মফস্বল ডেস্ক

আনন্দ-উৎসবে বাংলা বর্ষবিদায় ও বরণে উপজেলায় নানা আয়োজনে বক্তারা বলেছেন, আবহমান বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতি আবর্তিত হয় পহেলা বৈশাখকে ঘিরে।
বর্ষবরণ উদযাপন পরিষদ পটিয়া : নিজস্ব সংবাদদাতা জানিয়েছেন, পরিষদের উদ্যোগে শুক্রবার সন্ধ্যায় মনসা বাদামতলার শিরিষতলায় বর্ষবিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পটিয়ার সংসদ সদস্য আলহাজ সামশুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, আমাদের নতুন প্রজন্মকে লেখাপড়ার পাশাপাশি সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চায় এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। অন্যথায় তারা জঙ্গিবাদের অপশক্তির কবলে পড়বে। উদযাপন পরিষদের চেয়ারম্যান দেবব্রত দাশের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মহাসচিব এম এজাজ চৌধুরী ও সমন্বয়ক এডভোকেট হোসাইন রানা সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন পটিয়া উপজেলা আ.লীগের সভাপতি আ ক ম সামশুজ্জামান চৌধুরী, প্রবীণ আ.লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদ, পৌর আ.লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর আলম, উদযাপন পরিষদের কো. চেয়ারম্যান আবদুল খালেক, আজিমুল হক, আবু ছালেহ চৌধুরী, আলমগীর খালেদ, ঋষি বিশ্বাস, অসিত বড়–য়া, কাঞ্চন মজুমদার, বিশ্বজিত দাশ। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন মহাসচিব এম এজাজ চৌধুরী এবং সমন্বয়ক এড. হোসাইন রানা। বর্ষবিদায় অনুষ্ঠানে জমজমাট ষাঁড়ের লড়াই অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষক পরিবার শিল্পী গোষ্ঠী আনন্দধারা শিল্পী গোষ্ঠী ও বিভিন্ন শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
সাতকানিয়া বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার এন্ড কলেজ : নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে সকাল থেকে দিনব্যাপী বর্ষবরণ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে বিজিটিসিএন্ডসি’র মাঠে আয়োজিত বৈশাখী মেলার শুভ উদ্বোধন করেন বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার এন্ড কলেজের কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসেন, এনডিসি, পিএসসি। উদ্বোধনী বক্তব্যে কমান্ড্যান্ট বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটি অর্থাৎ পহেলা বৈশাখ বা বর্ষবরণ আমাদের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজিটিসিএন্ডসি’র ডেপুটি কমান্ড্যান্ট কর্নেল শাম্মি ফিরোজ, পিএসসি, অতিরিক্ত পরিচালক সমন্বয় মেজর মো. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, সাতকানিয়া প্রেসক্লাব সভাপতি সৈয়দ মাহফুজ-উননবী খোকন, সাধারণ সম্পাদক মো. জাহেদ হোসাইন এবং সামরিক, আধা সামরিক, বিজিটিসিএন্ডসি পরিচালিত রাইফেলস পাবলিক স্কুল, বর্ডার গার্ড ইংলিশ স্কুল, বর্ডার গার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ অফিসারবৃন্দ। মেলায় বিজিটিসিএন্ডসি’র বিভিন্ন উইং এবং ব্যাটালিয়নের ১১টি স্টলে পান্তা ইলিশ, মাটির তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী, হস্তশিল্প, বাঁশ ও বেতের তৈরি দ্রব্যাদি এবং হরেক রকমের পিঠা বিক্রয় করা হয়। মেলায় দেশীয় সংস্কৃতির পুতুল নাচ, নাগরদোলাসহ বিভিন্ন প্রকার খেলার আয়োজনও করা হয়। বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার এন্ড কলেজের শাহীন প্রশিক্ষণ মাঠে মুক্ত মঞ্চে বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার এন্ড কলেজের প্রশিক্ষণার্থী ও বিজিটিসিএন্ডসি’র পরিচালিত স্কুলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দেশাত্মবোধক গান, চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান, লালনগীতি, পল্লীগীতি, ভাওয়াইয়া গানসহ বিভিন্ন গান পরিবেশন করা হয়।
