চলতি বছরের শুরু থেকে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তির দিকে ছিল। টানা ঊর্ধ্বমুখিতা কাটিয়ে বছরের প্রথম মাস হিসেবে জুনে বৈশ্বিক খাদ্যমূল্য কমে আসে। জুলাইয়ে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। সময় খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় দশমিক শতাংশ কমেছে। গত ডিসেম্বরের পর একে বৈশ্বিক খাদ্যমূল্যের সর্বোচ্চ দরপতন বিবেচনা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের খাদ্য কৃষি সংস্থার (এফএও) সর্বশেষ মাসভিত্তিক ফুড প্রাইস ইনডেক্সে (এফএফপিআই) তথ্য উঠে এসেছে

ইনডেক্স অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জুলাইয়ে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১৬৮ দশমিক পয়েন্টে, যা আগের মাসের তুলনায় দশমিক শতাংশ কম। গত জুনে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক ছিল ১৭৩ দশমিক পয়েন্ট। সে হিসাবে, এক মাসের ব্যবধানে খাদ্যপণ্যের গড় মূল্যসূচক কমেছে দশমিক পয়েন্ট। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের পর এফএফপিআইতে এটিই সবচেয়ে বড় পতন। সময় খাদ্যশস্য, চিনি দুগ্ধপণ্যের দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে। এছাড়া ভোজ্যতেল আমিষপণ্যের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির নোটে বলা হয়েছে, গত জুলাইয়ে রফতানি চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে বেচাকেনা কমে গিয়ে গমের বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। এর প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক সূচকে।
চলতি বছরের জুলাইয়ে দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক মূল্যসূচক আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দশমিক শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৯৯ দশমিক পয়েন্টে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দুগ্ধপণ্যের গড় মূল্যসূচক ১৪ দশমিক পয়েন্ট কম রয়েছে। নিউজিল্যান্ডে তরল দুধের উৎপাদন আগের তুলনায় বেড়ে যাওয়ায় সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক নিলামগুলোয় মাখন, পনির, গুঁড়ো দুধসহ সব ধরনের দুগ্ধপণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে।
এদিকে গত জুলাইয়ে খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১৬০ দশমিক পয়েন্টে, যা আগের মাসের তুলনায় পয়েন্ট বা দশমিক শতাংশ কম। ২০১৭ সালের একই মাসের তুলনায় গড় জুলাইয়ে খাদ্যশস্যের গড় মূল্যসূচক দশমিক শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছে এফএও। গত জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে গম, ভুট্টা চালের বেচাকেনা তুলনামূলক কম ছিল। মূলত বৈরী আবহাওয়া কেটে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে আমদানি করা চালের চাহিদা কমায় রফতানিকারক দেশগুলোয় খাদ্যপণ্যটির মজুদ বাড়তে শুরু করেছে। সময় ভুট্টা গমের রফতানি চাহিদাও ছিল কম। এর ফলে জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে চাল, গম ভুট্টার দাম আগের তুলনায় কমেছে। তবে উত্তর দক্ষিণ আমেরিকা এবং
ইউরোপের দেশগুলোয় চলমান দাবদাহ আগামী দিনগুলোয় আন্তর্জাতিক বাজারে গম চালের দাম আরো বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
গত জুলাইয়ে ভোজ্যতেলের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় দশমিক শতাংশ কমেছে। সময় ভোজ্যতেলের দামে গড় সূচকমান দাঁড়িয়েছে ১৪১ দশমিক পয়েন্ট, যা আগের মাসের তুলনায় দশমিক পয়েন্ট কম। চার মাসের দরপতনের ধারাবাহিকতায় গত জুলাইয়ে ভোজ্যতেলের বৈশ্বিক গড় দাম আড়াই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র চীনে কয়েক মাস ধরেই সয়াবিন তেল সূর্যমুখী তেলের দাম কমতির দিকে। রফতানি চাহিদা কমায় মালয়েশিয়ায় পাম অয়েলের দরপতন ঘটেছে।
সময় চিনির গড় মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় শতাংশ বা ১০ দশমিক পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৬৬ দশমিক পয়েন্টে। ভারত, থাইল্যান্ড, ব্রাজিলে বাড়তি উৎপাদনের জের ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কম রয়েছে। একই চিত্র দেখা গেছে আমিষপণ্যের দামেও। গত জুলাইয়ে এসব পণ্যের গড় সূচকমান দাঁড়িয়েছে ১৭০ দশমিক পয়েন্ট, যা আগের মাসের তুলনায় দশমিক পয়েন্ট বা দশমিক শতাংশ কম।
দেশের অবস্থা : জুলাইয়ে বেড়েছে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার
এই মাসে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে দশমিক ১৮ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল দশমিক ৯৮ শতাংশ। এক্ষেত্রে শহরাঞ্চল গ্রামীণ উভয় ক্ষেত্রে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে তথ্য জানা গেছে।
বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাইয়ে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি বাড়লে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার কমেছে। এই সময়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার কমে দাঁড়িয়েছে দশমিক ৫১ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল দশমিক ৫৪ শতাংশ। সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমার কারণ খাদ্য বর্হিভূত খাতের প্রভাব। এই মাসে খাদ্য বর্হিভূত খাতে কমে এসেছে মূল্যস্ফীতির হার।
বিবিএস বলছে, জুলাইয়ে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে দশমিক ৪৯ শতাংশে, যা তা আগের মাসে ছিল দশমিক ৮৭ শতাংশ।
বিবিএসে তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গ্রামে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে দশমিক ৩৪ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল দশমিক ২৫ শতাংশ। তবে কমেছে খাদ্য বহির্ভূত খাতে। খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে দশমিক ৪৯ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল দশমিক ৭৬ শতাংশ। এজন্য সার্বিক মূল্যস্ফীতি পয়েন্ট টু পয়েন্ট হারে কমে দাঁড়িয়েছে দশমিক শূন্য শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল দশমিক শূন্য শতাংশ।
একইসঙ্গে শহরাঞ্চলেও খাদ্য পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে দশমিক শূন্য শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল দশমিক ৬৩ শতাংশ। তবে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে দশমিক ৫০ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল দশমিক শূন্য শতাংশ। এজন্য সার্বিক মূল্যস্ফীতি পয়েন্ট টু পয়েন্ট হারে কমে দাঁড়িয়েছে দশমিক ৩৭ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল দশমিক ৩৯ শতাংশ।
[সূত্র : পত্রপত্রিকা] আবদুল মুহিদ

Share