স্পোর্টস ডেস্ক

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যাওয়ার আগে বিসিএল (চার দিনের ম্যাচ) প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেই টেস্টের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটাররা। প্রতিটি ম্যাচেই টেস্ট খেলার মানসিকতা নিয়েই খেলার চেষ্টা করবেন মুমিনুল হক সৌরভ। গতকাল রোববার মিরপুরে লম্বা সময় ব্যাটিং অনুশীলনের পর সংবাদমাধ্যমকে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে আবারও ক্রিকেটে মনোযোগী হয়েছেন মুমিনুল। আগামীকাল মঙ্গলবার শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বিসিএল খেলতে নামবেন তিনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে তো সব সময় ইচ্ছে থাকে কোনো আসরে বড় বড় স্কোর করার। অনেক বেশি রান করার ইচ্ছে আমারও আছে। সেই চেষ্টাও করবো। তবে সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, দল হিসেবে আমাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার খুব ভালো সম্ভাবনা আছে। দেখা যাক কী হয়।’ আপনার ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে ফেরা নিয়ে কি ভাবছেন এমন প্রশ্নে, ‘এ বিষয়ে অনেক কথা হয়েছে। ওয়ানডেতে আমার খেলতেই হবে সেভাবে চিন্তা করি না। টেস্টে যদি খুব ভালো ও ব্যতিক্রমী পারফর্ম করি, তাহলে এমনিতেই ওয়ানডেতে সুযোগ পাবো।’ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের আগে বিসিএলের দুই ম্যাচ নিয়ে তিনি বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজে যাওয়ার আগে এটাই হয়তো শেষ চার দিনের ম্যাচ। এরপর খেললেও খেলতে পারি, জানি না। ওই মানসিকতা নিয়েই খেলার চেষ্টা করবো, যেভাবে টেস্ট খেলি।’ ওয়েস্ট ইন্ডিজের কন্ডিশন তো কঠিন, সেখানে উইকেট বাউন্সি হয়, অনুশীলনে সেই বিষয়টা কি মাথায় রাখছেন কিনা জানতে চাইলে মুমিনুল বলেন, ‘আপাতত বিসিএল নিয়েই ভাবছি। বিসিএল শেষ হলে হয়তো ওইটা নিয়ে চিন্তা করবো। আর কন্ডিশনের ব্যাপারটা হলো আপনি যদি কঠিন মনে করেন, তাহলে কঠিন। আমার কাছে মনে হয়, আমরা আমাদের সেরা প্রস্তুতিটা নিয়ে যাব, ইনশাল্লাহ। আশা করি ভালো কিছু হবে।’ বিসিএলের প্রথম তিন রাউন্ডে আপনি সর্বোচ্চ রান করেছেন। পরের দুইটা রাউন্ডে কি আমার সর্বোচ্চ রানের চিন্তাটা মাথায় থাকবেন এমন প্রশ্নে বলেন, ‘না, এই জিনিসটা আমার মাথায় থাকবে না। আপনি যখনই সর্বোচ্চ রান করার চেষ্টা করবেন, চিন্তা করবেন, তার মানে হলো আপনি নিজের জন্য চিন্তা করতেছেন। এভাবে আগে চিন্তা করতাম, সেটা ভুল ছিলো, এখন বুঝি। সুতরাং আমি ওভাবে চিন্তা করে খেলবো না। দলকে চ্যাম্পিয়ন করানোর চেষ্টা করবো। একটা দল যখন চ্যাম্পিয়ন হবে, তখন দেখবেন যে তালিকায় তাদের ব্যাটসম্যানরাই উপরে থাকবে।’ জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য বিসিএল খেলা কতোটা গুরুত্বপূর্ণ। মুমিনুল বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় যে, জাতীয় লীগ বলেন, বিসিএল বা যাই বলেন, বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য সবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার তো শুধু টেস্ট খেলা হয়, সুতরাং আমি খুব মন দিয়ে খেলি।’
বিসিএলের তৃতীয় রাউন্ড শেষে রানের তালিকায় শীর্ষে ছিলেন মুমিনুল হক। ফিরে দেখলেন, এক রাউন্ডেই তাকে ছাড়িয়ে অনেকটা এগিয়ে গেছেন তুষার ইমরান। তাতে খুব একটা অবাক নন মুমিনুল। বড় দৈর্ঘ্যরে ম্যাচে তুষার কেন এতটা সফল, সেই কারণ যে খুব ভালো করেই জানেন তিনি! বিসিএলের প্রথম তিন রাউন্ডে দুই সেঞ্চুরিতে ৩৮২ রান করেছিলেন মুমিনুল। ছিল ২৫৮ রানের ইনিংস। প্রথম তিন রাউন্ডে দুটি সেঞ্চুরি করেছিলেন তুষারও। তবে ছিলেন মুমিনুলের পেছনে। চতুর্থ রাউন্ডে তুষার এক ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরিতে ছাড়িয়ে গেছেন সবাইকে। চার ম্যাচে তার রান এখন ১১১.৬০ গড়ে ৫৫৮। বিসিএলের পরের দুটি রাউন্ডে খেলবেন মুমিনুল।
সুযোগ থাকবে তুষারকে ছাড়িয়ে যাওয়ার। তবে ব্যক্তিগত সেই অর্জনে দৃষ্টি নেই তার। উত্তরাঞ্চলের চেয়ে ২ পয়েন্ট পেছনে থেকে মুমিনুলের দল পূর্বাঞ্চল এখন পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে। তার ভাবনা জুড়ে এখন শুধু দলের শিরোপা জয়।

Share