চন্দনাইশ উপজেলা প্রশাসন : নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, প্রশাসনের উদ্যোগে শনিবার সকালে বর্ণাঢ্য র‌্যালি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ফাতেমা জিন্নাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পান্তা-ভাতের আয়োজন করা হয়। পরে উপজেলা অডিটরিয়ামে শিল্পী প্রীতি ও বদর উদ্দীনের পরিবেশনায় ঘন্টাকালব্যাপী চলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ সকল অনুষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফুর রহমান।
উত্তর গুজরা কেরাম বৈদ্যের বাড়ি সার্বজনীন শ্মশান সংস্কার কমিটি : রাউজানের নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, কমিটির উদ্যোগে বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ উপলক্ষে শনিবার আলোচনা সভা, কবি গান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ এহেছানুল হায়দার চৌধুরী। উত্তর গুজরা বৌদ্ধ বিবেকারাম মন্দির মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ছিলেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সহ সভাপতি ধর্মসেনাপতি রাজগুরু অভয়ানন্দ মহাথের। সংগঠনের সভাপতি প্রকৌশলী ঝুলেন বড়–য়ার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন পূর্ব গুজরা ইউপি চেয়ারম্যান এম. আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, প্যানেল চেয়ারম্যান রুবিনা ইয়াছমিন রুজি, প্যানেল চেয়ারম্যান দিদারুল আলম, আলহাজ মো. বশর, সুজিত বড়–য়া। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রসেন বড়–য়া মেম্বার। ডা. নয়ন কান্তি বড়–য়া সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সুনপ তালুকদার, দীলিপ বড়–য়া, তাপস বড়য়া, স্বরূপ তালুকদার, অমর বড়–য়া সফু প্রমুখ। এতে কবিগান পরিবেশন করেন কবিয়াল সঞ্জয় গান্ধী ও কবিয়াল শিমুল সরকার।
কদলপুর স্কুল এন্ড কলেজ : প্রতিষ্ঠানে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ছিল পিঠা উৎসব, গান, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি, অভিনয়, আলোচনা সভা। স্কুল ও কলেজ শাখার শিক্ষার্থীদের আয়োজনে গোলাপ, ডালিয়া, পদ্মা, শাপলা, হাসনাহেনা, মেঘনা, যমুনা ও জবা নামের ৯টি পিঠার স্টলে হাতে বানানো হরেক রকমের পিঠার সমাহার সবার প্রশংসা কুড়ায়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কদলপুর স্কুল এন্ড কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ও সোলানী ব্যাংক লিমিটেড ঢাকা অঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার নিজাম উদ্দীন আহম্মদ চৌধুরী। অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক বাদল কিশোর দাশ, সুজিত বরণ সরকার, আবদুল শুক্কুর প্রমুখ।
পশ্চিম গুজরা বৈদ্যপাড়া কালচারাল পার্ক : পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে আনন্দ র‌্যালি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সঙ্গীতানুষ্ঠান, পিঠা উৎসব, ফল উৎসব, পুরস্কার বিতরণ গত শনিবার বিকেলে প্রতিষ্ঠানের মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধক ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেমন মাতৃসদন হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. প্রীতি বড়–য়া। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পশ্চিম গুজরা ইউপি’র প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল মালেক মেম্বার। কালচারাল পার্কের প্রতিষ্ঠাতা নান্টু বড়–য়ার সভাপতিত্বে অতিথি ছিলেন বেলী বড়–য়া, শিক্ষিকা রতœা দে, শান্ত বড়–য়া, বন্ধনা পালিত, শিক্ষিকা ক্ষমা মল্লিক, মো. মফিজুল হক, স্বপন বড়–য়া, তরুণ বড়–য়া, জয় বড়–য়া মানিক, রবিন বড়–য়া প্রমুখ। পরে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।
