নীড়পাতা » শেষের পাতা » মারমাদের জলকেলিতে বর্ণিল পুরো বান্দরবান

মারমাদের জলকেলিতে বর্ণিল পুরো বান্দরবান

নিজস্ব সংবাদদাতা হ বান্দরবান

বর্ষবরণ সাংগ্রাই’র জলকেলি উৎসবে মেতেছে বান্দরবানের মারমা সম্প্রদায়। এটি এখন শুধু মারমাদেরই না এই উৎসব এখন সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। পুরো শহরজুড়ে চলছে পানি খেলা। শিশু থেকে শুরু করে তরণ তরুণী এমনকি বয়স্করাও একে অপরের গায়ে পানি ঢেলে নতুন বছরকে বরণ করে নিচ্ছে। উৎসবে যোগ দিয়েছে দেশি বিদেশি পর্যটক। আনন্দ উদ্দীপনা আর সাংস্তৃতিক বৈচিত্রে বর্ণিল হয়ে উঠেছে বান্দরবান শহর।
সাংগ্রাই উপলক্ষে শহরের রাজবাড়ি মাঠে একদিকে চলছে তরুণ তরুণীদের জলকেলি উৎসব আর অন্যদিকে মঞ্চে চলছে সাংগ্রাই’র ঐাতিহ্যবাহী গান “সাংগ্রাইয়ে মা ঞি ঞি ঞায়া রিকযাই গে পা মে“ শহরের রাজার মাঠে রবিবার বিকেলে যখন জলকেলি উৎসব শুরু হয় তখন সবার মুখে মুখে ফিরছিল মারমা গানের এই সুরের মূর্ছনা। এর বাংলা অর্থ “এসো আমরা সবাই মিলে সাংগ্রাই এর মৈত্রী পানি বর্ষণে যাই”। মারমা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ সাংগ্রাই উৎসবের অন্যতম আয়োজন জলকেলি বা পানি খেলা শুরু হয়েছে আজ থেকে। উৎসব উপলক্ষে রাজার মাঠে ছিল বিশাল আয়োজন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর দল বেঁধে পানি খেলা প্রতিযোগিতা। নেচে গেয়ে আনন্দ উৎসবে নানা রংয়ের পোশাক পরে সাংগ্রাই পালন করে মারমা সম্প্রদায়। উৎসবে শুধু মারমারাই নয় নানা সম্প্রদায়ের লোকজনও অংশ নেয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য জায়গা বান্দরবান। প্রতিটি উৎসবেই নানা সম্প্রদায়ের লোকজন একত্রিতভাবে অংশ নিয়ে উৎসব উদযাপন করে। এবারও সাংগ্রাই উৎসবে এই সম্প্রীতির কোন কমতি ছিলনা। পাহাড়ি বাঙালি সবাই একসাথে মেতে উঠে পানি খেলায়। বিকেলে পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি অতিথিদের নিয়ে সাংগ্রাই এর জলকেলি উৎসবের সূচনা করেন। এ সময় অনুষ্ঠানে জেলা দায়রা জজ হ্লামং, জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন, পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদারসহ অন্যঅন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে রাজার মাঠের মৈত্রী পানিবর্ষণ মঞ্চে মার্মা তরুণ তরুণীরা মেতে উঠে জলকেলি উৎসবে। বিভিন্ন পাড়ার তরুণ তরুণীরা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। নানা রঙে নানা সাজে সেজে তরুণীরা মেতে উঠে উৎসবে। মারমাদের বিশ্বাস স্বচ্ছ পানির ধারা ধুয়ে মুছে দিবে পুরনো বছরের যত দুঃখ গ্লানি বেদনা। আর বরণ করে নেয়া হবে নতুন বছরকে। এই বিশ্বসেই একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে দেয়া হয় বর্ষবরণে। শনিবার সকাল থেকেই ছিল উৎসবের নানা আয়োজন। বৌদ্ধ মন্দিরে ভিক্ষুদের জন্য নানা প্রকারের উৎকৃষ্ট খাবার (ছোয়াইং) উৎসর্গ করা হয়। এর আগে উজানী পাড়া সাংঙ্গু নদীর ঘাটে বৌদ্ধ মূর্তি ¯œান উৎসবের আয়োজন করা হয়। চন্দনের পানিতে বৌদ্ধ মূর্তি ধুয়ে সেই পবিত্র পানি পান করে ধর্মপ্রাণ নর নারীরা। রাতে পাড়ায় পাড়ায় চলে পিঠা তৈরির আয়োজন।

Share