নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন কোরবানির পশুর চামড়ার দর গত বছরের তুলনায় পাঁচ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণের প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সরকার গতকাল বৃহস্পতিবার যে দর নির্ধারণ করেছে তা বর্তমান দরের চেয়েও ১০ টাকা কম। অবস্থায় সরকার চামড়া ব্যবসায়ীদের স্বার্থের প্রতিই লক্ষ্য রেখেছেন বলে কাঁচা চামড়া খাত সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চামড়া শিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর সিদ্ধান্তের কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। সিদ্ধান্ত মোতাবেক ট্যানারি ব্যবসায়ীরা এবার ঢাকায় লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া কিনবেন ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় এবং ঢাকার বাইরে এর দাম হবে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।
এছাড়া সারাদেশে খাসির চামড়া ১৮২০ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৩১৫ টাকায় সংগ্রহ করবেন ব্যবসায়ীরা।
গতবছর প্রতি বর্গফুট গরুর কাঁচা লবণজাত চামড়ার দাম ঢাকায় ৫০৫৫ টাকা ধরা হয়। ঢাকার বাইরে সারাদেশে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয় ৪০৪৫ টাকা।
এছাড়া মহিষের প্রতি বর্গফুট চামড়া ৪০ টাকা এবং খাসির ২০২২ টাকা এবং ছাগল ভেড়ার ১৫১৭ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়।
গত বছরের সঙ্গে কোরবানির পশুর চামড়ার দামের তুলনা করলে দেখা যায়, এবার গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে পাঁচ টাকা করে কমেছে। গত বছর প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম নির্ধারিত হয়েছিল সর্বনিম্ন ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৫৫ টাকা। একইভাবে কোরবানির খাসির চামড়ার দাম গত বছরের চেয়ে প্রতি বর্গফুটে কমেছে টাকা করে। গত বছর এর দর ছিল ২০ থেকে ২২ টাকা। অন্যদিকে, কোরবানির বকরির চামড়াতেও এবার প্রতি বর্গফুটে টাকা করে দাম কমিয়েছে সরকার। গত বছর এই দাম ছিল ১৫ থেকে ১৭ টাকা।
কোরবানির পশুর চামড়ার দাম কমার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানান, দুই কারণে এবার কোরবানির পশুর চামড়ার দাম কমানো হয়েছে। প্রথমতঃ আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার চাহিদা ব্যাপকহারে কমে যাওয়া। দ্বিতীয়তঃ সাভারে চামড়া শিল্পনগরী স্থাপিত হলেও এখন পর্যন্ত তা পরিপূর্ণভাবে কাজ শুরু করতে পারেনি। নানা ধরনের ত্রুটি রয়েছে সেখানে। যে কারণে সেখানে এখনও ঠিকভাবে চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া গতবছর চামড়া রপ্তানি ১২ শতাংশ কম হয়েছে। এজন্য এবার দাম কমানোর বিকল্প ছিল না। তবে টাকা কম, তেমন কিছু নয়, বলেন তিনি।
তোফায়েল আহমদ বলেন, দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হলে ব্যবসায়ীরা অপারগতা প্রকাশ করেন। বাস্তবতা হলো, ব্যবসায়ীরা যদি চামড়া কিনতে না পারেন, তাহলে আমরা চামড়া কার কাছে বিক্রি করব ? এজন্য আমরা বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন তারা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করে তা বাস্তবায়ন করবেন।
কোরবানির পশুর দাম কমানোর কারণে চোরাচালানের মাধ্যমে তা দেশের বাইরে চলে যাবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি অত্যন্ত শক্তিশালী। তারা বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
প্রসঙ্গতঃ ট্যানার্স এসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বছরে বাংলাদেশ থেকে মোটামুটি ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ গরুর চামড়া, ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ ছাগলের, দশমিক ২৫ শতাংশ মহিষের এবং দশমিক শতাংশ ভড়ার চামড়া। এর অর্ধেকের বেশি আসে কোরবানির ঈদের সময়

Share
  • 15
    Shares