লক্ষ্মীছড়ি : নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় নানা রঙের বাহারী পোষাক ও সাজে, বিভিন্ন বয়সী মানুষের উৎসবমুখর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে চলছে বৈসাবি উদযাপন। প্রতিবছরের ন্যায় এবারো চাকমারা ‘বিজু’, মারমারা ‘সাংগ্রাই’, ত্রিপুরারা ‘বৈসুক’ হিসেবে পালন করছে। চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে মারমাদের ঐতিহ্যবাহী প্রধান উৎসব ‘সাংগ্রাই’ ১৩ এপ্রিল লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার শিলাছড়ি এলাকা থেকে বিশাল এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করে। বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী জিনিস হাতে নিয়ে সেøাগানে, নেচে গেয়ে র‌্যালিটি বাজার, উপজেলা সদর ও বেলতলী পাড়ায় গিয়ে শেষ করে। র‌্যালিতে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ সদস্য রে¤্রাচাই চৌধুরী, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অংগ্য প্রু মারমা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বেবি রানী বসুসহ মারমা সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। এর আগে উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে চাকমা সম্প্রদায়ের লোকজন বিজু উৎসবকে স্বাগত জানিয়ে র‌্যালি বের করে। লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ ইকবাল র‌্যালিতে অংশ নেন।
থানচি : নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, শুক্রবার বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ৫ দিনব্যাপী মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব ‘সাংগ্রাই পোয়ে’। পাশাপাশি চাকমা, তংচংঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, খেয়াং, চাক এবং মুরং সম্প্রদায় বিজু, বৈসু ও চাংক্রান উৎসব পালন করছে। ‘সাংগ্রাই-মা ঞি-ঞি ঞা-ঞা রি ক্যাজাই কা-পা-মে’ মারমা গানের মন-মাতানো সুরে পাহাড়ের প্রতিটি পল্লীতে চলছে নানাবয়সী নারী-পুরুষের আনন্দ ও উচ্ছ্বাস। পাহাড়ে বসবাসরত ১১টি নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে মারমা, মুরং, চাকমা, ত্রিপুরা, তংচঙ্গ্যা পৃথকভাবে নিজ সম্প্রদায়ের কৃষ্টি ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে বর্ষবরণ উৎসবটি উদযাপন করে আসছে আদিকাল থেকে। মারমা সম্প্রদায়ের বর্ষপঞ্জী হিসেবে ১৩৭৯ কে বিদায় জানিয়ে ১৩৮০কে বরণ করে নিচ্ছেন। মৈত্রীময় পানি বর্ষণের মাধ্যমে অতীতের সকল দুঃখ, জরা, গ্লানী, পাপ-পঙ্কিলতা ধুয়ে মুছে সুখ সমৃদ্ধির প্রত্যাশা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সম্প্রীতির আগমনী বার্তা নিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নিচ্ছেন মারমা সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ। ৫ দিনের মহা আয়োজনে রয়েছে শোভাযাত্রা, ম্যারাথন, বয়স্ক পূজা, বৌদ্ধমূর্তি স্নান, হাজার বাতি প্রজ্জ্বলন, তৈলাক্ত বাঁশে আরোহন, রাতব্যাপী পিঠা তৈরির উৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ফানুস উড়ানো এবং সর্বশেষে মৈত্রীময় পানিবর্ষণ অনুষ্ঠান।
শহীদ দীপক সংঘ : শহীদ দীপক সংঘের আয়োজন ও ব্যবস্থাপনায় সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে বৈশাখী মঙ্গল শোভাযাত্রা, পতাকা উত্তোলন এবং শাক্যমুনি বিহারে সমেবেত প্রার্থনা করা হয়। দেশের সকলের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনায় সহযোগিতা করেন বিহারের অধ্যক্ষ এম. ধর্মবোধি ভিক্ষু। প্রার্থনাশেষে সংগঠনের আয়োজনে বৈশাখী র‌্যালি, সংগীতনৃত্য, কবিতা আবৃত্তি, কৌতুক, যেমন খুশি তেমন সাজো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বৃত্তি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ কমিশনার কাজল কান্তি চৌধুরী, ভবানন্দ কল্যান ট্রাস্ট সভাপতি রণজিৎ কুমার বড়–য়া, নীলু কান্তি বড়–য়া, কানাই লাল বড়–য়া, বাবুল চন্দ্র বড়–য়া, বাবুল কুমার চৌধুরী, ডা. বরুণ কুমার আচার্য বলাই প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শহীদ দীপক সংঘের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা বিপুল কান্তি বড়–য়া।

Share