাখব।তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর অর্থনীতির হৃদস্পন্দন, এটাকে আরও সচল করতে হবে। শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দরসহ বিভিন্ন বন্দর উন্নয়নের জন্য।
নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান পরে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেনের কাছে। ৬৬ দশমিক ৮৫ একর ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির জন্য এই অর্থ দেয়া হয়।
বিশেষ অতিথি সিটি মেয়র নাছির উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের, দাবি ছিল বেটার্মিনাল নির্মাণ। এটি আজ আলোর মুখ দেখছে। বন্দরের সক্ষমতা ফুরিয়ে যাচ্ছে। বেটার্মিনাল সেই সংকট দূর করছে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য নয় দেশের জন্য অগ্নিপরীক্ষা।
বিশেষ অতিথি সাংসদ এম আবদুল লতিফ বলেন, ব্যবসায়ীদের জন্য আজ ঈদের দিন, বেটার্মিনাল হচ্ছে। একেকটি টার্মিনাল একেকটি বন্দর। তিনটি টার্মিনাল নির্মাণ, ভারী যন্ত্রপাতি সংগ্রহ মিলে সরকারের নৌমন্ত্রীর সাফল্য অনেক বেশি। ২৫ বছর চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা নিয়ে পড়ে ছিলাম। দীর্ঘদিন বন্দরের উন্নয়ন হয়নি, যা সাধারণ মানুষ এমনকি রাজনীতিকরাও উপলব্ধি করেনি। তিনি বলেন, বন্দর ছাড়া অর্থনীতি যারা চিন্তা করে তারা বোকার স্বর্গে বাস করে। ব্যবসার প্রধান শর্ত সময়। পায়রা বন্দর হচ্ছে। মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দর হচ্ছে।
সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, বেটার্মিনাল বাস্তবে রূপ নিচ্ছে জমির মূল্য বাবদ চেক হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে। আমরা আতঙ্কে ছিলাম। পাঁচ বছরে বন্দরকে দ্বিগুণ সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। তাই বেটার্মিনালের প্রয়োজন। জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার কাজে বিশ্বাস করে তা আজ প্রমাণিত।
চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, বেটার্মিনাল বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য মাইলফলক। আজকের দিনটি দেশের জন্য স্মরণীয়। চট্টগ্রাম বন্দরের দ্বিতীয় ইউনিট বেটার্মিনাল। সংসদ সদস্য এমএ লতিফের মস্তিষ্কপ্রসূত এই টার্মিনাল। অর্থনীতি চাঙা করতে বেটার্মিনালের বিকল্প নেই।
স্বাগত বক্তব্যে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর জুলফিকার আজিজ বলেন, দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র বন্দর। তিনটি টার্মিনালে ১৯টি জেটি, তেলের জন্য ৪টি ডলফিন জেটি। তিনি বলেন, বেটার্মিনালে প্রাথমিকভাবে লাখ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হবে। পর্যায়ক্রমে তা ৩০ লাখে উন্নীত হবে। তাতে জাহাজের গড় অবস্থান কমে যাবে। যানজটমুক্ত নগর গড়ে তোলা সহজ হবে। বন্দরের আয় বাড়বে। ২০১৯ সালের মাঝামাঝি টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি

Share
  • 1
    Share