নাজিম মুহাম্মদ

আমদানিনিষিদ্ধ দ্রুতগতির মোটরসাইকেল প্রকাশ্যে চলছে সড়কে।
প্রশাসনের চোখ এড়াতে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সীমান্ত পার করে আনা এসব মোটরসাইকেল সড়কে নামানো হচ্ছে কাস্টমস নিলামের ভুয়া রেজিস্ট্রেশন নম্বরে। বাজারমূল্যের অর্ধেক দাম হওয়ায় যুবকদের কাছে দিনদিন মোটরসাইকেলের চাহিদা বাড়ছে। পুলিশের অনেক কর্মকর্তাও ধরনের মোটরসাইকেল ব্যবহার করছেন দিব্যি। দ্রুতগতির এসব মোটরসাইকেলের সাথে ট্রাফিক সার্জেন্টদের মোটরসাইকেলের পাল্লা দেয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন ট্রাফিক সার্জেন্ট।
১৫০ সিসি (কিউবিক সেন্টিমিটার) ইঞ্জিনের বেশি মোটরসাইকেল সড়কে চলাচলের নিয়ম না থাকলেও অবৈধপথে আসা প্রতিটি মোটরসাইকেল ১৮০ থেকে ২০০ সিসির।
সংঘবদ্ধ একটি সিন্ডিকেট যশোরের বেনাপোল কুমিল্লা সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারত থেকে এসব মোটরসাইকেল সীমান্ত পার করে আনা হচ্ছে দেশে। পরবর্তীতে বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে শুল্কফাঁকি দিয়ে আনা মোটরসাইকেল ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
নগরীর আগ্রাবাদ মুরাদপুর এলাকার বেশ কয়েকজন মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী জানান, সীমান্ত পার করে আনা মোটরসাইকেলগুলোবর্ডারক্রসগাড়ি হিসাবে চিহ্নিত। বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট শুল্ক ফাঁকি দিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে মোটরসাইকেলগুলো নিয়ে আসছে।
ভুয়া রেজিস্ট্রেশন নম্বর লাগিয়ে এসব মোটরসাইকেল নগরীর সড়কে চলছে অবাধে। শোরুমের চেয়ে অর্ধেক দামে মোটরসাইকেলগুলো বিক্রি হওয়ায় প্রকৃত মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক শহীদ উল্লাহ জানান, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ১৫০এর চেয়ে বেশি সিসির মোটরসাইকেল আমদানি করা হয় না। কারণ সর্বোচ্চ ১৫০ সিসির মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন দিয়ে থাকে বিআরটিএ।
শহীদুল্লাহ বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে নিদের্শনা দেয়া আছে, নিলামে দেয়া গাড়িকে কখনো রেজিস্টেশন নম্বর দেয়া যাবে না। কোনো গাড়ি নিলামে দেয়া হলে সেই গাড়ির যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু গাড়ি সড়কে চালানো যাবে না।
১৫০এর চেয়ে বেশি সিসির মোটরসাইকেল যেহেতু আমদানিনিষিদ্ধ সেক্ষেত্রে বেশি সিসির বাইক নিলাম না দেয়া উচিত বলে জানান বিআরটিএ উপপরিচালক।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নগরী জেলায়কাস্টমস নিলাম’ ‘অকশনলেখা আমদানিনিষিদ্ধ মোটরসাইকেল ব্যবহার করছেন উঠতি বয়সী যুবকরা। গাড়িগুলোর অধিকাংশ ১৮০ থেকে ২০০ সিসির। পাশপাশি পুলিশের অনেক কর্মকর্তাও একই ধরনের মোটরসাইকেল ব্যবহার করছেন। গাড়িগুলো হচ্ছে ইয়ামাহা কোম্পানির ফেজার, আর ওয়ান ফাইভ, এফজেডএস, টিভিএস কোম্পানির এপাসি, বাজাজ কোম্পানির পালসার সুজুকি কোম্পানির জিআইএক্সএক্স মডেল।
জানতে চাইলে নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উত্তর জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার হারুনউররশিদ হাযারী বলেন, নিলামের গাড়ি রেজিস্ট্রেশন দেয়ার নিয়ম নেই। সড়কে চলাচলও করতে পারবে না। জেনেশুনে নিলাম দেয়া হচ্ছে কেন ? নিলাম না দিলেই তো হয়।
উপকমিশনার হাযারী বলেন, ‘হান্টারনামের একটি বিয়ার আছে। রীতিমতো ফ্যাক্টরিতে বিয়ারটি তৈরি করা হচ্ছে। কেউ হান্টার বিক্রি করলে কিংবা পান করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। অথচ হান্টার তৈরির কারখানা বন্দ করে দিলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।
বাজারে ইয়ামাহা কোম্পানির একটি আর ওয়ান ফাইভ গাড়ির মূল্য চার লাখ টাকা হলেও কাস্টম নিলামের কাগজসহ একই মানের গাড়ি দুই লাখ ৪০ হাজার টাকায় অনায়াসে পাওয়া যাচ্ছে। একইভাবে এক লাখ ৯২ হাজার টাকা দামের এপাসি এক লাখ ২০ হাজার, দুই লাখ ৯০ হাজার টাকা দামের ফেজার এক লাখ ৬০ হাজার, দুই লাখ ৭৫ হাজার টাকা দামের এফজেডএস এক লাখ ৪৫ হাজার টাকায় সরবরাহ করা হয় ভুয়া কাস্টম নিলামের কাগজ দেখিয়ে। নিলামের গাড়ি স্বাভাবিকভাবে পুরাতন হয়ে থাকে। কিন্তু কাস্টম নিলাম লেখা সম্বলিত এসব মোটরসাইকেল সদ্য বাজার থেকে কেনা চকচকে নতুন। নিলামের গাড়ি রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেয়ার নিয়ম না থাকলেও কাস্টম নিলাম লেখা মোটরসাইকেল এফজেডএসের ক্ষেত্রে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার, আর ওয়ান ফাইভ, ফেজার, জিক্সার পালসার এপাসি ৭০ হাজার টাকা দিলে রেজিস্ট্রেশন নম্বরও পাওয়া যায় অনায়াসে

Share
  • 173
    Shares