সৈয়দ রশিদ আলম

ভাতে-মাছে বাঙালি এই বহুল প্রচারিত কথাটি এক সময় বারবার বলা হতো লোকসংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে দেশীয় মাছের ওপর চাপটা এতই বেড়ে গেছে যে, এখন সারা দেশে চাষ করা মাছ ছাড়া দেশীয় মাছ খুব একটা দেখা যায় না। হারিয়ে গেছে অনেক দেশীয় মাছ।
শোল: অতি জনপ্রিয় এই মাছটি এখন আর সারা মাছের বাজার খুঁজলেও খুব একটা পাবেন না। যাই পাবেন তাও চাষ করা। খইলশা: সবার অতি প্রিয় এই মাছটি এখন আর সারা দেশে খুব একটা দেখা যায় না। বিলুপ্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে মাছটি পৌঁছে গেছে।
টাকি: এই মাছটি কম বেশি পাওয়া গেলেও তাও অতি সামান্য। গ্রামাঞ্চলে এখনো টাকি মাছ পাওয়া গেলেও শহরে খুবই দুর্লভ।
পুঁটি: আমাদের সবার অতিপ্রিয় এই মাছটি বাজারে গেলে আর দেখতে পাওয়া যায় না। দামের দিক দিয়ে এই মাছটির দাম এতই বেশি ইচ্ছা করলেও কিনতে পারবেন না।
সরপুঁটি: অতি মর্যাদাশালী এই মাছটি এখন বিলুপ্তির পর্যায়ে রয়েছে।
মাগুর: দেশীয় মাগুর হিসেবে যে মাছটি আপনি কিনছেন সেটি মূলত চাষ করা। অর্থাৎ প্রিয় মাগুর মাছটিও বিলুপ্তির পথে।
শিং: অসুস্থতার সময় দেখা যেত রোগীকে এই মাছটি খাওনো হতো। এখন এর পরিবর্তে হাইব্রিড শিং মাছ উৎপাদন হচ্ছে।
চিতল: দেশি চিতল এত বেশি জনপ্রিয় ছিল যে, গল্প-উপন্যাসে এই মাছটির উপস্থিতি দেখা যেত। কিন্তু এখন নদীর চিতলের পরিবর্তে চাষ করা চিতল মাছ আমাদের কিনতে হচ্ছে।
বাঘাইড়: সোমেশ্বরী নদীতে এই মাছ সবচেয়ে বেশি পাওয়া যেত। এখন এটি অনেকটা স্বপ্নের মতো।এছাড়া যে সব মাছ চূড়ান্ত বিলুপ্তির পথে রয়েছে এর কয়েকটি হচ্ছে রিটা, মেনি, ফলি, রানী, গইন্যা, গজার, মলা, চেলা, চান্দা, চাপিলা, পাবদা, বইচা, তারা বাইম, টেংরা, গোলমা, কাইক্কা, ভাটা, দর্গি, তেলাপিয়া, বাইম, সুবনখোরা।
প্রাচীন কাল থেকে বাংলাদেশে দেশীয় মাছের চাহিদা ছিল। এর পরিবর্তে এখন হাইব্রিড অথবা পুকুরের চাষ করা মাছ বাজার দখল করে নিয়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির এই দেশীয় মাছগুলোতে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থসহ পুষ্টিমান অনেক বেশি। পরিবেশের পরিবর্তন, আবাসস্থলের সংকোচন, পুকুর-জলাশয় সম্পূর্ণ সেচ, সব মাছ ধরে ফেলা ও মানুষের নানাবিধ অত্যাচারের কারণে উল্লিখিত মাছগুলো বিলুপ্তির চূড়ান্ত বিলুপ্তির পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। দেশীয় ছোট মাছগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ আমিষ ও এমাইনো অ্যাসিড পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রে বড় মাছের তুলনায় ছোট মাছের পুষ্টিমান বেশি।
ছোট মাছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ ওআয়োডিনের মতো খনিজ পদার্থ আছে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর। মলা ও পুঁটি মাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ‘এ’ আছে যা রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে।