নীড়পাতা » সম্পাদকীয় » পরিবেশ দূষণজনিত মৃত্যু ও আমাদের দায়

পরিবেশ দূষণজনিত মৃত্যু ও আমাদের দায়

তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটায় বিশ্বে আবহাওয়ার মারাত্মক বিপর্যয় শুরু হয়েছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। পরিবেশদূষণ বর্তমানে মারাত্মকভাবে গ্রাস করছে বাংলাদেশকে। বিজ্ঞান সাময়িকী ‘ল্যানসেট’ সে কথাই বলেছে। ল্যানসেট বলছে ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাপী ৯০ লাখ মানুষ দূষণের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ মৃত্যু ঘটেছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে, যেখানে এক চতুর্থাংশ ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ ছিল দূষণজনিত। প্রায় দুই বছর ধরে ১৮৮টি দেশের ওপর গবেষণা ও জরিপ চালানো হয়েছে বলে ল্যানসেট জানিয়েছে। এ জরিপের তালিকায় বাংলাদেশের স্থান প্রথমে রয়েছে, যা আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
‘দূষণের চ্যালেঞ্জ পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের থেকেও বেশি। দূষণ জনস্বাস্থ্যের নানা দিকের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে’, এমন মন্তব্য করেছেন এই গবেষণায় জড়িত বিজ্ঞানী প্রফেসর ফিলিপ ল্যান্ড্রিগান। বাংলাদেশের বায়ুদূষণ সমস্যা নতুন কিছু নয়। অনেক কারণ রয়েছে এই বায়ুদূষণে। বায়ুদূষণের মধ্যে রয়েছে বাইরে থেকে আসা গ্যাস, বাতাসের দূষণ-কণা এবং ঘরের ভেতর কাঠ ও কাঠকয়লা জ্বালানোর ধোঁয়া।
বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকীটি তাদের প্রতিবেদনে আরো বলেছে, পরিবেশদূষণে বায়ুদূষণের পর যেটি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি সৃষ্টি করছে সেটি হলো পানিদূষণ। যা থেকে মৃত্যু হয়েছে ১৮ লাখ মানুষের। বাংলাদেশে পানিদূষণের বড় যে কারণটি তারা চিহ্নিত করেছে তা হলো আর্সেনিক। এখনো সারা দেশে সাড়ে পাঁচ কোটির বেশি মানুষ আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে বলা হয়েছে। যদিও বর্তমানে আর্সেনিকের ওপর সচেতনতা অনেক কমে গেছে। এ সমস্যাটি আমাদের ভাবিয়ে তুলছে।
বিশ্বব্যাপী কর্মক্ষেত্রে দূষণ থেকে মারা গেছে ৮ লাখ মানুষ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে অপেক্ষাকৃত দরিদ্র দেশগুলোতে। তারা আরো বলেছে, ধনী দেশগুলোর দরিদ্র জনগোষ্ঠী সবচেয়ে ক্ষতির শিকার হচ্ছে। দু’বছর ধরে চলা এই গবেষণায় বলা হয়েছে দূষণের সঙ্গে দারিদ্র্য, অস্বাস্থ্য এবং সামাজিক অবিচারের বিষয়গুলোও অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।
প্রতিবেদনটি ২০১৫ সালের, বর্তমানে ২০১৮ সাল। বোধকরি দূষণের মাত্রাটা কমেনি বরং বেড়েছে। যদিও বিশ্বের অনেক দেশ জলবায়ুর ক্ষতিপূরণ মোকাবেলায় তহবিল গঠন করেছে। তথাপি পরিবেশের কতটুকু উন্নয়ন হচ্ছে সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বাংলাদেশের পরিবেশদূষণের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরে প্রতিনিয়ত নানাভাবে শব্দ ও বায়ু দূষণ হচ্ছে। এতে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। বাড়ছে রোগবালাই। হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ছে। কারণে অকারণে বৃক্ষনিধন, কৃষিকাজে রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার, নদীতে শিল্প কারখানার বর্জ্য ফেলা, ট্যানারির অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, যত্রতত্র ইটভাটা স্থাপন বাংলাদেশের এখন সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ল্যানসেটের প্রতিবেদনটি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে আমাদের। পরিবেশদূষণের সমস্যা চিহ্নিত করে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে খুব তাড়াতাড়ি। তা না হলে একদিন এদেশের ১৬ কোটি মানুষকেই দূষণের কারণে মৃত্যুবরণ করতে হবে।

মো. আবু তাহের মিয়া
কারমাইকেল কলেজ, রংপুর।

Share
  • 1
    Share