নিজস্ব সংবাদদাতা, পটিয়া

পটিয়ার মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগ নেতা বাহাদুর হত্যা মামলার আসামি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা আবদুল মান্নান প্রকাশ মান্নাকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গতকাল রবিবার ভোর রাতে কালামিয়া বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে উপজেলার কোলাগাও ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের জেবল হোসেনের পুত্র।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৯ ফ্রেবুয়ারি রাত ১২ টায় উপজেলার কোলাগাঁও এলাকার মেরিন ডকইয়ার্ড হতে প্রতিদিনের ন্যায় চাকুরিশেষে বাড়ি যাওয়ার পথে কোলাগাঁও মাহাবুব সওদাগরের দোকানের নিকটবর্তী রাস্তায় পৌঁছুলে এলকার আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ আবদুল মান্নান প্রকাশ মান্নার নেতৃত্বে মামলার আসামিরা অস্ত্রশস্ত্র, রড, লাঠি-সোটা, কিরিচ ও ধারালো ছোরা দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহতবস্থায় মো. বাহাদুরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত দেড়টার সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষাশেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন উক্ত ঘটনায় মৃতের ছোট ভাই মো. মোরশেদ বাদী হয়ে আবদুল মান্নান প্রকাশ মান্না ও তার ভাইসহ ৬ জনকে আসামি করে পটিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পটিয়া থানা পুলিশ দীর্ঘদিন তদন্ত করে মান্নানসহ অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম না হওয়ায় এবং মামলাটি পিবিআই-এর শিডিউলভুক্ত মামলা বিধায় গতবছরের ১৭ ডিসেম্বর মামলাটি পরবর্তী তদন্তের জন চট্টগ্রাম জেলা পিবিআই অধিগ্রহণ করে।
পিবিআই তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা মামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী আব্দুল মান্নান প্রকাশ মান্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মান্না এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কোলাগাঁও এলাকা ও তার আশেপাশে এলাকায় অবস্থিত শিল্প কারখানা, মাছ ধরার নৌকার মাঝি ও এলাকার অধিবাসীদের নিকট থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়, জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। তার দলের অপরাপর সদস্যদের গ্রেপ্তার ও তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত আছে।’ উল্লেখ্য, নিহত বাহাদুর উপজেলার কোলাগাও ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগের সভাপতি।

Share