নিজস্ব সংবাদদাতা, সীতাকু-

সীতাকু-ের টমেটো চাষীরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। ১৩ এপ্রিল পাইকারি বাজারে সর্বনি¤œ দুই টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে টমেটোর কেজি। এতে শ্রমিকের মজুরি, বাজারে আনার খরচ ও ইজারাদারের চার্জ ইত্যাদির খরচও উঠানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ফলে চাষীরা হতাশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সবজি চাষের ক্ষেত্রে সীতাকু-ে শিমের পরেই টমেটোর অবস্থান। উপজেলার ১নং সৈয়দপুর ইউনিয়ন থেকে ১০নং সলিমপুর পর্যন্ত এলাকায় প্রায় ১৬ হাজার চাষী টমেটো চাষ করেন। প্রতি মৌসুমে চাষ হয় দুই বার। একবার আগষ্ট-সেপ্টেম্বরে চারা রোপন করে নভেম্বরের শেষ বা ডিসেম্বরে বিক্রি শুরু হয়। আবার জানুয়ারী চারা রোপন করে মার্চ-এপ্রিল-মে মাস পর্যন্ত বিক্রি হয় দ্বিতীয় মৌসুম বা গ্রীষ্মকালীন টমেটো। দীর্ঘদিন ধরে এইভাবে চলছে টমেটোর চাষীদের দিনকাল। ব্যতিক্রম হয়নি এবারও। কিন্তু এবার দ্বিতীয় মৌসুমে এসে ক্ষেতের টমেটো বিক্রি করতে গিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন চাষীরা। কারণ, বাজারে ন্যায্য দাম মিলছে না। চাষীরা জানান, ক্ষেতে এখনো প্রচুর টমেটো রয়ে গেছে। কিন্তু বিক্রির জন্য বাজারে এনে নাম মাত্র মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। মাঝে মাঝে এমন দামে বিক্রি হচ্ছে যে ক্ষেত থেকে বাজারে আনার খরচও উঠছে না।
শুক্রবার সরেজমিনে সীতাকু-ের অন্যতম সবজি বাজার সীতাকু- মোহন্তহাট ঘুরে চাষীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এদিন মৌসুমের সর্বনি¤œ মূল্যে বিক্রি হয়েছে টমেটো। টমেটো বিক্রি করতে আসা এক টমেটো চাষী উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের বগাচতরের বাসিন্দা মো. ইলিয়াছ হোসেন জানান, তিনি দুই ঝাঁকায় প্রায় ৯০ কেজি টমেটো বিক্রি করতে এনেছিলেন। এদিন বাজারে টমেটোর ক্রেতা ছিলো কম। কিন্তু প্রচুর টমেটো বিক্রির জন্য আনা হয়। ফলে এক পর্যায়ে দুই ঝাঁকা টমেটো মাত্র ১৮০ টাকায় বিক্রি করেছেন তিনি। যার অর্থ প্রতিকেজির দাম পড়েছে মাত্র ২ টাকা। অথচ একজন শ্রমিক দিয়ে তিনি টমেটো তুলেছিলেন যার মজুরি দেড়’শ টাকা। সৈয়দপুর থেকে টমেটো আনতে খরচ হয়েছে ৮০ টাকা। এছাড়া বাজারের হাঁচিল, নাস্তা খরচ প্রভৃতি মিলিয়ে আরো ৩০/৪০ টাকা খরচ। এককথায় টমেটো বিক্রি করে আরো ৯০ টাকা লোকসান হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা এমনই অসহায় যে বাজারে ন্যায্য মূল্য না পেলে টমেটো ফেরত নিয়ে যাবারও উপায় নেই। তাহলে সব টমেটো পঁচে যাবে। সীতাকু-ের টমেটো সংরক্ষণের মত কোন পরিবেশ না থাকায় এ অবস্থা হয়েছে। সংরক্ষনের ব্যবস্থা থাকলে কম দামের সময় টমেটো সংরক্ষণ করে দাম বাড়লে তা বাজারে বিক্রি করে চাষীরা লাভবান হতে পারত। তার মত হাজার হাজার টমেটো চাষী প্রতিবছর এ দুরাবস্থায় পড়ে জানিয়ে তিনি এখানে জরুরি ভিত্তিতে একটি হিমাগার স্থাপনের দাবি জানান। কৃষকদের এই দাবি বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জ্ঞান রঞ্জন নাথ বলেন, এখানে কৃষকদের জন্য একটি হিমাগার খুবই জরুরি।

Share