নিজস্ব সংবাদদাতা, হাটহাজারী

হাটহাজারী মডেল থানা ভবনের পূর্ব-উত্তরে প্রবাহিত পাহাড়ি মরা ছড়াটি হাটহাজারী পৌর সদরের বাসিন্দাদের পানি নিষ্কাশনের প্রধান অবলম্বন। নামে মরা হলেও বর্ষাকালে এ ছড়াটি প্রমত্ত পদ্মার মতই উত্তাল হয়ে ওঠে। প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ পাহাড়ি এ ছড়াটি প্রস্থে কোথাও ৪৫ ফুট, কোথাও ৩৫ ফুট এবং কোথাও ২৫ ফুট রয়েছে। এ মরা ছড়া ভরাট করে ৯ ফুট সরু বক্স ড্রেন নির্মাণের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে হাটহাজারীবাসী।
বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশের পর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী। গত ৭ আগস্ট দেয়া স্মারকলিপিতে বেআইনিভাবে মরা ছড়া ভরাট করে নির্মিত সরু বক্স ড্রেন প্রকল্প বাতিল করে আরএস ও বিএস শিট মোতাবেক মরা ছড়া উদ্ধার করে হাটহাজারীবাসীকে জলাবদ্ধতার কবল থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানানো হয়। একইসাথে অভিযোগ তদন্তপূর্বক এই বেআইনি প্রকল্প প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত দুর্নীতিবাজ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছে এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, মরা ছড়াটি পশ্চিমের পাহাড় থেকে নেমে এসে থানার হাটহাজারী বাজারের মধ্য হয়ে হাটহাজারী মডেল থানা ভবনের দক্ষিণ পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পূর্ব দিকে গিয়ে কাচারী সড়কের এন জহুর মার্কেট সংলগ্ন কালভার্টের নিচ দিয়ে উত্তরে কামাল পাড়া হয়ে আবার পূর্বে গিয়ে বাইন্না বিলে গিয়ে হালদা নদীর শাখা খালে সাথে মিলিত হয়েছে। বর্ষাকালে হাটহাজারী সদরের পশ্চিমের পাহাড়ের ¯্রােত প্রবল বেগে এ ছড়া দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বৃষ্টির পানি হালদা নদীর মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ে। তাছাড়া হাটহাজারী সদরের এবং আশেপাশের গ্রামের বৃষ্টির পানি এ ছড়া হয়ে প্রবাহিত হয়। বর্ষাকালে পাহাড়ি এ ছড়া হয়ে প্রবল বেগে দুকুল উপচে পানি প্রবাহিত হয়। এতে দ্রুত এলাকা থেকে পানি নিষ্কাশিত হয়ে হালদা নদী হয়ে সমুদ্রে গিয়ে পড়ে। বক্স ড্রেন প্রকল্পে ২৫ ফুট প্রস্থের পাহাড়ি এ ছড়াটি ভরাট করে মাঝখানে ৯ ফুট প্রস্থের সরু এ বক্স ড্রেনের বেশিরভাগ অংশ ঢালাই দেয়া হয়েছে। ছড়াটি ভরাট করে সরু বক্স ড্রেন নির্মাণ করাতে বর্তমানে এ ছড়ার পানি সরু বক্স ড্রেনে বাধাগ্রস্ত হয়ে পৌরসদরে আমাদের বাড়িঘর ও হাটহাজারী বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহ তলিয়ে যাচ্ছে। একটু বৃষ্টি হলেই আমরা হাটহাজারী পৌরসদরের বাসিন্দাদের বসতঘরে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ার আতঙ্কে থাকি।
স্মারকলিপিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেন সৈয়দ নুরুল আলম, মো. শফি উল্লাহ, উদয় সেন, ইকবাল বাহার, মো. সরওয়ার উদ্দীন, আহমদ কবির, এস এম সেলিম ও মো. লুৎফর রহমান। স্মারকলিপি গ্রহণ করে জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াছ ও বিভাগীয় কমিশনার এ ব্যাপারে তদন্তপূর্বক দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ক্ষতিগ্রস্তদের জানান।

Share