নীড়পাতা » সম্পাদকীয় » গাড়ির হর্ণের শব্দ নিয়ন্ত্রণে আনুন

গাড়ির হর্ণের শব্দ নিয়ন্ত্রণে আনুন

দে শে যা ন বা হ র্ণের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এর যৌক্তিক কারণও রয়েছে। বাড়ছে মানুষ, তাদের জন্য প্রয়োজন হচ্ছে যানবাহন।
যে কারণে প্রতিদিন সড়ক, মহাসড়কে ঢুকছে অসংখ্য নতুন নতুন যানবাহন। কিন্তু যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে হর্ণের মাত্রাও। হর্ণের উচ্চমাত্রার শব্দে পথ চলা দায়। জরিমানার বিধান থাকলও হাইড্রোলিক হর্ণের শব্দের দূষণ বেড়েই চলেছে। ইতিমধ্যে হাইকোর্ট গাড়িতে হাইড্রোলিক হর্ণের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু তারপরও অপতৎপরতা কমেনি।
আকস্মিক হর্ণের শব্দ একজন মানুষকে বধির কিংবা বেহুঁশ করে দিতে পারে। তাছাড়া পুলিশের কাছে শব্দ পরিমাপের কোন যন্ত্র না থাকায় তারাও বুঝতে পারেন না কোন গাড়ি অতিরিক্ত মাত্রার ভেঁপু বাজাচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শব্দ দূষণ যেকোন মানুষের জন্য ক্ষতিকর হলেও এতে শিশুরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়াও ট্রাফিক পুলিশ, রিক্সা বা গাড়ী চালক, রাস্তার নিকটস্থ শ্রমিক বা বসবাসকারী মানুষ অধিকহারে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। মানুষের শ্রবণ সীমার স্বাভাবিক মাত্রা ৪৫ ডেসিবল। যার বেশি হলে শব্দ দূষণে পরিণত হয় যা মানুষের শরীরে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করে। শব্দ দূষণের ফলে মানুষের শ্রবণক্রান্তি এবং সর্বশেষ বধিরতা পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া যে সকল রোগ হতে পারে তার মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, কণ্ঠনালীর প্রদাহ, আলসার, মস্তিষ্কের রোগ, কাজ করার ক্ষমতা হ্রাস, বদমেজাজ বা খিটখিটে মেজাজ, ক্রোধ প্রবণতা, ¯œায়ুবিক দুর্বলতা, রক্তনালীর সংকোচন এবং হার্টর সমস্যা অন্যতম।
রাস্তায় হর্ণের আওয়াজে মনে হয় গাড়ী চালকগণ হর্ণ বাজানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। বিনা প্রয়োজনে হরহামেশাই হর্ণ বাজানো হচ্ছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বা সংরক্ষিত এলাকা যেমন মসজিদ, মন্দির, হাসপাতালের পাশের রাস্তাগুলোতেও হর্ণ বন্ধ করে না চালকগণ। অথচ হর্ণের বিকট আওয়াজে যে কারোরই ক্ষতি হতে পারে। গাড়ীতে হাইড্রোলিক হর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও তা মানার সময় নেই চালকদের।
ভুক্তভোগীদের মতে, শব্দ দূষণের ফলে তারা বিভিন্ন সমস্যায় পড়ছেন প্রতিদিন। হঠাৎ করে হর্ণ বাজানোর ফলে অনেকেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। শব্দ দূষণ সমস্যার নামমাত্র জরিমানা থাকলেও তাও মানা হচ্ছে না। যে কারণে শব্দ দূষণকারীরা আরো উৎসাহ পাচ্ছে। শব্দ দূষণ তথা গাড়ির হর্ণের আওয়াজ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী।
পাশাপাশি কঠোর আইন ও জরিমানার পরিমাণ বৃদ্ধির ব্যবস্থা করতে হবে। চালকদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। বহির্বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে হর্ণ বাজানোর ব্যাপারে কঠোরতা রয়েছে। সেখানে হর্ণের যন্ত্রণা নেই।
আমাদের দেশে হর্ণ বাজানো আইনত যেখানে নিষেধ সেখানে আমরা দেখতে পাই গাড়ি সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকলে বা যানজটে দাঁড়িয়ে থাকলেও অনেক চালক অহেতুক হর্ণ বাজাচ্ছেন। এতে রাস্তায় সুস্থভাবে দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব হচ্ছে না।
এই সমস্যা থেকে উত্তরণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ট্রফিক পুলিশদের উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলতে হবে এবং গাড়ির হর্ণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর নির্দেশনা দিতে হবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে পরিচালিত অভিযানকে গতিশীল করতে হবে।
মূলতঃ সচেতনতা ও আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে গাড়ির হর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ বিভিন্ন জরুরী স্থানে হর্ণ বাজানো নিষিদ্ধ করতে হবে। গাড়ি চালকদের মাঝে শব্দদূষণের ক্ষতিকর দিক সম্পর্ক সচেতনতা বাড়াতে হবে। জনগণের মাঝেও সচেতনতা বাড়াতে হবে। সকলেই যদি সচেতন হয় তাহলে শব্দ দূষণ তথা গাড়ির হর্ণ নিয়ন্ত্রণ কঠিন কিছু হবে না। সরকারের নজরদারি ও আমাদের সকলের সহযোগিতা এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

লেখক : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক।

Share