প্রযুক্তির কল্যাণে সর্বস্তরে যন্ত্রের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি মানুষের মধ্যে কর্মসংস্থান হারানোর ভীতি বাড়িয়ে তুলছে। ৬০ লাখের বেশি ব্রিটিশ শ্রমিক আগামী দশক নাগাদ যন্ত্রের কাছে কাজ হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেদনে ঝুঁকির সম্মুখীন শ্রমিকদের আরো সহায়তা প্রদানের জন্য ট্রেড ইউনিয়ন সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। খবর গার্ডিয়ান।
প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে ফেবিয়ান সোসাইটি কমিউনিটি ট্রেড ইউনিয়নের শ্রমিক এবং প্রযুক্তিসংক্রান্ত একটি কমিশন গঠন করেছেন ব্রিটেনের লেবার পার্টির পার্লামেন্ট সদস্য ইভেট কুপার। কমিশনের প্রতিবেদনে যন্ত্রের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি নিয়ে শ্রমিকদের উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
যন্ত্রঅর্থনীতির উত্থানে সামাজিক বিপর্যয় এবং ব্রিটেনে ধনীদরিদ্রের ব্যবধান আরো বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হলেও ব্যবসায়ী, ট্রেড ইউনিয়ন এবং শিক্ষাবিদদের নিয়ে গঠিত কমিশনটি রূপান্তরের মাধ্যমে শ্রমিকদের সহায়তার উপায় বের করতে চাচ্ছে।
এদিকে অনলাইন খুচরা বিক্রেতা শপ ডিরেক্টের মতো বেশকিছু কোম্পানি এরই মধ্যে অটোমেশনে আকৃষ্ট হয়ে চাকরি ছাঁটাই করতে শুরু করেছে। চলতি বছরের শুরুতেই শপ ডিরেক্ট সতর্ক করেছে, কোম্পানি নতুন একটি বিতরণ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছে, যার ফলে দুই হাজার চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়বে।
এর আগে অটোমেশনের জনপ্রিয়তাকে তুলে ধরে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সতর্ক করে জানায়, যুক্তরাজ্যজুড়ে কোটি ৫০ লাখের মতো কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর সিটিজের মতে, অটোমেশনের কারণে লন্ডন এবং দক্ষিণপূর্ব ইংল্যান্ডে কর্মরতদের তুলনায় ম্যানসফিল্ড, সান্ডারল্যান্ড ওয়েকফিল্ডের শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বেন।
সারা দেশের এক হাজারের বেশি মানুষের মতামত জরিপ করেছে কমিশন। জরিপ অনুসারে, ৩৭ শতাংশের বেশি (এক কোটি শ্রমিকের সমতুল্য) আগামী দশকের মধ্যে তাদের চাকরি বাজে পরিস্থিতির মুখে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে। তবে স্বল্পসংখ্যক জানিয়েছে, সরকার বা ট্রেড ইউনিয়নগুলো কর্মস্থলে নতুন প্রযুক্তির আগমন নিয়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করছে বলে তাদের বিশ্বাস রয়েছে।
অন্যদিকে ১০ শতাংশের কম শ্রমিক মনে করেন, সরকার যথেষ্ট প্রস্তুতি নিচ্ছে না। কেবল ১৬ শতাংশ জানিয়েছে, প্রযুক্তি কর্মজীবনকে উন্নত করবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে তাদের কর্মক্ষেত্রের ট্রেড ইউনিয়নগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এদিকে সাম্প্রতিক দশকগুলোয় ক্রমে সদস্য হারানোর মতো পরিস্থিতি পরিবর্তনে উদ্যোগী ট্রেড ইউনিয়নগুলোর জন্য পরিসংখ্যান উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
কমিশন অর্থনীতিতে প্রযুক্তির বৃহত্তর প্রভাব নিয়ে অন্য গবেষণাগুলোকেও গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছে। লন্ডনভিত্তিক থিংকট্যাংক আইপিপিআরের মতে, আগামী দশকগুলোয় যুক্তরাজ্যে প্রায় ৪৪ শতাংশ কর্মসংস্থান যন্ত্র দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে।
অর্থাৎ এতে কোটি ৩৭ লাখের বেশি মানুষের ওপর প্রভাব পড়বে, যাদের সামষ্টিক আয়ের পরিমাণ প্রায় ৩৭ হাজার ৫৭৯ কোটি ডলার (২৯ হাজার কোটি পাউন্ড) অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, অটোমেশনের কারণে নিম্নআয়ের ম্যানুয়াল কর্মসংস্থান সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে। একই সঙ্গে মধ্যবিত্তের অস্তিত্ব হুমকিতে পড়বে এবং এবং বহু মানুষ বেকার হয়ে পড়ায় রাষ্ট্রের ওপর চরম চাপ তৈরি হবে।
এদিকে শ্রমিকদের সহায়তার জন্য বেকারদের সাহায্যার্থে একটি সর্বজনীন মৌলিক আয় থেকে শুরু করে শিক্ষা বয়স্ক শিক্ষার পেছনে সরকারের বৃহত্তর ব্যয়ের মতো বিষয় নিয়ে চিন্তা করা হচ্ছে। অটোমেশনের প্রভাব নিয়ে ২০২০ সাল নাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশের লক্ষ্য নিয়েছে ফেবিয়ান সোসাইটি এবং কমিউনিটি কমিশন। লক্ষ্য পূরণে আগামী দুই বছর সারা দেশের কর্মস্থলের প্রকৃত অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেসসহ (টিইউসি) ইউনিয়ন এবং ইনস্টিটিউট অব ডিরেক্টরস, গুগল, বহুজাতিক সফটওয়্যার কোম্পানি সেজ এবং ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের সদস্যদের নিয়ে প্যানেল গঠন করা হচ্ছে। ইভেট কুপার প্যানেলটির নেতৃত্ব দেবেন। কুপার বলেন, প্রযুক্তি নতুন সর্বোত্তম কর্মসংস্থান তৈরি করছে এবং নতুন প্রযুক্তি থেকে সব শ্রমিক সুবিধা পাচ্ছেন, তা নিশ্চিত করার জন্য এখনই পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তি ডিজিটাল বিপ্লব বৈষম্য বাড়াচ্ছে না এবং এতে অভ্যস্ত হতে সবাই প্রয়োজনীয় সহায়তা সমর্থন পাচ্ছেনবিষয়টি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের নিশ্চিত করা প্রয়োজন, অটোমেশন ব্রিটিশ কর্মীদের জন্য কোনো হুমকি নয় বরং একটি সুযোগ। [সূত্র : পত্রপত্রিকা]
রাকিবুল হক

Share