নীড়পাতা » সম্পাদকীয় » অগ্রসর চট্টগ্রাম তৈরির জন্য যোগ্য নেতৃত্ব অনুসন্ধান

অগ্রসর চট্টগ্রাম তৈরির জন্য যোগ্য নেতৃত্ব অনুসন্ধান

বাণিজ্যিক রাজধানী বলে চিহ্নিত চট্টগ্রাম কি সত্যিই তার যোগ্য মর্যাদা পাচ্ছে? প্রকৃত ছবিটা হলো চট্টগ্রাম আজও নানা পর্যায়েই ভালো অবস্থায় নেই। তার বিপদ অনেক। পরিসংখ্যান তুলে ধরে এখানকার পত্র-পত্রিকাগুলো প্রতিদিনই সংবাদ পরিবেশন করছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দুঃখের সমস্ত কথা পৌঁছে দিতে চেষ্টা করে চলছে। পাশাপাশি একইভাবে এখানকার রাজনৈতিক দল, সংসদ সদস্য, নেতা কর্মী ও সমাজের নানা পর্যায়ের ব্যক্তিত্ববর্গও যাতে সঙ্কটাপন্ন চট্টগ্রামকে রক্ষার জন্যে ঐক্যবদ্ধভাবে একসুরে কাজ করা ও কথা বলার তাগিদ অনুভব করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন জনগণ তা কামনা করছেন।
গণমাধ্যম তাদের দাত্বি পালনে নিরলসভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে, এর সবটাই যেনো অরণ্য রোদনে পরিণত। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নিলেও তার সহায়তাগুলো বাস্তবায়নের জন্য যোগ্য নেতৃত্ব আমাদের দরকার। সত্যটা হলো, এখানকার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্য থেকে এমন কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না, যাঁরা প্রকৃতই চট্টগ্রামের অভিভাবক হিসেবে চট্টগ্রামবাসীর কাছে নিজেকে পরিচিত করার পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছেন। যোগ্যতা দেখাতে পারলে তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় জনসমর্থন পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা হয়ে উঠতো না।
উদাহরণ আমাদের এই চট্টগ্রামেই অতীতে আমরা পেয়েছি ব্রিটিশ আমলে। আমরা পেয়েছি সেকালের প্রভিন্সিয়াল পার্লামেন্টের এমএলও কক্সবাজারের খান বাহাদুর বদি আহমদ চৌধুরীকে। যিনি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের খাদ্য সঙ্কটে (১৯৪৩) মন্বন্তর কবলিত চট্টগ্রামের জন্যে খাদ্য বরাদ্দ দিতে ব্রিটিশ সরকারকে বাধ্য করেছিলেন। আমরা নূর আহমদ চেয়ারম্যানের কীর্তির কথাও এ মুহূর্তে স্মরণ করতে পারি, যিনি এখানে সে আমলেই অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা চালু করেছিলেন সব প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে। এই চট্টগ্রামে আমরা পেয়েছি আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, কাজেম আলী মাস্টার, রফিউদ্দীন সিদ্দিকী প্রমুখ ব্যক্তিত্ববর্গকে যাঁরা হয়ে উঠেছিলেন নিজেদের যোগ্যতা ও কর্মপ্রাণতায় চট্টগ্রামের মান্য অভিভাবক। এক্ষেত্রে আমরা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নামও স্মরণে আনতে পারি। দলমত নির্বিশেষে তাঁরও গ্রহণযোগ্যতা ছিলো বহুলাংশে।
আজ তাঁদের মতোই দেশব্রতী অভিভাবক চট্টগ্রামের দরকার, যাঁদের উদ্যোগে বঞ্চিত ও মৃতপ্রায় চট্টগ্রাম হারানো ঐতিহ্যের অতীতকে ফিরে পেতে পারে। জলাবদ্ধতা, যানজট, খানাখন্দকে ভরা সড়ক ইত্যাদি দেখে মনে হয় বর্তমানে চট্টগ্রামকে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে যেনো বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। এই প্রচেষ্টার বিপরীতে চট্টগ্রামকে প্রকৃতই সৌন্দর্যের নগরী কিংবা সার্থক বাণিজ্যিক রাজধানী রূপে গড়ে তোলার জন্য যোগ্য নেতৃত্ব সক্ষম ব্যক্তিত্ব দরকার আমাদের প্রিয় চট্টগ্রাম তেমন কোনো অভিভাবক কি খুঁজে পাবে না?
এখানকার উন্নয়ন, জলাবদ্ধ মোচন, শিল্পায়ন, যোগাযোগ সম্প্রসারণ, যানজট দূরীকরণ ইত্যাদি অসংখ্য কর্মকা-ে চট্টগ্রামের সেবা সংস্থাগুলোকে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিচ্ছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সঠিক অভিভাবকত্বের পরিচালনা করা গেলে এই অর্থের অপচয় হবে না। এখন দরকার সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সঙ্কট দূরীকরণের সঠিক সমন্বয়। বিশৃঙ্খল উন্নয়ন প্রচেষ্টা আসলে জনস্বার্থ সংরক্ষণ করে না।
বিগত কয়েক দশকে হানাহানির রাজনীতি ফলে কোনো সর্বজন শ্রদ্ধেয় রাজনীতিবিদ তৈরি হয় নি। শূন্যতা যে পূরণ হবে তা দৃশ্যমান নয়। অব্যাহত ভাবে দিনের পর দিন রাজনীতিবিদরা ব্যর্থ হতে থাকলে সমাজের সম্মিলিত আকাক্সক্ষা ও ইচ্ছাশক্তি হারিয়ে যেতে থাকে। এখানকার নাগরিকবৃন্দ চান অতীতের উদাহরণ থেকে শিক্ষা নিলে নেতৃত্ব সৃষ্টি হতে পারে। চিরকালের ‘এগিয়ে থাকার চট্টগ্রাম’ তাহলেই আগামীতেও গণ-উদ্যোগে এগিয়ে যেতে পারবে? প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা যখন অবারিত রয়েছে তখন সবাই মিলে চেষ্টা করতে অসুবিধা কোথায়?

Share