নীড়পাতা » সম্পাদকীয় » হায়রে বৈশাখী ভাতা!

হায়রে বৈশাখী ভাতা!

হায়রে বৈশাখী ভাতা! গত বছর তুমি ধরা দিলে না। ভাবলাম, এবার বুঝি ধরা দেবে। কিন্তু এবারও তুমি ধরা দিলে না! এত নিষ্ঠুর কেন তুমি বৈশাখী ভাতা? নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী সব শ্রেণীর সরকারি চাকরিজীবী বৈশাখী ভাতা পেয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা এ ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এ কারণে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ভীষণ ক্ষুব্ধ ও হতাশ। প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী ভাতা প্রদান করা হয়েছে। পাননি শুধু এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা, যদিও তারা সরকারি স্কেলে বেতন পান। সমাজের একটি অংশকে এভাবে অবজ্ঞা করে নতুন বাংলা নববর্ষ উদযাপন মোটেও যুক্তিসঙ্গত নয়। মনে প্রশ্ন জাগে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কি মনে-প্রাণে বাঙালি নয়? যদি মনে-প্রাণে বাঙালি হয় তাহলে একই দেশে দুই রকম নিয়ম কেন? মাননীয় অর্থমন্ত্রী গতবছর বলেছিলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বৈশাখী ভাতা পান না, এবিষয়টি আমার জানা ছিল না কিন্তু এবছর তিনি কী বলবেন? আমরা মনে করি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতার কারণে বলির পাঁঠা হয়েছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা।
সত্যিই বড় বিচিত্র ও আজব দেশ, বাংলাদেশ! বৈখাশী ভাতা ছাড়াও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক প্রণোদনা পাওয়ার কথা ছিল। সেটিও আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। শিক্ষা যদি জাতির মেরুদ- হয়, তাহলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা এত বৈষম্যের শিকার কেন?

মো. মোশতাক মেহেদী
সহকারী শিক্ষক
বুজরুক বাঁখই মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

Share