নীড়পাতা » শেষের পাতা » রাইখালীতে আগুনে ছাই ৫৩ ঘর

রাইখালীতে আগুনে ছাই ৫৩ ঘর

নিজস্ব সংবাদদাতা হ রাঙ্গুনিয়া

রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলাধীন রাইখালী ইউনিয়নের দুর্গম নারাণগিরি বড়পাড়া এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকা-ে ৫৩টি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গতকাল (রোববার) বিকেল চারটার এই অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে মাতোয়ারা উপজাতীয় মারমা পল্লীটিতে কয়েক’ শ মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। ফায়ার সার্ভিসের টিম যাবার মতো প্রয়োজনীয় সড়ক না থাকা ও এলাকায় পর্যাপ্ত পানির অভাবে পাহাড়ি পল্লীটিতে আগুন নেভাতে পারেনি স্থানীয়রা। সব কিছু হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে মারমা পল্লীটি।
কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তারিকুল আলম ভয়াবহ অগ্নিকা-ে ৫৩টি বসতঘর ভস্মীভূত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। এতে আনুমানিক ১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
অগ্নিকা-ে কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে কাপ্তাই উপজেলা চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন জানান, বিকেল চারটায় আগুনের সূত্রপাত হলেও কার ঘর থেকে আগুল লেগেছে সেটি কেউ বলতে পারছে না। আগুন মুহূর্তের মধ্যেই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। অন্তত দুই ঘণ্টাব্যাপী আগুনের তা-বে ৫৩টি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় সেখানে সময়মতো ফায়ার সার্ভিস পৌঁছাতে পারেনি বলে তিনি জানান। এদিকে স্থানীয় যুবক মাসাংউ মারমা অভিযোগ করে জানিয়েছেন, অগ্নিকা-ের পর থেকে কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষকে বেশ কয়েকবার ফোন দিলেও তারা কেউ ফোন রিসিভ করেনি।
কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারিকুল আলম নারানগিরি বড়পাড়ায় আগুন লাগার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলটি অত্যন্ত দুর্গম এলাকায়। রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক এ. কে. এম মামুনুর রশীদের নির্দেশে আজ (সোমবার) ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকে ২০ কেজি চাউল এবং আপাতত নগদ এক হাজার টাকা করে সহযোগিতা প্রদান করা হবে। পরবর্তীতে অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও দেয়া হবে। সেনাবাহিনীর কাপ্তাই জোনের একটি টহল দল গতকাল (রবিবার) রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছেন বলে রাঙ্গামাটি রিজিয়নের জি-টু আই মেজর তানভির জানিয়েছেন। এদিকে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা না গেলেও এক কোটি টাকার সম্পদ পুড়ে গেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাস্থলের আশেপাশে আগুন নেভানোর কোন ব্যবস্থা না থাকায় মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে নিজেদের ঘরবাড়ি পুড়ে যাবার দৃশ্য করুণ চোখে দেখা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেননি বলে জানা গেছে। আগুনের তীব্রতা এতটাই প্রকট ছিল যে কোন সম্পদই রক্ষা করতে পারেননি ক্ষতিগ্রস্তরা। তাছাড়া বসতবাড়িগুলো লাগোয়া থাকায় আগুন দ্রুত এক ঘর থেকে আরেক ঘরে ছড়িয়ে পড়ে বলে স্থানীয় যুবক উখ্যাই মারমা মোবাইলে জানিয়েছেন।

Share