নীড়পাতা » সম্পাদকীয় » ফুটপাথে বিড়ম্বনা

ফুটপাথে বিড়ম্বনা

উইফিপিডিয়া (ওয়েব সাইট) তথ্য অনুযায়ী ২০০১ সালে চট্টগ্রাম নগরীতে লোকসংখ্যা ছিল বিশ লাখ আটষট্টি হাজার বিরাশি জন। বিগত ১৭ বছরে এই সংখ্যা এখন কয়েকগুণ বেড়েছে। এছাড়া নিত্যদিন নগরীর আশপাশ গ্রাম থেকে বহুলোক কাজ ও ব্যবসার প্রয়োজনে নগরীতে এসে থাকে। নগরবাসীদের পায়ে হেঁটে চলাচলের জন্য সড়ক মহাসড়কের দুইপাশে রয়েছে ফুটপাথ। কিন্তু দুঃখজনক হলো সেই ফুটপাথের কোথাও আংশিক কোথাও পুরোটা এখন ব্যবসায়ীদের দখলে। ব্যবসায়ীরা কেউ তাদের দোকানের মালামাল স্তুপ করে রাখেন। কোন কোন ব্যবসায়ী তাদের খরিদারদের বসার জন্য টুল পেতে রাখেন। কোন কোন রিক্সা সাইকেল মেরামতকারী ফুটপাথেই বসে রিক্সা সাইকেলের মেরামত করে চলেছেন। লোহার রড বিক্রেতাদের দেখা যায় দোকানের সামনে ফুটপাথে এবং রাস্তায় রড রেখে চাহিদা অনুযায়ী কেটে থাকেন। সারা নগরীর সড়ক মহাসড়ক এবং এলাকায় চলাচলের রাস্তার পাশে প্রতিদিন বাজার বসে। যেখানে মাছ মাংস তরিতরকারি বিক্রি হয়। এতে পথচারীদের পায়ে হেঁটে চলায় বিঘœ ঘটে, এলাকা নোংরা ও দূষিত হয় প্রতিদিন। অনেকে আবার নিজস্ব গাড়ি ওই বাজারের পাশে রেখে বাজার সেরে নেন। আবার ওই সময়টায় অনেক রিক্সা অপেক্ষা করতে থাকে যাত্রী পাবার আশায় Ñ এতেও পথচারীদের নির্বিঘেœ চলাচলে ব্যঘাত ঘটে, সময় নষ্ট হয়। চট্টগ্রাম শহরে শপিংমলের অভাব নেই। দু’চারটি ছাড়া প্রায় সব শপিং মলের সামনে ক্রেতাদের কার পার্কিং, রিক্সা ও সিএনজি দাঁড়াবার জায়গা নেই। তাই ওই সব যানবাহন চালকেরা শপিং মলের সামনে রাখতে বাধ্য হয়। আর এজন্য পথচারীদের চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে।
ব্যবসা কেন্দ্র ছাড়াও সারা শহরে রয়েছে বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিপর্যায়ের অফিস। এসব অফিসে প্রায় সারাদিন প্রাইভেট কার নিয়ে নানা কাজে অনেকে এসে থাকেন। তাঁদের গাড়ি রাখার কোন জায়গা না থাকায় ওই অফিসের সামনেই তাঁদের গাড়ি রেখে তাঁরা কাজ সারেন। এজন্যও অনেক সময় ট্রাফিক জ্যাম সৃষ্টি হয় পথচারীদের চলাচলে ব্যঘাত ঘটে।
ফুটপাথ বেদখল নিয়ে লিখতে গিয়ে সড়কে মহাসড়কে যান চলাচলে অনিয়ম এবং চালকদের বেপরোয়া মনোভাবের বিষয়টি চলে আসে স্বাভাবিকভাবে। অতি সম্প্রতি (২৯ জুলাই) দুই ছাত্রছাত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু সংবাদটি সারাদেশে আলাড়ন সৃষ্টি করেছে।
পত্রিকান্তে জানা যায় ওইদিন কলেজ ছুটির পর দুপুর সাড়ে ১২টায় বেশ কিছু ছাত্রছাত্রী বাসের অপেক্ষায় কুর্মিটোলা উড়াল সেতুর ঢালে গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়েছিল। হঠাৎ একটি বাস বেপরোয়া গতিতে আরেকটি বাসকে পাশ কাটিয়ে সেই গাছটিকে উপড়ে ফেলে দেয়ালে এসে আছড়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলে আবদুল করিম ও দিয়া খানম নামের দুই শিক্ষার্থী মারা যান এবং ৯ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। এভাবে প্রতিদিন প্রতিবছর অসংখ্য পথচারী সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন। তাই সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকদের কঠোর শাস্তির বিধান রেখে আইন করার জন্য সম্মানীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি অনুরোধ রইল। বিষয়টি এখন সময়ের দাবি। সাথে সাথে পথচারীদের বলবো সড়ক পারাপারে এবং চলাচলে সাবধানী হোন।

Share