নীড়পাতা » সম্পাদকীয় » রয়েল বেঙ্গল টাইগারদের দাপটে প্রত্যাবর্তন

রয়েল বেঙ্গল টাইগারদের দাপটে প্রত্যাবর্তন

বিশ্বক্রিকেটে যে বাংলাদেশ এখন এক দুর্নিবার শক্তি, তা টিটোয়েন্টি সিরিজে ফের প্রমাণিত হলো। ওয়ানডে সিরিজের পর টিটোয়েন্টি সিরিজও জিতে নিলো বাংলাদেশ। ক্রিকেটের ক্ষুদ্র এই সংস্করণে টাইগাররা এবার দাপটের সঙ্গেই উড়িয়ে দিলো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ক্যারিবিয়ানদের। এর ফলে ছয় বছর পর বিদেশের মাটিতে টিটোয়েন্টি সিরিজ জয়ের স্বাদ পেলাম আমরা। টাইগারদের ঐতিহাসিক সাফল্যগাথা ক্রিকেট ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, সন্দেহ নেই। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে সিরিজ জয়ের এই কৃতিত্বের জন্যে সাকিব আল হাসান বাহিনীকে আমাদের প্রাণঢালা অভিনন্দন।
তিন ম্যাচের টিটোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে হার মানলেও টাইগাররা জয় ছিনিয়ে আনতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হয়। তারা দ্বিতীয় ম্যাচে এমনভাবে ঘুরে দাঁড়ায় যে, প্রতিপক্ষ তা ভাবনায়ও আনতে পারেনি। দ্বিতীয় ম্যাচে দেখা গেল বদলে যাওয়া বাংলাদেশকে। তামিমসাকিবদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বদলে যায় ক্রিকেটবোদ্ধাদের যতোসব হিসাবনিকাষ। তামিম ইকবাল সাকিব আল হাসানের দায়িত্বশীল ব্যাটিং বোলারদের সমীহ জাগানিয়া বোলিং বাংলাদেশকে ১২ রানের জয় এনে দেয়। এই জয়ের মধ্য দিয়ে সবাইকে বিষ্মিত করে সিরিজে সমতা নিয়ে আসে টাইগাররা। আর জোর প্রস্তুতি নেয় তৃতীয় অর্থাৎ শেষ ম্যাচটিতে দাপটের সাথে খেলে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন পূরণের। টাইগারদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়নি। শেষ হাসি হেসেছে বাংলাদেশ।
সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের শুরুটাই ছিল দাপুটে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মাটে টাইগারদের দাপট ছিল লক্ষণীয়। পুরো দলই এক ছন্দে গর্জে উঠেছে শেষ দুই ম্যাচে। দ্বিতীয় ম্যাচে তামিমসাকিবের ব্যাট ঝলসে উঠলেও তৃতীয় ম্যাচে জ্বলে উঠেছে লিটন দাসের ব্যাট। বোলাররা দুই ম্যাচেই ছিলেন সমান ছন্দে। শেষ ম্যাচে ক্যারিয়ানদের ১৮৫ রানের লক্ষ্য দেয় সফরকারী বাংলাদেশ। জবাবে ১৭ ওভার বলে উইকেট হারিয়ে ১৩৫ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা। পরে ডাকওয়ার্থলুইস আইনে ১৯ রানের জয় পায় বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ সিরিজের দুইটি ম্যাচে জয় নিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নেয় টাইগাররা। ৩২ বলে ৬১ রানের নান্দনিক এক ইনিংস খেলে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন লিটন দাস। অন্যদিকে পুরো সিরিজে ব্যাটে বলে অনন্য পারফরমেন্সের জন্য ম্যাচ অফ দ্যা সিরিজ হয়েছেন সাকিব আল হাসান। এর আগে একদিনের সিরিজেও জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল টাইগাররা। বাংলাদেশের এটি দ্বিতীয় দ্বিপাক্ষিক টিটোয়েন্টি সিরিজ জয়। আগের সিরিজ জয়টি ছিল ২০১২ খ্রিস্টাব্দে আয়ারল্যান্ডে।
টিটোয়েন্টি সিরিজের এই জয় একদিকে টাইগারদের আত্মবিশ্বাস সুদৃঢ় করেছে। স্পষ্ট করে দিয়েছে, দৃঢ় মনোবল এবং ত্রুটিহীন আন্তরিকতাপূর্ণ চেষ্টা থাকলে নিশ্চিত পরাজয়কেও জয়ে রূপান্তর করা যায়। যদি নিজেদের শক্তিসামর্থ্যকে সুনিপুণভাবে ব্যবহার করা যায় তাহলে আমরা যেকোনো দলকেই হারাতে পারব। অন্যদিকে বাংলাদেশ যে আগামির ক্রিকেটবিশ্ব শাসন করতে প্রস্তুত, এই জয় সে বার্তাটিও ছড়িয়ে দিয়েছে ক্রিকেটমোদী এবং ক্রিকেটবিশ্বের নিয়ন্ত্রকদের কাছে। সংগতকারণে এই জয়ের তাৎপর্য সীমাহীণ। তবে এই জয়ের আনন্দে আত্মহারা না হয়ে পরবর্তী টেস্ট ম্যাচে যাতে বিজয়ের ধারা অব্যাহত রাখা যায়, সেই চেষ্টা থাকতে হবে

Share