নীড়পাতা » প্রথম পাতা » সব্জি পেঁয়াজ রসুন ও আদার দাম বেড়েছে

মাছের পর্যাপ্ত সরবরাহ, দামও কমেছে

সব্জি পেঁয়াজ রসুন ও আদার দাম বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

সবজির দাম আরেক দফা বাড়ল। কয়েক পদে সবজি কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, পরিবহন চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় চাহিদা মতো সবজি আড়তে আসছে না। সবজির দাম বাড়লেও মাছের দাম কমছে। এদিকে, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে পেঁয়াজ, রসুন আদার দাম।
সবজির সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার রিয়াজউদ্দিন বাজার নগরীর কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেগুন প্রতিকেজি ৫০ টাকা। গত সপ্তাহে তা ৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। কাকরোল ৫০ টাকা, তিতকরলা রিয়াজউদ্দিন বাজারে কোনো দোকানে ৪০ টাকা, কোনো দেকানে ৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কর্ণফুলী কমপ্লেক্সে তা ৫০৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। পটল ৪০ টাকা। ঢেঁড়স রিয়াজউদ্দিন বাজারে ৩৫ টাকা বিক্রি হলেও কর্ণফুলী কমপ্লেক্সসহ আরও কয়েকটি বাজারে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। টমেটো ৮০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, পেপে, আলু কচুর ছড়া ২৫৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে কাঁচা মরিচের দামও আরও বেড়ে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ষোলশহর কর্ণফুলী কমপ্লেক্স কাঁচা বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ছাত্র আন্দোলনের কারণে যশোরসহ উত্তরবঙ্গ থেকে সবজিবাহী পরিবহন আসতে পারেনি। শুধু দোহাজারী, সীতাকুথেকে সরবরাহ করা সবজি দিয়ে বাজার চাহিদা মিটাতে হচ্ছে। এছাড়াও বৃষ্টির কারণে দোহাজারীতে সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। সবমিলে সবজি এখন বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
একই কখা বলেন রিয়াজউদ্দিন বাজারের সবজি ব্যবসায়ী রোকন উদ্দিন রাহুল বড়য়া।
সবজির দাম বাড়লে মাছের দাম কমছে। আরও কমবে বলে জানান ষোলশহর কর্ণফুলী কমপ্লেক্স বাজারের মাছ ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন। তিনি বলেন, কাপ্তাই হ্রদে দীর্ঘদিন মাছ ধরা বন্ধ ছিল। সেখানে মাছ ধরা শুরু হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া কাটিয়ে জেলেরা মাছ আহরণে সাগরে যাচ্ছেন। সাগরের মাছ বাজারে আসতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় মাছের দাম কেজিতে ২০৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। ইলিশের দাম প্রায় এক থেকে দুইশ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি ইলিশ (এক কেজির বেশি ওজন) বিক্রি হচ্ছে ১৩ থেকে ১৪শ টাকা। মাঝারি আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮শ থেকে এক হাজার টাকা। স্থানীয়ভাবে আহরিত ইলিশ আরও কম দামে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে নোয়াখালী থেকে সরবরাহ করা বড় আকারের ইলিশ (এক কেজির বেশি ওজন) বিক্রি হয়েছিল ১৮শ টাকা, মাঝারি আকারের ইলিশ (এক কেজি) ১৫শ টাকা দরে।
ভরমৌসুমেও ইলিশ বাড়তি দামে বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যবসায়ী কোরবান আলী বলেন, নোয়াখালী থেকে সরবরাহ করা ইলিশের স্বাদ গুণগত মান ভালো। দামও একটু বেশি থাকে। তবে পতেঙ্গা, কাট্টলি গহিরা এলাকার ইলিশ দামে কিছুটা কম রয়েছে।
মাছ বাজারে রূপচাঁদা কেজিতে ৮শ থেকে ৮৫০ টাকা, লাল কোরাল ৫৫০ টাকা, মাঝারি চিংড়ি ৪৫০ টাকা, বড় আকারের চিংড়ি ৯শ টাকা, আইর মাছ (এক কেজি ওজন) ৫শ টাকা, দুই কেজি ওজনের আইর ৭৫০ টাকা, তেলাপিয়া (জীবিত) ১৭০ টাকা, মৃত ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি রুই কাতলা মাছ ( কেজি ওজন) ৩৫০ টাকা, মিয়ানমার থেকে আমদানি করা রুই ( কেজি ওজন) ২৫০ টাকা, মাঝারি ( কেজি) ২১০২২০ টাকা, কাতলা ( কেজি ওজন) ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ফার্মের মুরগির দাম কেজিতে টাকা কমে ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। কেজি ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি গরুর মাংস হাড়ছাড়া ৬শ থেকে ৬৩০ টাকা, হাড়সহ ৫৩০ থেকে ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ভোগ্যপণ্যে দাম অনেকটা স্থিতিশীল থাকলেও পেঁয়াজ, আদা রসুনের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। চাক্তাইখাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে আদার দাম তিন দিনের ব্যবধানে ৮৩৮৭ টাকা থেকে বেড়ে ১০২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম ২৯৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। রসুনের দাম ৪৮ টাকা থেকে বেড়ে কেজিতে ৫২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভোজ্যতেলের দামও অপরিবর্তিত রয়েছে। খুচরা বাজারে পাম কেজিতে ৭০ টাকা, সুপার পাম ৭৫ থেকে ৭৮ টাকা উন্নতমানের সয়াবিন তেল ৮৫ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে
নং গেট কর্ণফুলী বাজার কমিটির আহ্বায়ক আলহাজ মো. এয়াকুব চৌধুরী বলেন, ঈদুল আজহাকে ঘিরে মসলা জাতীয় পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। পেঁয়াজ, আদা রসুনের দাম বাড়তি রয়েছে

Share