উপকূলীয় এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে লবণ সহিষ্ণু নতুন জাতের আখ চাষ করা হচ্ছে। আখ গবেষণা ইন্সটিটিউট ইশ্বরদীর ব্যবস্থাপনায় জেলার লবণাক্ত এলাকাতে উচ্চমাত্রার লবণ সহিষ্ণু নতুন ৩৯ ৪৬ জাত চাষ করা হয়েছে। কৃষকরা ইতোমধ্যে সুফল পেতে শুরু করেছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলায় ১৫০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় হেক্টর, কলারোয়ায় হেক্টর, তালায় ৭৫ হেক্টর, দেবহাটায় ৩৫ হেক্টর, কালিগঞ্জে ২৫ হেক্টর, আশাশুনিতে হেক্টর এবং শ্যামনগর উপজেলাতে হেক্টর পরিমাণ জমিতে ফসলটি চাষ করা হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা . সমজিত কুমার পাল জানান, উপকূলীয় সাতক্ষীরা জেলার ৭টি উপজেলার সবচেয়ে বেশি লবণাক্ততা এমন ৫টি উপজেলাতে পরীক্ষামূলকভাবে লবণ সহিষ্ণু নতুন ৩৯ ৪৬ জাতের আখ চাষ করা হয়েছে।
এই নতুন ৩৯ ৪৬ জাতের আখ যেমন উচ্চমাত্রার লবণ সহ্য করতে পারবে তেমনি অধিক পরিমাণ ফলন দেবে। এটি বিঘাপ্রতি সর্বোচ্চ ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। আর বিঘা জমির আখ বিক্রি হবে কমপক্ষে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা। ফলে কৃষক লাভবান হবে এই লবণ সহিষ্ণু জাতের আখ চাষ করে।
তিনি বলেন, ৩৯ ৪৬ জাতের আখ ১৫ থেকে ১৬ মাত্রার লবণ সহ্য করতে পারবে অনায়াসে। তাছাড়া রোগবালাইয়ের প্রাদুর্ভাব খুবই কম।
প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক জাতের আখ চাষ করে লাভবান হতে পারবে বলে তিনি আশা করেন।
সদর উপজেলার বালিথা গ্রামের আখ চাষি রুহুল আমিন জানান, তার এলাকার অধিকাংশ জমিতে লবণাক্ততা বেড়ে গেছে। আগের মত ফসল আর ফলে না। তাই আখ গবেষণা ইন্সটিটিউটের পরামর্শে বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে লবণ সহিষ্ণু নতুন ৩৯ জাতের আখ রোপণ করে সাফল্য অর্জন করেছেন।
তিনি বলেন, গত ডিসেম্বরে আখের ডোগা রোপণ করার পর বর্তমানে ক্ষেতে বড় বড় ঝাড়ে পরিণত হয়েছে।
তাছাড়া তেমন কোনো রোগবালাইও এখন পর্যন্ত দেখা দেয়নি। আগামীতে আরো বেশি পরিমাণ জমিতে এই লবণ সহিষ্ণু ৩৯ জাতের আখ চাষ করবেন। বিঘা প্রতি ২২ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে তার আখ চাষ করতে।
একই গ্রামের আখ চাষি জোসনা বেগম জানান, পাবনা ঈশ্বরদীর আখ গবেষণা ইন্সটিটিউটের লোকজনের পরামর্শে তার বিঘা পরিমাণ জমিতে লবণ সহিষ্ণু নতুন ৩৯ জাতের আখ চাষ করেছেন।
তিনি বলেন, এমন ভালো ফলন হবে জানলে আরো বেশি পরিমাণ জমিতে আখ রোপণ করতাম।
বিএসআরআইএর সমন্বিত গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরণ প্রকল্পের অধীনে লবণাক্ত প্রবণ সাতক্ষীরা সদর, তালা, কালিগঞ্জ, আশাশুনি শ্যামনগর উপজেলাতে লবণ সহিষ্ণু জাতের আখ চাষ করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ কাজী আব্দুল মান্নান জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় উপকূলীয় জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে আখ উৎপাদন কমে যাচ্ছে আশঙ্কাজনকভাবে। তবে লবণ সহিষ্ণু নতুন ৩৯৪৬ জাতের আখ চাষে সাফল্য এসেছে সাতক্ষীরায়। আগামীতে জেলার সব অঞ্চলেই জাতের আখ চাষ করতে পারলে কৃষক লাভবান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
[সূত্র : পত্রপত্রিকা]
নাসরিন আকতার

Share